১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সূত্রাপুরে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদের পরেরদিন গভীররাতে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে নিজ বাসার কাছে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাজিবুল হাসান খান (৩৮) নামে এক যুবলীগ নেতাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রাজিবুল ৪২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চাঁদাবাজি করতে বাধা দেয়ায় রাজীবকে হত্যা করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার রাত ১২টার পর সূত্রাপুর ধোলাইখালের রোকনপুরে রাস্তার পাশ থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনা হয়। রাত পৌনে ১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, তার মাথায় একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল।

সূত্রাপুর থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা জানান, শুক্রবার রাত ১২টার পর সূত্রাপুর ধোলাইখালের রোকনপুরে রাস্তার পাশ থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়। রাজীবকে নাসির প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমন কোন অভিযোগ পূর্বে পরিবারটি থেকে থানায় জানানো হয়নি। তবে রাজীবের পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের বাবার নাম নূরে হেলাল। সূত্রাপুর কলতাবাজার রোকনপুর এলাকার ২/১ নম্বর বাসায় সপরিবারে থাকতেন তিনি।

এদিকে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তার স্ত্রী আশা আক্তার (২৭) ঢামেক হাসপাতালে ছুটে আসেন। মধ্যরাতে স্বামী রাজীবের নিষ্প্রাণ দেহটি যখন জরুরী বিভাগ থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেয়া হচ্ছিল, তখন তিনি বার বার সংজ্ঞা হারাচ্ছিলেন। মুখে একটিই বুলি, রাজীবকে নিয়ে যাইতাছে। আমারে ছাইড়া দাও। আমিও যামু। আশার কান্না থামছে না কিছুতেই। বিয়ের এক বছরের মাথায় তাকে বিধবা হতে হলো। স্বজনের বুকফাটা আর্তনাদে হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। রাজীবের পরিবারের অভিযোগ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করেই ঘটেছে এই হত্যাকাণ্ড। এ সময় নিহতের পরিবার বার বার অভিযোগ করছিলেন, সূত্রাপুরের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা নাসির আর শাকিল তাকে হত্যা করেছে। তারাই হত্যাকারী। নিহত যুবলীগ নেতা রাজীবের মা মার্জিয়া বেগম কান্নাজাড়িত কণ্ঠে জানান, লক্ষ্মীবাজারে চাঁদাবাজি করতে চেয়েছিল নাসির। কিন্তু রাজিব বাধা দেয়ায় নাসির আর শাকিল মিলে রাজীবকে মেরে ফেলেছে। একই ওয়ার্ডের যুবলীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রোমান জানান, রাজীবের সঙ্গে নাসিরের দ্বন্দ্ব অনেকদিন ধরেই চলছিল। রাজীব আমাদের বিভিন্ন সময় বলেছে যে, নাসির তাকে হুমকি দিচ্ছে। আজ আমাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা ছিল রাজীবের। কিন্তু সেই দেখাও হলো না। তাকে একবারে চিরতরে শেষ করে দিল সন্ত্রাসীরা। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আমরা হাসপাতালে ছুটে এসেছি।

এদিকে শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে যুবলীগ নেতা রাজিবুল হাসান খানের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়। পরে তার মরদেহ কলতাবাজারে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বজনের কান্নায় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরে সেখানে জানাজা শেষে তার লাশ রাত সোয়া ৮টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।