২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গী আতঙ্ক উপেক্ষা করে ঢাকায় ঢল নেমেছিল উৎসবপ্রিয় মানুষের

  • রঙে রঙে রঙিন হয়েছে ঈদ বিনোদন

মনোয়ার হোসেন ॥ জঙ্গী হামলায় তেমনিভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েও দমিয়ে রাখা যায়নি উৎসবপ্রিয় মানুষকে। জাতীয় কবি নজরুলের সুর ধরে এসেছে ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ ...’। তাই তো গুলশান হামলার ভয়াবহতা কিংবা শোলাকিয়ায় জঙ্গী হামলার আস্ফালনে থমকে যায়নি উৎসব। সম্প্রীতির বাংলাদেশে বরং উৎসবের আনন্দ উদ্্যাপনের মাধ্যমে ঘটেছে প্রতিবাদী প্রকাশ। ভয়কে জয় করে ঈদ আনন্দে সারা দেশের সঙ্গে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতেছে শহর ঢাকা। ঈদের দ্বিতীয় দিন রেকর্ডসংখ্যক ১ লাখ ২০ হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করেছে প্রাণীরাজ্য চিড়িয়াখানায়। এভাবেই মঙ্গলের বারতায় পরাজিত হয়েছে অশুভ শক্তির অপপ্রয়াস। প্রফুল্লচিত্তে পথে পথে নেমেছে মানুষ। সেই সুবাদে উৎসবপ্রিয় বাঙালীর কাছে স্বমহিমায় ধরা দিয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। যদিও আনন্দপ্রিয় বাঙালী সত্তার কাছে ধর্মের গ-ি পেরিয়ে সৌহার্দ্যরে পথরেখায় ধর্মীয় উৎসবটিও পেয়েছে সর্বজনীন রূপ। গৌণ হয়ে গেছে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রীস্টানের পরিচয়। উৎসবে সবাই এক সুরে মেতেছে আনন্দের অবগাহনে। আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হয়েছে নির্মল সুখের বারতা। ঈদ আনন্দ উদ্্যাপনে নগরবাসীর সরব পদচারণায় রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো পরিণত হয়েছে জনারণ্যে। অজস্র রঙে রঙিন হয়েছে উৎসব।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী এবার ঈদে বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রকৃতি বাদ সাধেনি ঝলমলে রোদের উৎসব পেয়েছে আরও উজ্জ্বলতা। ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হওয়া ঢাকায় বিরাজ করেছে সুখময় দৃশ্যকল্প। ফাঁকা শহরে অপার বিনোদনের সন্ধানে একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছে বিনোদনপিপাসু নগরবাসী। যান জনজটের শহরটিতে যেন নেমে এসেছিল স্বস্তির অবকাশ। চিরচেনা যান্ত্রিক কোলাহলের পরিবর্তে প্রশান্তিময় নীরবতা ছিল বৃহস্পতি, শুক্র শনিবার পর্যন্ত। তবে ঈদ আনন্দে নীরব শহরও সরব হয়েছে বিনোদনপ্রেমীদের মুখরতায়। ট্রাফিক জ্যামহীন শহরে মনের সুখে ঘুরে বেড়িয়েছে শহরবাসী। ফাঁকা হওয়া শহরে ক্রিং ক্রিং শব্দ তুলে চলেছে রিকশাভ্রমণ। নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই পৌঁছানো গেছে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে। ফলে ঘোরাঘুরিটাও হয়েছে আরামদায়ক ও স্বস্তিকর। ঢাকার সব রাস্তা যেন শাহবাগের শিশু পার্ক, জাতীয় জাদুঘর, মিরপুরের চিড়িয়াখানা, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, শ্যামলীর শিশু মেলা, যমুনা ফিউচার পার্ক, পুরনো ঢাকার লালবাগ কেল্লা কিংবা আহসান মঞ্জিলে গিয়ে ঠেকেছিল। গোটা ঢাকা যে ফাঁকা হয়ে আছে তা বোঝার উপায় ছিল না এসব বিনোদন কেন্দ্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুরে বেড়িয়েছেন এসব পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রে। ঘোরাঘুরির তালিকায় বাদ যায়নি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতির ঝিল, চন্দ্রিমা উদ্যান, সংসদ ভবনের চারপাশ কিংবা পুরান ঢাকার বলধা গার্ডেনসহ বিভিন্ন স্পট। ঢাকার অদূরে ফান্টাসি কিংডম বা নন্দন পার্কেও রকমারি রাইডে চড়ে উৎসব উদ্্যাপন করেছেন অনেকে। এই তালিকায় বাদ পড়েনি ঐতিহাসিক স্থাপনার রেপ্লিকায় সাজানো হেরিটেজ পার্কও। ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি ঘরে ঘরে চলেছে অতিথিবান্ধব বাঙালীর অতিথি আপ্যায়ন। মধুমিতা, স্টার সিনেপ্লেক্স, বলাকা কিংবা ব্লকবাস্টার সিনেমাসে নতুন আসা ঢাকাই ছবিটি দেখেও আনন্দ উপভোগ করেছেন অনেক সিনেমাপ্রেমী। কেউ বা বিজ্ঞাপনের বিড়ম্বনা নিয়েই আনন্দ খুঁজেছেন চ্যানেলে চ্যানেলে বিনোদনমূলক নাটক, গান, সেলিব্রিটিদের আড্ডা কিংবা সঙ্গীতানুষ্ঠান দেখে। বড়দের সঙ্গে বাহারি রঙের পোশাকে নিজেদের সাজিয়েছে শিশুরা। শুধু নতুন পোশাক পরলেই আনন্দ পূরণ হয় না। পোশাকের রঙের সঙ্গে মনের রঙ মেশাতে চাই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর বিনোদন। তাই ছিল না বাবা-মার অনুশাসন আর বিধিনিষেধের কঠোরতা। মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলে উড়ে বেড়ানোর এটাই তো মোক্ষম সময়। শুধু আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো আর ঈদ সালামিতে তো মন ভরে না। চাই প্রকৃতির ছোঁয়া আর নানা রকম এ্যাডভেঞ্চার। ঈদের ছুটিতে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেলেও সোনামণিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র। ঈদের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার থেকেই খোলা ছিল আনন্দ উদ্যাপনে সোনামণিদের তীর্থস্থান শাহবাগের শিশুপার্ক। ঈদের ছুটিতে সবচেয়ে বেশি ভিড় জমেছিল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। শ্যামলীর শিশু মেলায়ও ঈদের তিন দিন দেখা গেছে ছোট ছোট শিশু কিশোরের হৈ হুল্লোড়। ঈদের আনন্দ বর্ণাঢ্য করতে নগরবাসী ছুটেছেন রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। এদিকে আনন্দের সন্ধানে অনেকেই ছুটে গেছেন বিভিন্ন সিনেমা হলে।