২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আনন্দ উৎসবে উদ্যাপিত হলো ঈদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গুলশানের আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে উৎকণ্ঠা থাকলেও ঈদ আনন্দের কোন কমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত অনেকটা নির্বিঘেœই বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পরিবার পরিজনসহ প্রিয় মানুষের সঙ্গে ঈদ উৎসবে অংশ নিয়েছে রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষ। শোলাকিয়ার বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নিশ্চিন্তে মানুষ ঈদের আনন্দে শরীক হয়েছে।

ঈদের দুদিন আগে প্রকৃতিতে আষাঢ়ের অঝোরধারা থাকলেও বৃহস্পতিবার ঈদ-উল-ফিতরের দিনে আকাশ ছিল মেঘমুক্ত। সুন্দর আবহাওয়া বিরাজ করায় ঈদের বাড়তি আনন্দ যোগ হয়েছে। সারাদেশের মতো রাজধানীবাসীর মধ্যে ঈদের আনন্দের কোন সীমা ছিল না। সকাল থেকেই সবাই ভিড় জমায় ঈদগাহ ময়দানে। রাজধানী ঢাকার প্রায় সব ঈদের জামাত সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে শেষ হয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে সবাই পরিবার পরিজন নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। নামাজ শেষে যে যার মতো ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। কেউবা প্রিয়জনদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। আবার অনেকে আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণেও যোগ দেন। এছাড়া ঈদ উৎসবের প্রধান আকর্ষণ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় পরিলক্ষিত হয়। রাজধানীর মতো সারাদেশেও এবারের ঈদের আনন্দের কোন কমতি ছিল না। রাজধানীর গুলশানের আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর দেশের প্রধান প্রধান ঈদের জামাতে নেয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ কারণে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গী হামলার আগে তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর বাইরে আর কোথাও ঈদের দিনে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দেশে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এর পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম জাতীয় সমজিদে সকাল ৭টা থেকে শুরু করে পৌনে ১১টা পর্যন্ত ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। ঘুম থেকে উঠেই মিষ্টিমুখ করে ঈদের জামাতের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন সবাই। নিকটবর্তী ঈদগাহে বেশিরভাগ মানুষকে ঈদের নামাজে শরীক হতে দেখা যায়। ঈদের নামাজে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করতে দেখা যায় ইমামদের। বিশেষ করে এবার তারা জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তারা জঙ্গীবাদের সমালোচনা করে বলেন, ইসলামের সঙ্গে জঙ্গীবাদের কোন সম্পর্ক নেই। যারা ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করছে তারা মূলত কোরান-সুন্নাহ বিরোধী কাজে লিপ্ত রয়েছেন। এ ধরনের ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ থেকে তাদের বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয় ঈদের নামাজের বয়ানে।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরিচিতজনদের সঙ্গে কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বড়দের কাছে থেকে সেলামী আদায় ঈদ আনন্দের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। এছাড়া নামাজ শেষে অসহায় মিসকিনদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন অনেকে। ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর চিড়িয়াখানা, শিশুপার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এখনও ঈদের আমেজ বিরাজ করছে। এসব স্থানে ঈদের দিন থেকেই উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উৎসবে শরীক হয়ে আবার রাজধানী ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। আজ রবিবার থেকে শুরু হবে অফিস-আদালত। এজন্য শনিবার রাজধানীর প্রতিটি পয়েন্ট কর্মস্থলে ফেরা মানুষের প্রচ- ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বরাবরের মতো এবারও রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় শুরু হয় ঈদ জামাত। সেখানে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন।