২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাঙ্গাইলে জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের তিন নারী সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ৯ জুলাই ॥ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা থেকে গ্রেফতার হওয়া জেএমবি’র সুইসাইড স্কোয়াডের তিন নারী সদস্যকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কঠোর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে (জেএমবির) তিন নারী সদস্যকে মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ আদালতে আনে। পরে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সোমবার রাতে পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার আখেরুজ্জামান জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যার সঙ্গে জড়িত জেএমবির একটি দল টাঙ্গাইলে অবস্থান করছে এমন খবরের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানা যায়। সোমবার রাতে কালিহাতীর জোকারচর রেলগেটের পাশের একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো- রোজিনা বেগম (৩০), সাজিদা আক্তার (২২) ও জান্নাতী ওরফে জেমি (১৮)। ওসি আরও জানান, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি চাপাতি, একটি ছোরা, মোবাইল ফোন, মানুষ জবাই করার জিহাদী ভিডিওচিত্র ও বোমা তৈরির কলাকৌশল লেখা একটি খাতা উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া রোজিনা বেগমের স্বামী মোখছেদুল ইসলাম ওরফে মোজাম্মেল ওরফে হারেজ (৩৫)। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম রাঘবপুর ভূতমারা গ্রামে। সাজিদা আক্তারের স্বামী নজরুল ওরফে বাইক নজরুল ওরফে পারভেজ ওরফে হাসান (২৯)। তার বাড়ি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ছোবাহার গজপুরী গ্রামে। জান্নাতীর ওরফে জেমির স্বামী আবু সাইদ ওরফে সবুজ (২৪)। তার বাড়ি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বাগরা কুসুমদী গ্রামে। রোজিনার সঙ্গে তার দুই শিশু সন্তান এবং জান্নাতী ওরফে জেমির সঙ্গে এক শিশু সন্তান রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড আবেদনের শুনানি ঈদের ছুটির পর আদালত খুললে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।

কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক কুতুব উদ্দীন বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেফতারকৃত তিন নারী জেএমবি সদস্য ও তাঁদের স্বামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, তাঁরা জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য। তিনজনই দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গুপ্তহত্যার সঙ্গে জড়িত।