১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংযমই সব ধর্মের বড় শিক্ষা

  • প্রাণ গোপাল দত্ত

ভারত উপমহাদেশ যেমন সৌন্দর্যের লীলাভূমি, তেমনি বহুবিধ ঐতিহ্যের এক মিলনধারা। এই এলাকার মানুষের তার্কিক এবং যুক্তিবাদী হিসেবে সুনাম রয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনায় একে অপরের যুক্তি খ-নে ব্যস্ত আবার কখনও কোন যুক্তি মানতে রাজি হন না। ধর্মীয় সহিংসতা যেমন ছিল তেমনি সৌহার্দ্যও দৃষ্টিনন্দন। যদিও রাজনৈতিক স্বার্থে মাঝে মধ্যে ধর্মকে অপব্যবহার করা হয়।

বিভিন্ন লক্ষ্য, ভিন্ন বিশ্বাস, বহুবিধ আচার-রীতিনীতি এবং নানা দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে ভারত একটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ উপমহাদেশ। আমাদের আতিথেয়তা পৃথিবীর সব দেশ এবং জাতিকে ছাপিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমাদের সারল্য বহু প্রশংসিত এবং সৎসাহস স্বীকৃত। তাই সরলতার সুযোগ নিয়ে এই উপমহাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশ-জাতি শাসন ও শোষণ করেছিল। আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি যেমন আলাদা, তেমনি দাবি আদায়ে আন্দোলনের পথও প্রয়োজনের তাগিদে নতুন রূপ ধারণ করেছে, যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের আন্দোলনের চেয়ে ভিন্নতর। যেমন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন রূপ ধারণ করেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিং দিয়ে প্রতিবাদ, দাবি আদায়ে রাজপথে রক্ত ঢেলে দেয়া, আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া যেখানে জনপ্রিয়তা যাচাই; অসহযোগ আন্দোলন আর সব ব্যর্থ হলে শেষে সশস্ত্র সংগ্রাম।

ষাটের দশকে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রযন্ত্রটাতে যখন বাস করছিলাম, তখনও এত সাম্প্রদায়িক উগ্রতা ছিল না। বরং সম্প্রীতি আরও বেশি ছিল। ১৯৭১ সালে যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় তার পূর্ব মুহূর্তেও এই পূর্ব পাকিস্তানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ ভাগ ছিলেন হিন্দুধর্মাবলম্বী। আজকে একটা ধর্মনিরপেক্ষ দেশে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৭-৯% (কম-বেশি)। এ জন্য ’৭৫ পরবর্তী জিয়াউর রহমান কর্তৃক সংবিধান সংশোধন, অতি মাত্রায় মৌলবাদের সুড়সুড়ি অনেকটা দায়ী। যেমন, ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিবিদরা করে তুলেছেন। এমনকি অন্য ধর্মের উপাসনালয় ধ্বংস করতেও তারা দ্বিধাবোধ করেন না। একজন প্রকৃত ধার্মিক, অবশ্যই একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ, বিদ্বেষহীন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং কাম, ক্রোধ ও লোভের ঊর্ধ্বেই নিজের স্থান করে নেন। তাকে অনেকেই অনুসরণ করেন।

হিন্দু ধর্মে অনেকে রামকে ভগবানের অবতার হিসেবে দেখেন। কিন্তু রামায়ণের বৃহৎ অংশজুড়ে রাম একজন মাহকাব্যিক নায়ক হিসেবে গণ্য হন, যে নায়ক নানা সদগুণের সঙ্গে সঙ্গে কিছু দুর্বলতারও শিকার, যার মধ্যে পড়ে সীতার বিশ্বাসপরায়ণতা সম্পর্কে মনের মধ্যে সন্দেহ লালন করার প্রবণতা। (অমর্ত্য সেন-তর্কপ্রিয় ভারতীয়)

বাক-প্রাচুর্য আমাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর জ্বলন্ত উদাহরণ হলো প্রায় ৬০ বছর আগে জাতিসংঘে কৃষ্ণ মেননের (মেনন তখন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতা) একটানা নয় ঘণ্টা বক্তৃতার রেকর্ড এখনও পর্যন্ত কেউ কোথাও স্পর্শ করতে পারেননি। তা ছাড়া এই উপমহাদেশেই নামের পাশে প্রিয়ভাষিণী, যুক্তিবাদী, সুবচনা স্পষ্টবাদী, স্বল্পভাষী, মৃদুভাষী এবং তর্কবাগীশ উপাধিও স্থান করে নিয়েছে। শুধু রাজনীতি নয়, ধর্ম নিয়েও বাগ্বিত-া কম চলে না। ধর্ম নিয়ে বাগ্বিত-া শুধু বাড়াবাড়িই নয় বরং ধ্বংস ডেকে আনে।

