১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ট্রাস্ট্রি বোর্ডের ৩ জামায়াতী সদস্যই নর্থ সাউথের মূল সমস্যা

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে ছাত্র-শিক্ষকদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার আলোচনায় দেশের নামী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী নাফিসের গ্রেফতারের পর কেটে গেছে বেশ কিছুদিন। ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির ও হিযবুত তাহরীরের কর্মকা-ের অভিযোগ ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী শহীদ আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যকা-ে পাঁচ শিক্ষার্থীর জড়িয়ে পড়ার বিতর্ক এখনও চলছে। তবে এবার নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে নর্থ সাউথ। প্রশ্নের মুখে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিও। জঙ্গী হামলাকারী, আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএসের হয়ে হামলার হুমকিদাতাদের তালিকায় চলে এসেছে আলোচিত এ প্রতিষ্ঠানের একের পর এক উগ্রবাদী ছাত্রের নাম। জঙ্গী তৎপরতা বন্ধে রবিবারই এক সভায় বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে নর্থ সাউথ কর্তৃপক্ষ। ঘোষণা দেয়া হয়েছে, এখন থেকে ইউনিভার্সিটির কোন শিক্ষার্থী এক সেমিস্টার অনুপস্থিত থাকলেই তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরী বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। এতে উঠে এসেছে, কোন ছাত্র-ছাত্রী এক সেমিস্টারও অনুপস্থিত থাকতে পারবে না। তাদের নিয়মিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) বেলাল আহমেদ গনমাধ্যমে এ তথ্য দিয়ে বলেছেন, এর আগে পরপর দুই সেমিস্টার অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল হতো। এছাড়া বৈঠকে কোন শিক্ষার্থী টানা ১০ দিন অনুপস্থিত থাকলে তার বিষয়ে তথ্য দেয়া সংক্রান্ত শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। নামী প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েক শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকে জঙ্গী সংগঠনে জড়িয়ে পড়ার তথ্য প্রকাশের পর নর্থ সাউথ কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বৃদ্ধিসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। তবে এখন পর্যন্ত ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। যদিও আইএসের মতো সংগঠনেও ওই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষার্থীর জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মিলেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীর ও শিবিরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি সক্রিয় আছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমন দুটি উগ্রবাদী সংগঠনের কমিটি আছে এমন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কম বলে বলছে সূত্রগুলো। যেখানে পাঠচক্রের আড়ালে শিবির ও হিযবুত তাহরীরের ঐক্যবদ্ধ বৈঠক হওয়ারও অভিযোগ আছে। মূল মালিকানায় থাকা তিন সদস্যের বিরুদ্ধে জামায়াত ও হিযবুত তাহরীরের কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগও আছে। এর মধ্যে জামায়াতের অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত একজন নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো উগ্রবাদী চক্রটিকে। নর্থ সাউথে শিবিরের কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত সাথী শাখা আছে, যারা নানা উপায়ে কাজ করে, কর্মী সংখ্যা ১০০ জনের বেশি। দাওয়াতী কাজে হিযবুত তাহরীর নিজস্ব নামে কাজ করে না। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজীব হায়দার হত্যাকা-ের পর কর্তৃপক্ষ অবশ্য বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু তা কতটা কার্যকর আছে এখন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজীব হায়দার হত্যাকা-ের পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ শিক্ষকের নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর ও শিবিরের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এ পাঁচ শিক্ষক ওই ইউনিভার্সিটিতে ‘পাঠসভা’র নামে ছাত্রদের মধ্যে উগ্রবাদী সংগঠনের প্রচার চালাত বলে তথ্য মেলে। অভিযোগ ওঠে, বারবার ক্যাম্পাস ঘিরে উগ্রবাদী কর্মকা- প্রকাশ হলেও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর ও ছাত্রশিবিরের তৎপরতা দমনে কর্তৃপক্ষের একটি অংশ সব সময় উদাসীন। তবে ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক দুই চেয়ারম্যানের শক্ত অবস্থানে এক সময় পাঁচ শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয় জঙ্গীবাদী কর্মকা-ের দায়ে। সম্প্রতি গুলশানে জঙ্গী হামলা চালানোর পর অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী নিবরাস ইসলাম নিহত হয়েছে। নিবরাস যখন নর্থ সাউথে পড়ালেখা করে তখন সেখানকার শিক্ষক ছিলেন হামলার ঘটনায় আটক হাসনাত রেজা করিম। প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি মোঃ শাজাহান বলছিলেন, এই শিক্ষক আমাদের এখানে মাত্র দুই সেমিস্টার ছিলেন। মৌলবাদী কর্মকা-ের জন্য আমরা কয়েক শিক্ষককে বহিষ্কার করেছিলাম। তিনি তার মধ্যেই ছিলেন। ওই সময় এ ছাত্রও আমাদের এখানে পড়ালেখা করেছে। তাই তাদের দু’জনের যোগাযোগ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।

