১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুন্সীগঞ্জে সহকারী পুলিশ সুপারের গাড়ীতে ছাত্রলীগের আক্রমন: দেহরক্ষী আহত

স্টাফ রিপোর্টার,মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর)-এর দেহ রক্ষীর সাথে ছাত্রলীগের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটানয় দেহ রক্ষী কনস্টবল রঠিকুল ইসলাম আহতসহ লাঞ্ছিত হয়েছে সহকারী পুলিশ সুপারসহ পরিবারের সদস্যগণ। শনিবার সন্ধ্যার কিছু আগে লৌহজংয়ের হলদিয়ায় এ ঘটনা ঘাটে। রবিবার এ ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনকে আসামী করে লৌহজং থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হলদিয়া বাজার সংলগ্ন নির্মাণীধ ব্রীজের কারণে এখানে যানজট লেগে ছিল। সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান লৌহজংয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে পিতা-মাতা ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে মাওয়া অভিমুখে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার গাড়ীটি হলদিয়ার যানজটে আটকা পড়ে। যানজট এড়িয়ে অন্যান্য গাড়ী ওভারটেক করে তাঁর প্রাইভেট কারটি আগে যেতে চাইলে বাঁধা দেয় যানজট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবক কিছু এলাকাবাসী। এ সময় এএসপির দেহ রক্ষী কনস্টবল রফিকুল ইসলাম গাড়ী থেকে নেমে স্বেচ্ছাসেবক রাজু বেপারী (২৮)-কে মারধর করে। পরে রাজু ছাত্রলীগের লৌহজং উপজেলা সভাপতি ওমর ফারুক রাজিব বাছারকে বিষয়টি ফোনে জানালে রাজিব ও ছাত্রলীগের আরো কিছু নেতা কর্মী সাথে সাথে ঘটনা স্থানে ছুটে যায়। এ সময় তারা সহকারী পুলিশ সুপারসহ তাঁর স্ত্রী সন্তানদের লাঞ্ছিত করে ও দেহ রক্ষীকে মারধর করে আহত করে। পরিচয় জানতে পেরেও ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা সহকারী পুলিশ সুপারসহ তার পরিবারের লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম খান ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের এ সময় নিবৃত করতে গেলে তাঁর উপরেও কিলঘুষি পড়ে। এ সময় থানায় খবর পৌছলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সটকে পরে। এ ঘটনার ক্ষুব্ধ পুলিশের উচ্চ পদস্ত কর্মকতাসহ র‌্যাবের একাধিক টিম ঘটানস্থলে ছুটে আসে। পরে হলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিষয়টি মিমাংসার জন্য বসে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সিকদার, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. সামসুজ্জামান বাবু, লৌহজং থানার ওসি মোহামম্মদ আনিচুর রহমানসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকতাবৃন্দ। তবে রাত্র সাড়ে আটটা পর্যন্ত বৈঠক হলেও কোন প্রকার মিমাংসা ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. সামসুজ্জামান বাবু জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জের সিনিয়ন সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান লৌহজং উপজেলা সদর থেকে মাওয়ার দিকে যাবার পথে হলদিয়া বাজারের কাছে যানজটে আটকা পরে। এ সময় স্থানীয় কিছু লোকজনের সাথে এএসপির দেহরক্ষীর কথাকাটা কাটি হয়। পরে তারা একত্রিত হয়ে এএসপির গাড়ীতে আক্রমন করে তার দেহ রক্ষীকে মারধর করে আহত করে ও পরিবারের সদস্যদের নাজেহাল করে। এদিকে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মোবাইল বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

লৌহজং থানার ওসি মোহাম্মদ আনিচুর রহমান জানিয়েছেন, এঘটনায় রবিবার ভোর রাতে রাজু বেপারীকে প্রধান আসামী করে ছাত্রললীগ সভাপতি ওমর ফারুক রাজিব বাছার, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম শাওন, মো. আশিকসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরো ১০/১২ জনকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে। আহত দেহরক্ষী কনষ্টবল রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে পুলিশ এসল্ট ও সরকারী কাজে বাধা দানে এই মামলা করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ মাঠে রয়েছে।