সঠিক জিনিসের প্রতি এই উপমহাদেশের গণকণ্ঠসুলভ আচরণও আছে। মুখের ওপর ন্যায়-অন্যায় বলে দেয়ার মতো সাহস আমাদের ছাড়া আর কারও কি আছে? আমাদের এ ব্যাপারে এক উল্লেখযোগ্য ইতিহাস আছে- ঘটনাচক্রে, এমনকি বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডারকেও তাঁর উত্তর-পশ্চিম ভারত পরিক্রমার সময়, খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে, কিছু রাজনৈতিক ভাষণ শুনতে হয়েছিল। যখন একদল জৈন দার্শনিককে তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, কেন তারা তার মতো বিরাট রাজ্যজয়ীর প্রতি এত কম মনোযোগ দিচ্ছেন, তখন (আরিয়ানের বিবরণ অনুযায়ী) তিনি ব্যাপক অর্থে সাম্রাজ্য বিস্তারবিরোধী এই উত্তরটি পান : ‘রাজা আলেকজান্ডার! প্রতিটি মানুষেরই অধিকারে ততটুকু ভূমিকা থাকে যতটুকুর ওপর সে দাঁড়িয়ে আছে। তুমিও আমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া কিছু নও। শুধু তফাত এই তুমি সর্বক্ষণই ব্যস্ত, তোমার দ্বারা কোন মঙ্গল হয় না। তুমি নিজের দেশ ছেড়ে বহু পথ অতিক্রম করে এসেছ, তুমি নিজের কাছে এক আপদ, অন্যেদের কাছেও... তুমি শীঘ্রই মারা যাবে, তখন ততটুকু জমিই পাবে যতটুকু তোমাকে সমাধিস্থ করার জন্য লাগবে।’

ধর্ম নিয়ে বিশ্লেষণ, প্রচার-প্রচারণা, মাঝে মাঝে তাকে রাজনীতির হাতিয়ার ও রাজ্যশাসনের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রীস্টান, জৈন, পার্সি, শিখ আমরা প্রত্যেকেই কামনা, ভয়, ক্রোধ, দুঃখ, দুশ্চিন্তা, ক্ষুধা ও ক্রোধের দ্বারা প্রভাবিত হই। তা হলে আমাদের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের পার্থক্য কিসের?

যদিও হাজার বছরের ইতিহাসে ধর্ম একটা বিরাট সংঘাতের কারণ ছিল, তারপরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সম্রাট অশোক এবং আকবর ধর্মীয় সহমর্মিতার মর্মগাথায় সব ধর্মের লোকদের একই সুতায় বেঁধে রাখতে চেয়েছিলেন। অশোক বাক্-সংযম রক্ষা করে বিতর্ক পরিচালনার জন্য একটি সাধারণ নীতি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন : ‘কোন ব্যক্তি অকারণে নিজের সম্প্রদায়ের প্রশংসা বা অন্যদের বিশ্বাসের নিন্দা করবেন না।’ তিনি আরও যুক্তি দিলেন, ‘অন্যদের খাটো করার কাজটি কেবলমাত্র বিশেষ কারণেই করা উচিত। অন্য সম্প্রদায়গুলোর সকলে কোন না কোন কারণে সম্মানের যোগ্য।’ অশোক এই সাধারণ নৈতিক ও রাজনৈতিক নীতিটিকে আলোকায়িত আত্ম-স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি দ্বান্দ্বিক যুক্তির সাহায্যে আরও পুষ্ট করলেন। তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি কেবলমাত্র নিজের সম্প্রদায়ের প্রতি আসক্তিবশত খুব ওপরে স্থান দেয় ও অন্যদের ছোট করে দেখায়, সে বস্তুত তার এই ব্যবহারের দ্বারা তার নিজের সম্প্রদায়েরই প্রচ- ক্ষতি করে।

আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) শুধু যে সহনশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য দ্ব্যর্থহীন নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন তা-ই নয়, তিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ আইনী কাঠামো ও ধর্ম সম্পর্কে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রের একটি কর্তব্য ছিল এটি সুনিশ্চিত করা, যাতে ‘ধর্মের কারণে কোন ব্যক্তির জীবনে হস্তক্ষেপ করা হবে না এবং প্রত্যেকে তার খুশিমতো ধর্মগ্রহণ ও তা পালন করতে হবে।’ অন্য ধর্মগুলোর প্রতি গভীর আগ্রহ এবং বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসের ভাল দিকগুলোকে সঙ্কলিত করে একটি নতুন ধর্মমত দীন-ই-ইলাহি প্রবর্তন করার সংক্ষিপ্ত প্রয়াস সত্ত্বেও আকবর একজন ভাল মুসলমানই থেকে গিয়েছিলেন। নিয়মসিদ্ধ ইসলাম ধর্ম থেকে বিচ্যুতির জন্য ইসলাম ধর্মগুরু আবদুল হক আকবরের সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আকবর যখন মারা যান, তখন তিনিও খানিকটা সন্তুষ্টির সঙ্গে বলেছিলেন ‘নতুনত্ব’ খোঁজার চেষ্টা সত্ত্বেও আকবর ছিলেন একজন প্রকৃত মুসলমান। প্রকৃতপক্ষে আকবর ছিলেন সহনশীলতা মতাদর্শের এক তাত্ত্বিক এবং বিশ্বের বিভিন্ন মতবাদে বিশ্বাসী বিজ্ঞজনদের মধ্যে সংলাপের আয়োজন করার ক্ষেত্রে একজন পথপ্রদর্শক।