প্রতিষ্ঠানটির প্রগতিশীল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ করে চলেছেন, জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সারাসরি জড়িত ট্রাস্টি বোর্ডের তিন সদস্য ও কয়েক শিক্ষককের প্রত্যক্ষ মদদে উগ্র মৌলবাদীদের তৎপরতার স্থান হয়েছে নর্থ সাউথ। প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডের একাধিক সদস্য বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। একই সঙ্গে বলেন, রাজীব হায়দার হত্যার সঙ্গে যাদের নাম এসেছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তাদেরও বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এখন যে বিতর্ক তাতে অনেক প্রতিষ্ঠানই জড়িয়ে পড়ছে। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে এ সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন নর্থ সাউথ কর্তৃপক্ষ। জামায়াত- শিবির ও হিযবুুত তাহারীর গোষ্ঠীর কর্মকা-কে উড়িয়ে দিলেন না ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। উচ্চবিত্তের কাছে বাইরে থেকে একটা ভাল ইমেজ তৈরি হলেও দিনের পর দিন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সারাসরি জড়িত মালিকানার তিন সদস্য ও কয়েক শিক্ষককের প্রত্যক্ষ মদদে উগ্রবাদীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হিযবুত তাহরীরের বীজ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৯৯২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর উত্থান ঘটতে থাকে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ছিলেন ডানপন্থী ও বিএনপির মতাদর্শী এক অধ্যাপক। উদ্যোক্তা হিসেবে আরও যারা ছিলেন তাদের প্রত্যেকেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এক্ষেত্রে জামায়াতের এক নীতিনির্ধারক শুরু থেকেই ট্রাস্টি বোর্ডের প্রভাবশালী সদস্য হয়ে জঙ্গীবাদী কর্মকা-কে লালন করছেন।

গুলশানে হামলাকারী নিবরাস ইসলাম ছাড়াও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাতে হামলার ঘটনায়ও নিহত জঙ্গী আবির রহমান নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। এ অবস্থায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বারবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম সামনে আসছে। এবার ব্র্যাকসহ আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। যেহেতু অভিযোগগুলো গুরুতর সেহেতু কোন হেলাফেলা না করে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবর্তে মানুষ খুনের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে কিনাÑ এমন প্রশ্ন তুলে বেসরকারী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি এবং শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের কাছে হামলার প্রসঙ্গ টেনে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, শোলাকিয়ার যুবকও নর্থ সাউথের। ওখানে কী শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, কী লেখাপড়া শেখানো হচ্ছে? ওখানে খুন করার শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এটির বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

এদিকে একই বিতর্কে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিও। গুলশানে হামলাকারী নিহত জঙ্গীদের একজন রোহান ইমতিয়াজ ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। রোহান স্কলাসটিকায় পড়াশোনা শেষ করে পড়ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। তার মা স্কলাস্টিকার শিক্ষক। রোহানদের লালমাটিয়ার বাড়ির নিরাপত্তাপ্রহরী নূরুন্নবী বলেন, ৬-৭ মাস আগে রোহান বাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার পর জিডি করা ছাড়াও বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রোহানের কর্মকা- সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। পরিবারকে জানানো হয়েছিল, সে হয়ত দেশের বাইরে চলে গেছে।

অন্যদিকে গুলশানে হামলার ঘটনার পর কথিত আইএসের বরাত দিয়ে বাংলাদেশী তিন তরুণের ভিডিও প্রকাশ করে সাইট ইন্টেলিজেন্স। ভিডিওর প্রথম তরুণ সাবেক নির্বাচন কমিশনার সফিউর রহমানের ছেলে তাহমিদ রহমান শাফি। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় তার বাড়ি। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটে। তাহমিদ নটর ডেম কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছেন। এর পর তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে পড়েছেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এ ছাত্রকে নিয়েও চলছে হৈচৈ। এরা ছাড়াও আরও অনেক তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন, যারা দেশের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের পরিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নিখোঁজদের খুঁজতে সহায়তা চেয়েছে।

নিখোঁজরা হলেনÑ ঢাকার তেজগাঁওয়ের মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান, বাড্ডার জুনায়েদ খান (পাসপোর্ট নম্বর- এএফ ৭৪৯৩৩৭৮), চাঁপাইনবাবগঞ্জের নজিবুল্লাহ আনসারী, ঢাকার আশরাফ মোহাম্মদ ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর-৫২৫৮৪১৬২৫), সিলেটের তামিম আহমেদ চৌধুরী (পাসপোর্ট নম্বর-এল ০৬৩৩৪৭৮), ঢাকার ইব্রাহীম হাসান খান (পাসপোর্ট নম্বর-এএফ ৭৪৯৩৩৭৮), লক্ষ্মীপুরের এটিএম তাজউদ্দিন (পাসপোর্ট নম্বর-এফ ০৫৮৫৫৬৮), ঢাকার ধানম-ির জুবায়েদুর রহিম (পাসপোর্ট নম্বর-ই ১০৪৭৭১৯), সিলেটের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি (পাসপোর্ট নম্বর-টিকে ৮০৯৯৮৬০) ও জুন্নুন শিকদার (পাসপোর্ট নম্বর-বিই ০৯৪৯১৭২)।

জানা গেছে, এসব শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও জামায়াতের মালিকানাধীন বাংলাদেশ ইসলামিক ইউসিভার্সিটি, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়, দারুল ইহসানসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতরা প্রায় সবাই প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র। এর আগে কিছু অপরাধীকে আমরা চিহ্নিত করেছি, তারাও প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে কী করা যায় তা ভাবা হচ্ছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, সরলমনা ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান ও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের টার্গেট করে জঙ্গী গ্রুপে নেয়া হয়। শুরুতেই তাদের মগজধোলাই করে এ্যাডভেঞ্চারের স্বপ্ন দেখানো হয়। অর্থ-বিত্তের মোহ না থাকায় সরলমনা তরুণরা কথিত ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্নে বিভোর হয়ে বিপথগামী হয়। ‘কতল মিশন’ সাজিয়ে বেহেশতের যাত্রী হওয়ার জন্য তাদের ইসলামের কথিত শত্রু খতমের জন্য তৈরি করা হয়। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে প্রশিক্ষিত করা হয় অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র চালনায়। এর পর টার্গেট চিহ্নিত ও পরিকল্পনা করে তাদের পাঠানো হয়।