২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেট্রোরেল ॥ সাত দিনের মধ্যে জাইকা ছয় নতুন বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে

এম শাহজাহান ॥ গুলশানে জঙ্গী হামলায় নিহত মেট্রোরেল প্রকল্পের সেই ছয়জন সমীক্ষকের স্থলে নতুন নিয়োগ দিয়েছে জাপান সরকার। আগামী সাত দিনের মধ্যে তারা বাংলাদেশে এসে কাজে যোগদান করবেন। যেকোন জঙ্গী তৎপরতার মুখে যাতে এ প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হতে না পারে- সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকেও সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শেষ করবে জাপান। এ লক্ষ্যে এই প্রকল্পের সঙ্গে জাপানসহ যেসব বিদেশী নাগরিক যুক্ত রয়েছেন তাদের বিশেষ নিরাপত্তা দেয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

প্রসঙ্গত, গুলশানের ক্যাফেতে জঙ্গী হামলায় নিহত জাপানীর মধ্যে ছয়জন মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষক ছিলেন। এছাড়া নিহত সাত জাপানী ঢাকায় জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছিলেন। যাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও দুইজন নারী। টোকিওভিত্তিক তিনটি পরামর্শক কোম্পানিতে কর্মরত ওই সাতজন একসঙ্গে গুলশানের হলি আর্টিজান নামক ওই রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন।

জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদে সুগারের বরাত দিয়ে জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- হাসপাতালে নিহতের ছবি ও জিনিসপত্র দেখে ঢাকায় দেশটির দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের শনাক্ত করেছেন। নিহত ৭ জাপানী হলেন- কোইও ওগাসাওয়ারা- কাতাহিরা এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্টারন্যাশনাল, হিরোশি তানাকা- অরিয়েন্টাল কনসালটেন্টস গ্লোবাল, নোবুহিরো কুরোসাকি- অরিয়েন্টাল কনসালটেন্টস গ্লোবাল, হিদেকি হাশিমতো- অরিয়েন্টাল কনসালটেন্টস গ্লোবাল, ওকামুরা মাকোতো- আলমেক করপ, ইউকো সাকাই- আলমেক-করপ এবং শিমোদায়রা- আলমেক করপ।

জঙ্গী হামলায় জাপানী সমীক্ষক নিহত হওয়ার ঘটনায় মেট্রোরেল প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে নেতিবাচক কথা উঠলেও জাইকার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। ঘটনার পরই জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার জাপান। জঙ্গী হামলায় মেট্রোরেল প্রকল্পের সেই ছয়জন সমীক্ষকের স্থলে পুনরায় নিয়োগ দিয়েছে জাপান সরকার। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি সেতু সচিবের কাছে এসে পৌঁছেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পের ছয়জন সমীক্ষক বাংলাদেশে এসে কাজে যোগদান করবেন। তিনি বলেন, মেট্রোরেলসহ জাপানের চলমান সব প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে চায় জাপান। এ লক্ষ্যে তাদের বাড়তি নিরাপত্তার কথাটিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশীদের নিরাপত্তা বিধানে করণীয় সবকিছু করা হচ্ছে। অর্থ সচিব বলেন, জঙ্গী হামলার ঘটনায় সাময়িক উদ্বেগ-উত্তেজনা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদী কোন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। জঙ্গী তৎপরতা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশও এ সঙ্কট থেকে মুক্ত নয়। দাতাদেশগুলো বিষয়টি বুঝতে পারায় বাংলাদেশ থেকে তারা মুখ না ফিরিয়ে বরং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নে আগের মতোই পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি-জাইকা। সম্প্রতি জাইকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকা।

জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার মেট্রোরেল রুট-৬ প্রকল্পে জাইকা সহায়তা দিচ্ছে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি আরও দুটি রেলরুট নির্মাণের প্রস্তুতি শুরুর কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছে সরকার। ৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে রুট-১ হচ্ছে গাজীপুর থেকে ঝিলমিল প্রকল্প পর্যন্ত। নিহত ছয় জাপানী নাগরিক মেট্রোরেল রুট-১ এবং মেট্রোরেল রুট-৫ প্রকল্পের সমীক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন।