২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের

  • কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হচ্ছে

ফিরোজ মান্না ॥ জনশক্তি রফতানির বাজার ধরতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ বছর নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের পুরনো শ্রমবাজারগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা ও নতুন বাজারের সন্ধানে মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকটি টিম কাজ করবে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে জনশক্তি রফতানির হার বাড়বে। বেশ কয়েকটি দেশে নতুন বাজার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর দেশ থেকে চাকরি নিয়ে বিদেশ গেছেন ৪ লাখ ১৮ হাজার ৪৪৯ কর্মী, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ হাজারের মতো কম। যদিও মন্ত্রণালয় নতুন শ্রমবাজার তৈরি করার জন্য এর আগেও পাঁচটি টিম গঠন করেছিল। ওই পাঁচটি টিম ৭০টির বেশি দেশ সফর করেও কোন কর্মী নিয়োগ করতে পারেনি। শুধু সরকারী অর্থের অপচয়ই হয়েছে। জনশক্তির বাজার বাড়েনি।

সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, জর্দানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের জনশক্তির পুরনো শ্রমবাজার। এসব দেশে জনশক্তি রফতানি প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে। এখন আবার এসব বাজার চাঙ্গা করতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নানা উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে, যাতে ওসব বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। বেশ কযেকটি দেশ কর্মী নিয়োগের জন্য প্রস্তাবও দিয়েছে। ঠিক কোন কোন দেশ কর্মী নিয়োগ করবে, তা বলা হয়নি। তবে মন্ত্রণালয় আশা করেছে, পুরনো শ্রমবাজারগুলো আবার খুলে যাবে। এ বাজারগুলো খুলে গেলে কর্মী নিয়োগ গত বছরের তুলনায় বাড়বে। পুরনো বাজারে কর্মীর প্রয়োজন থাকলেও তারা নানা কারণে কর্মী রফতানিকারক বেশ কয়েকটি দেশ থেকে নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। তবে এটা সাময়িক। বন্ধ থাকা বাজারগুলো থেকেই কর্মী নিয়োগের বেশি প্রস্তাব আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে প্রস্তাব রয়েছে। সৌদি আরবে জনশক্তি বন্ধ না হলেও সেখানে গত কয়েক বছর ধরে কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। গত বছরের শেষদিকে বাংলাদেশ থেকে কয়েক লাখ কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল সৌদি আরব। পরবর্তীতে সেই আগ্রহের আর কোন সুফল পাওয়া যায়নি। তবে তারা নারী কর্মী নিয়োগ করছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, বিদেশে কর্মী নিয়োগের জন্য তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিভিন্ন দেশে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে। প্রতিনিধি দল অনেক দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছে। আশা করা যাচ্ছে বন্ধ শ্রমবাজারের পাশাপাশি নতুন কিছু শ্রমবাজার তৈরি হবে। সম্প্রতি সৌদি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। তবে তারা বাংলাদেশ থেকে কত সংখ্যক লোক নিয়োগ করবেÑ এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে এ বাজারটি বন্ধ ছিল। সৌদি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে বাজারটির বিষয়ে একটি ‘পজিটিভ’ মনোভাব তৈরি হয়েছে। বাজারটি বন্ধের পেছনে নানা বিষয় কাজ করেছে। বাজারটি খুলে গেলে দেশের বিপুলসংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, নতুন যেসব দেশে বাজার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এর মধ্যে রয়েছেÑ ইতালি, সাইপ্রাস, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবেও কর্মী নিয়োগের চেষ্টা চলছে। পুরনো এসব শ্রমবাজারের পাশাপাশি জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধির হার ধরে রাখতে নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানেও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ২০০৯ সালে যেখানে এ দেশ থেকে ১৩২ দেশে শ্রমশক্তি রফতানি হতো, সেখানে এখন ১৬২ দেশে শ্রমশক্তি রফতানি হচ্ছে। শ্রমশক্তির এসব নতুন দেশের মধ্যে ভুটান, সিসিলি, সুইজারল্যান্ড, ঘানা ও জাম্বিয়ায় জনশক্তি নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সাইপ্রাস ও যুক্তরাজ্যে রেস্তরাঁর কাজের দক্ষ কর্মীর চাহিদা আছে। এসব দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর চেষ্টা চলছে। এ কারণে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে দক্ষতা উন্নয়ন তহবিলের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কর্মী রফতানি চালু হলে এ দুটি দেশে কয়েক হাজার কর্মী নিয়োগ হতে পারে। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও শ্রমিক পাঠানোর চেষ্টা করছে সরকার। নিউজিল্যান্ডে মূলত কৃষিভিত্তিক কাজের জন্য কর্মী পাঠানো হবে। এদিকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানিয়েছে, সরকার চলতি বছরের শুরু থেকেই জনশক্তি রফতানি বাড়ানোর কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। পুরনো বাজার হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল প্রতি মাসেই সফর করবে। সৌদি আরবের একটি প্রতিনিধি দল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ওই আলোচনার পর মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনা সফল হয়েছে।