২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শোলাকিয়া ও গুলশানে হামলাকারীরা একই গ্রুপের ॥ আইজিপি

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ, ৯ জুলাই ॥ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের অদূরে ও ঢাকার গুলশানে রেস্তরাঁয় হামলাকারীরা একই গ্রুপের। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে জড়িত। হামলাকারীদের মূল টার্গেট ছিল শোলাকিয়ার জামাতের মুসল্লিদের ওপর হামলা। শনিবার দুপুরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শোলাকিয়ার মাঠে এসব কথা বলেন। এ সময় আইজিপি বলেন, আটক একজনের কাছ থেকে জানা গেছে শোলাকিয়ায় অপারেশনের সময় তারা ৫ জন ছিল এবং সঙ্গে আরও সমর্থনকারী ছিল। তাকে জিজ্ঞাসা করে আমরা তথ্য পেয়েছি এরা জেএমবি জঙ্গী সংগঠনের সদস্য। তারা শোলাকিয়া ঈদগাহে মুসল্লিদের ওপর বোমা মারার উদ্দেশ্যে এসেছিল এবং গুলশান হামলার সঙ্গে তারাই জড়িত ছিল।

হামলাকারীরা আইএসের সঙ্গে জড়িত কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, যেখানেই ঘটনা ঘটছে সেখানেই আইএস হামলা করেছে বলে দাবি করছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, সেটাও আইএস করেছে বলে দাবি করছে। কিন্তু সেদেশের সরকার আইএসের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তিনি আরও বলেন, আইএস কেন দাবি করছে সেই লিঙ্কটা এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। কোন ঘটনা ঘটলেই আইএস করেছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা কাদের মাধ্যমে করা হচ্ছে, কারা এ তথ্য দেয়, কি জন্য করে, সেই লিঙ্কটা বের করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইজিপি শহিদুল হক আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জামাত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে। ঈদের দিন সেই জামাতে যারা বোমা মেরে মানুষ হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল তারা ইসলামের শত্রু, তারা মানবতার শত্রু।

এর আগে আইজিপি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ঝর্ণা রানী ভৌমিকের বাড়ি পরিদর্শন করে তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। এ সময় জেলা প্রশাসক মোঃ আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার আক্তার জামিলসহ পুলিশ ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আইজিপি জেলা পুলিশ লাইনসে এক সুধী সমাবেশে যোগ দেন।