২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গী-সন্ত্রাসী মোকাবেলায় এ সরকার ব্যর্থ ॥ খালেদা জিয়া

  • সুষ্ঠু নির্বাচনে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় সরকার ব্যর্থ বলে অভিযোগ করে এ সমস্যার সমাধানে ক্ষমতা ছেড়ে নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিদেশী কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন।

উগ্রবাদ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের ওপর যে একের পর এক নৃশংস ঘটনা ঘটছে সকলে মিলে তা বন্ধ করা দরকার। কিন্ত আমরা দেখতে পাই, যারা জোর করে ক্ষমতায় আছে, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তারা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা ও সান্ত¡না দেয়ার বদলে যা ইচ্ছে কথাবার্তা বলছে। তারা শুধু ইচ্ছেমতো ব্লেম দেয়। তিনি বলেন, এখন দেশে যে ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে, যারা ক্ষমতায় আছে, নিজেদের সরকার দাবি করে, তারা যদি শক্তভাবে না ধরে, তাহলে এসব ঘটনা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।

গুলশানের জঙ্গী হামলায় ১৭ বিদেশীসহ ২০ নাগরিক হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের অবস্থা মোটেও ভাল নয়, অত্যন্ত খারাপ। প্রতিটি মানুষ আজকে ভয়ের মধ্যে, আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। গুলশানের ঘটনার পর ঢাকা শহর থমথমে হয়ে গিয়েছিল, চলাচলের যানবাহন, মানুষজন কিছুই দেখা যায়নি, ভুতুড়ে নগরীর মতো হয়েছিল। নজিরবিহীন ওই জঙ্গী হামলার পেছনে গুলশানের কূটনীতিকপাড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকার অভিযোগ করে তিনি বলেন, সেদিন ঘটনাটি ঘটল, তাতে ডিপ্লোম্যাটিক এরিয়া প্রটেকটিভ হওয়া উচিত। যে রেস্টুরেন্টে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে বিদেশীরাই যায়। আমরা সাধারণ মানুষ না জানলেও সরকার তো তা জানে। কাজেই সেই এলাকায় আরও বেশি নিরাপত্তা থাকা উচিত ছিল।

খালেদা জিয়া বলেন, এসব ঘটনা আর দেখতে চাই না। দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয়। দেশের মানুষ আইনের শাসনে বিশ্বাস করে, ন্যায়বিচার চায়, বাক স্বাধীনতা চায়, যা আজকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাই আজকের এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার। এর জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকে বা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না থাকে, তাহলে দেশে শান্তি আসতে পারে না, দেশ সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, দেশে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। সরকার আজ পর্যন্ত কোন ঘটনা ঠিকমতো হ্যান্ডেল করতে পারেনি। ঢাকা শহরসহ অন্যত্র যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে জড়িত কোন অপরাধীকে তারা ধরতে পারেনি। কোন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি। তিনি বলেন, আমরা অনেক আগেই বলেছি, এ সরকার প্রথম থেকেই ব্যর্থ। এখন ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের উচিত একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা; যাতে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে তার ব্যবস্থা করা।

গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে জঙ্গী হামলায় জিম্মিদের উদ্ধারে সরকার বিলম্বে অভিযান পরিচালনা করেছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া তার কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, ভোরে কেন অভিযান হলো? টেলিভিশনে যা দেখলাম, পুলিশ অনেক কিছু দেখাল। র‌্যাবও ছিল কিন্তু কেউই কিছু করতে পারেনি। শেষে আর্মির কমান্ডোকে এনেছে ভোরে। তারা যখন গেছে তখন তো অনেকে মরে গেছে, তার আগে সব ঘটনা শেষ হয়ে গেছে। অভিযানে এত দেরি কেন? এটা মানুষের প্রশ্ন। তিনি কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের কাছে বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলিতে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শোলাকিয়ায় যে ঘটনা ঘটেছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মর্মাহত।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, সত্যিকারের অপরাধীদের না ধরে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরা হচ্ছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের এমনভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে যে প্রকৃত অপরাধীরা অপরাধ করেই চলেছে, তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিডিআরের ঘটনা থেকে এসব ঘটনার সূত্রপাত। ৫৭ অফিসার মারা গেছে, সেটাকে ধামাচাপা দেয়া হলো। তখনই যদি ওই ঘটনাকে শক্তভাবে দমন করা যেত, তাহলে আজকে দেশে এই অবস্থা করার কেউ সাহস পেত না।

ফেসবুক-টুইটারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশে গুলশানের মতো আরও ঘটনা ঘটবে বলে খবর আসছে জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সেভাবে সরকারের প্রস্তুতি আছে কিনা এগুলো মোকাবেলা করার, তা দেখা দরকার। সরকারের বিরুদ্ধে পুলিশ দিয়ে দেশের মানুষকে নির্যাতন করার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওই বাহিনী এখন চাঁদাবাজি ও গ্রেফতার বাণিজ্যে ব্যস্ত। পুলিশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেদিন গুলশানে কেন তারা সন্ত্রাসী ঘটনা দমন করতে পারল না? পুলিশ ও র‌্যাব ছিল, কেউ কিছু করতে পারল না কেন?

এ সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল মান্নান, শাহজাহান ওমর, রুহুল আলম চৌধুরী, আবদুল কাইয়ুম, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, দলের নেতা আমানুল্লাহ আমান, গিয়াস কাদের চৌধুরী, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নিতাই রায় চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, সানাউল্লাহ মিয়া, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, শাহ আবু জাফর, এস এম ফজলুল হক, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, বিকল্প ধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। খালেদা জিয়ার ঈদ শুভেছা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দীন আহমেদ, প্রে-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সদরুল আমিন, জেডএ তাহমিদা বেগম, সুকোমল বড়ুয়া, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, রুহুল আমিন গাজী, এম আবদুল্লাহ, আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান ও জাতীয়তাবাদী ইঞ্জিনিয়ার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আ ন হ আখতার হোসেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে খালেদা জিয়া দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরে বাংলানগরে গিয়ে জিয়ার মাজার জিয়ারত ও পরে বনানী কবরস্থানে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মাজার জিয়ারত করেন।