১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লড়াইটা রোনাল্ডো-গ্রিজম্যানেরও

লড়াইটা রোনাল্ডো-গ্রিজম্যানেরও
  • মর্যাদার শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই তারকা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মাত্র ৬ সপ্তাহ আগেই একটি শিরোপা লড়াই হয়েছে দু’জনের। শেষ হাসিটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মুখেই ছিল, কান্না সঙ্গী হয়েছিল এ্যান্টোইন গ্রিজম্যানের। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জয় করে রোনাল্ডোর স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, রানার্সআপ হয় গ্রিজম্যানের এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। সেটি ছিল ক্লাব পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। এবার জাতীয় পর্যায়ে ইউরোপ সেরা হওয়ার লড়াই। পর্তুগালের জন্য অপরিহার্য যেমন রোনাল্ডো, তেমনি ফ্রান্সের ভরসা গ্রিজম্যান। চলতি আসরে রোনাল্ডোর নৈপুণ্যে ধারাবাহিকতা না থাকলেও সেমিফাইনালে তিনি একাই জিতিয়ে দিয়েছেন দলকে। আর ফর্মের তুঙ্গে থাকা গ্রিজম্যান এবার ফ্রান্সের ইউরো ফাইনালে ওঠার পেছনে ভূমিকা রেখেছেন ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে। আজ মুখোমুখি হচ্ছেন এ দুই ফরোয়ার্ড নিজ নিজ দেশকে ইউরোপ সেরার মুকুট পাইয়ে দেয়ার লড়াইয়ে। এখানে আরেকটি বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে দু’জনেরই জার্সির নম্বরটাও সাত! তবে বিশ্বব্যাপী ৭ নম্বর জার্সিকে ব্র্যান্ডে পরিণত করা রোনাল্ডোর দিকেই দৃষ্টি থাকবে সবার। শেষ পর্যন্ত ‘সিআর সেভেন’কে টপকে যেতে পারবে গ্রিজম্যানের ‘সেভেন’? লড়াই শুরুর পরই জানা যাবে তা।

রোনাল্ডো কেঁদেছিলেন ১২ বছর আগে প্রথমবার পর্তুগালের জার্সি গায়ে ইউরো খেলতে নেমে। ২০০৪ সালের ইউরো ফাইনালে গ্রিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল পর্তুগাল। এটিই সম্ভবত ৩১ বছর বয়সী রোনাল্ডোর শেষ ইউরো। আর সেই মঞ্চেই তার জন্য ওই দুঃখের স্মৃতিটা ভুলে যাওয়ার মোক্ষম সুযোগ। ২০০৮ ও ২০১২ ইউরোর পর আরেকবার সিআর সেভেন সুযোগ পেয়েছেন দলকে চ্যাম্পিয়ন করার। চলতি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নিজের জাত পরিচয়টা দেখাতে পেরেছিলেন রোনাল্ডো। হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন। কিন্তু জেতাতে পারেননি সেই ম্যাচে। দুরন্ত রোনাল্ডোকে আরেকবার দেখা গেছে সেমিফাইনালে। একাই এদিন ওয়েলসের বিরুদ্ধে জিতিয়েছেন সিআর সেভেন। নিজে একটি লক্ষ্যভেদ করার পাশাপাশি আরেকটি গোল করিয়েছেন সতীর্থ ন্যানিকে দিয়ে। টুর্নামেন্টে এই তিনটিই গোল তার। এবার তার সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রতিপক্ষ ফ্রান্স এবার ইউরোর আয়োজক। এ কারণে রোনাল্ডোকে সমর্থন জানানোর চেয়ে তার বিরোধিতা করার জন্যই মাঠে উপস্থিত থাকবে অধিকাংশ দর্শক। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে মর্যাদার এমন অর্জনের কাছাকাছি এসে ভুল করতে চান না সিআর সেভেন। তিনি ২০০৪ সালের স্মৃতি মনে করে বলেন, ‘ইউরো ২০০৪ ছিল বিশেষ কিছু। আমি তখন মাত্র ১৯ বছর বয়সী ছিলাম এবং সেটিই ছিল আমার প্রথম টুর্নামেন্ট। এখন আমরা আবার ফাইনালে এবং আমরা আশা করছি আমরা এটা জিতব। আমরা আশা করছি আমরা হাসতে পারব এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের চোখেই থাকবে আনন্দের অশ্রু!’ এ বছর ২৮ মে তিনি গ্রিজম্যানকে কান্না উপহার দিয়েছিলেন রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ট্রফি জিতে। এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান তিনি।

২৫ বছর বয়সী গ্রিজম্যান ইতোমধ্যেই একটি বড় টুর্নামেন্টে হতাশা সঙ্গী করেছেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল দুর্দান্ত খেলা ফ্রান্স। আর এ বছর ক্লাব পর্যায়েও হারতে হয়েছে ইউরোপ সেরা দলের প্রতিনিধি হতে না পারায়। কিন্তু এবার দারুণ সুযোগ এ তরুণ ফরোয়ার্ডের জন্য। নিজেদের দেশে ইউরোপ সেরার মুকুট ছিনিয়ে নেয়ার লড়াই। ফর্মের তুঙ্গে থাকা গ্রিজম্যান অকুণ্ঠ সমর্থনই পাবেন স্বাগতিক দর্শকদের কাছ থেকে। এ বিষয়ে গ্রিজম্যান বলেন, আমরা রোমাঞ্চিত, নিজেদের মনে হচ্ছে বাচ্চাদের মতো। আমরা জানি পুরো দেশই আমাদের পেছনে আছে এবং সে কারণে আমরা নিজেদের সবকিছুই দেব তাদের জন্য। চলতি আসরে নৈপুণ্যের বিচারে রোনাল্ডোর দ্বিগুণ গ্রিজম্যান! রোনাল্ডো করেছেন ৩ গোল, আর গ্রিজম্যান ৬ গোল করে এবারের ইউরোতে সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশেষ করে সেমিফাইনালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিরুদ্ধে ২-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে একাই জোড়া গোল করেছেন গ্রিজম্যান। প্রি-কোয়ার্টারেও আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেন এ তরুণ। তার ওপর দারুণ সন্তুষ্ট কোচ দিদিয়ের দেশম। তিনি বলেন, তিনি দারুণ একজন খেলোয়াড়। এই ইউরোতে তিনি আমাদের ভরসা। নিজে যেমন স্কোর করতে পারেন, তেমনি অন্যকে দিয়েও গোল করাতে পারেন। অথচ এবার শুরুর দিকে তিনি সাইডবেঞ্চে বসেই ছিলেন। আলবেনিয়ার বিরুদ্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে গোল করে দলকে জয় পাইয়ে দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই ফ্রান্সের ভরসা হয়ে গেছেন এ তরুণ ফরোয়ার্ড। আজ রোনাল্ডোর মোক্ষম জবাব হিসেবে গ্রিজম্যান যে একেবারেই নিখুঁত একজন খেলোয়াড় এতে কোন সন্দেহই নেই।