১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বখাটেদের ভয়ে মা মেয়ের অবস্থান প্রেসক্লাবে

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা পেতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মা মমতাজ বেগম ও তাঁর স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ফারজানা আক্তার অনামিকা ইতি। রবিবার দুপুর থেকে বিকেল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা খুলনা প্রেসক্লাবে অবস্থান করছিলেন। নগরীর ফুলবাড়ী গেট এলাকায় তাদের বাড়ি। ফারজানা ওই এলাকার ইউসুফ এমএ মজিদ স্কুলের জেএসসি পরীক্ষার্থী।

জানা গেছে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বিভিন্ন সময়ে একই এলাকার নান্টু মোল্লার ছেলে নাঈম অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা আক্তার অনামিকা ইতিকে উত্ত্যক্ত করে। বাড়াবাড়ির পর্যায়ে গেলে গত ১১ জুন ফারজানার পরিবার দৌলতপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। পুলিশ বখাটে নাঈমকে আটক করে। পরে ওইদিনই তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের কারাদ- দেয়। খুলনা প্রেসক্লাবে অবস্থানকালে স্কুল ছাত্রী ফারজানা ও তার মা মমতাজ বেগম বলেন, বখাটে নান্টুর শাস্তি হওয়ার পর থেকে তার বন্ধু ও আত্মীয়রা প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রতিনিয়ত তাদের গতিবিধি অনুসরণ করা হয়। দুই দিন আগে বাড়িতে হামলা করে তাদের ঘরের সব মালামাল ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। চারটি সাদা কাগজে জোরপূর্বক ফারজানার স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। তাদের জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। রবিবার সকালে দৌলতপুর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে থানা থেকে আদালতে মামলা করতে বলা হয়। বাড়িতে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বলেছে, সেখানে কোন ক্ষতি হলে তার দায় তারা নেবে না।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনার সমন্বয়কারী এ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি প্রেসক্লাবে এসেছেন। অসহায় অবস্থায় রক্ষা পেতে মা-মেয়ে খুলনা প্রেসক্লাবে এসে অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ যদি তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে এরা যাবে কোথায়? বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের আইনগত সহায়তা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

কুতুবদিয়া রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুতুবদিয়া, ১০ জুলাই ॥ সাগরের অব্যাহত ভাঙ্গনে অধিকাংশ এলাকায় কুতুবদিয়া রক্ষা বাঁধের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষত ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর পর থেকে প্রতিনিয়ত জোয়ার-ভাটায় চাষাবাদ তো হচ্ছেই না, তার ওপর মানুষের জানমাল ও সহায়-সম্পদ নিয়ে বসবাস করা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিচ্ছিন্ন উপজেলা কুতুবদিয়ার দু’লাখ মানুষের জন্মভিটা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি অসহায় দ্বীপবাসীর। ৪০ কিলোমিটার দ্বীপ রক্ষা বাঁধের কোথাও অস্তিত্ব নেই। যে ৫-৬ কিলোমিটার সিসি ব্লকের বাঁধ ছিল তাও ল-ভ- হয়ে গেছে রোয়ানুর আঘাতে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মান্ধাতা আমলের ডিজাইনে নির্মিত বাঁধ কিছুতেই রক্ষা পাচ্ছে না সামুদ্রিক জোয়ার থেকে। ফলে নিয়মিত জোয়ার-ভাটার কারণে উত্তর ধুরুং, কৈয়ারবিল, লেমশীখালী, দক্ষিণ ধুরুং, বড়ঘোপ ও আলী আকবর ডেইলের দেড় লাখ মানুষ নোনাপানির কবলে আছে তিন বছর ধরে। ওসব এলাকার মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও রক্ষা পাচ্ছে না।