ষোড়শ শতাব্দীর শেষদিকে গণআলোচনার জন্য আকবর যে সভাগুলোর আয়োজন করেছিলেন সেগুলোতে বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের লোকেদের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছিল (যাদের মধ্যে ছিলেন হিন্দু, মুসলমান, খ্রীস্টান, পার্সি, জৈন, ইহুদী, এমনকি নাস্তিকরাও)। ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষপটটি আকবরের বহু আগের সময়ের চিন্তাসূত্রগুলো থেকে খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু আকবরের বহুত্ববাদী ধারণা ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন থাকার নীতির প্রতি তার গুরুত্ব দেয়া থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতি প্রবল শক্তি অর্জন করে। আকবরের নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোও তার বহুত্ববাদী দায়বদ্ধতাকে প্রতিফলিত করে। এর খুব সুন্দর উদাহরণ হলো তার রাজসভায় মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের (মহান সঙ্গীতকার তানসেন যাদের অন্যতম) নিয়োগ করার ওপর জোর দেয়া, আরও উল্লেখযোগ্যভাবে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে একজন ভূতপূর্ব হিন্দু রাজার (মানসিংহ) ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখা। মানসিংহ এর আগে আকবরের হাতে পরাজিত হয়েছিলেন।’ উপমহাদেশে সম্রাট অশোক আর আকবরের পরে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক দর্শনের নেতা হিসেবে যাদের আবির্ভাব ঘটেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসরত সব বাঙালীকে একই সুতায় গেঁথে, সম্মিলিতভাবে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করতে পেরেছিলেন, যা সামন্তবাদী বিদেশীদের পছন্দ হয়নি বলেই গান্ধীজীর মতো জাতির পিতাকেও প্রাণ দিতে হলো। আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে একই চেতনায় দেশটিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য শুধু সঙ্কল্পবদ্ধ নন, কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। যদি আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাসে পূর্ণ আস্থা রেখে ধর্মীয় অনুশীলন করি তাহলে শুধু আত্মশুদ্ধি হবে না, সমাজ তথা দেশের প্রভূত উন্নতি সাধিত হবে। মনে রাখা ভাল ‘যত গুপ্ত তত পোক্ত, যত ব্যক্ত তত ত্যক্ত’- লোকনাথ বাবার এ বাণী। সুতরাং ধর্ম নিয়ে বাক চাতুর্যতা কোন দিনও সুখকর হয় না। আদর্শিক দ্বন্দ্বে পরমতসহিষ্ণু হতে হবে : প্রত্যেক জাতি ও ধর্মাবলম্বীর রয়েছে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও আদর্শ। বহুধাবিভক্ত সমাজ ব্যবস্থায় বহুদল-উপদল ও নানা মতের মানুষ থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংঘাত ও বাড়াবাড়ির কোন সুযোগ নেই।

দশম হিজরীর ৯ জিলহজ, জুমাবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে, লক্ষাধিক সাহাবির উপস্থিতিতে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণে মানবম-লীর ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, স্ত্রী-পুরুষের পরস্পরের অধিকারসহ সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনায় যে সব উপাদানের প্রয়োজন সবই এই ধরণীর সর্বশেষ নবী হিসেবে মহানবী (সা) তার ভাষণে বিবৃত করেছিলেন। যেখানে মহানবী (সা) বলেন, ‘সাবধান ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করিও না। সংঘাতের পথ বেছে নিও না। এই বাড়াবাড়ির ফলেই অতীতে বহুজাতি, বহুগোত্র এবং ধর্ম ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়াছে।’ বিশ্ব নবী (সা) হুঁশিয়ার করে বলে দিয়েছেন ‘সাবধান! তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে। জেনে রেখ, তোমাদের পূর্ববর্তীগণ এই বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। (এ নির্দেশনাটি হচ্ছে অমুসলিমদের ক্ষেত্রে অর্থাৎ কোন অন্য ধর্মের অনুসারীকে বাড়াবাড়ি বা জোর জবরদস্তি করে ইসলামে দীক্ষা দেয়া যাবে না) তাহলে আজকে ধর্ম নিয়ে এত বাড়াবাড়ি কেন হচ্ছে? ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাজা রামমোহন রায়ের লেখা একটি কবিতা যা তর্কপ্রিয় বাঙালীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

‘মনে কর শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর

অন্যে বাক্য কবে, কিন্তু তুমি রবে নিরুত্তর’

বাংলাদেশে বর্তমানে যে সংঘাত চলছে, যে জঙ্গী আচরণের জন্য নিরীহ প্রাণ ক্ষয় হচ্ছে, তা নিশ্চয়ই দেশটির জন্য শুভ কিছুই এনে দেবে না। বরং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো ভ্রাতৃহত্যায় উন্মত্ততা চলবে, যাতে লাভবান হবে বিদেশী শক্তি। পৃথিবীর সর্বশেষ ধর্ম, পবিত্র ইসলাম ধর্ম যা অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত, যেখানে মানুষকে, মানবিক হওয়ার সব গুণাবলীর দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

লেখক : সাবেক ভিসি, বিএসএমএমইউ