২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গী প্রতিরোধে সমাবেশ আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ১৪ দল আহূত আজ সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জঙ্গী-সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধ সমাবেশে দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জোটটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, যারা অগ্নিসন্ত্রাস ও টার্গেট কিলিং করে ব্যর্থ হয়েছে, সেই শক্তিই এখন এসব হামলা চালিয়ে সরকার উৎখাতের গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তারা গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার মাধ্যমে বিদেশের সামনে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে দেখানোর চক্রান্ত করছে। কিন্তু জনগণের শক্তির কাছে এসব অশুভ দানবীয় শক্তি অতীতেও পরাজিত হয়েছে, আগামীতেও হবে।

রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। আজ বিকেল তিনটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দল আহূত সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদবিরোধী প্রতিরোধ সমাবেশ সফল করতেই এ প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে মোহাম্মদ নাসিম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কর্মকা- নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কী লেখাপড়া শেখায়? কেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা জঙ্গী হয়ে উঠছে? এটা এখন জনগণেরও প্রশ্ন। তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পর জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের কথা তুলে ধরে নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের প্রত্যেককে যার যার দায়িত্ব পালন করা উচিত। কারণ গুলশানে ক্যাফেতে হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল হামলা করেই দ্রুত পালিয়ে যাওয়া। যাতে সরকার আরও বিপদে পড়ে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জীবন দিয়েও হামলাকারীদের পালাতে দেয়নি।

সরকারবিরোধী গভীর চক্রান্ত চলছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, যারা আগুন সন্ত্রাস করে, টার্গেট কিলিং করে সরকার উৎখাত করতে পারেনি, তারাই এসব হামলার মাধ্যমে আবারও সরকার উৎখাতের চক্রান্ত করছে। এটা আমাদের নিজের অন্তর দিয়ে বুঝতে হবে। তাই আমাদের আগামীকালের (সোমবার) সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের সমাবেশের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করতে হবে বাংলার মানুষ শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে, শেখ হাসিনার উন্নয়নের সঙ্গে আছে।

কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এই মুখপাত্র আরও বলেন, এরা শুধু জঙ্গী হামলাই নয়, ঈদের দিন ঈদের জামাতে হামলা করে মুসলমান হয়ে মুসলমানকে হত্যা করতে গেছে। এদের উদ্দেশ্য একটাই বিদেশে প্রমাণ করা বাংলাদেশে কোন শান্তি নেই। বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করা। বিশ্বকে দেখানো বাংলাদেশে কোন নিরাপত্তা নেই, বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। বাংলাদেশকে সিরিয়া-আফগানিন্তানের কাতারে আনতে হবে। শেখ হাসিনাকে থামাতে হবে। এই হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশকে নিয়ে দেশী-বিদেশী চক্রান্ত। তাই দেশের প্রয়োজনে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই দানবীয় শক্তিকে পরাজিত করতে হবে। একাত্তরেও আমরা দানবীয় শক্তিতে পরাজিত করেছি মানুষের শক্তি দিয়ে। এবারও করব।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মনে রাখবেন শেখ হাসিনা বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে, আমরা বাঁচব। তাই সমাবেশে লাখ লাখ মানুষের সমাগমের মাধ্যমে বিশ্বাবাসীকে দেখিয়ে দিতে হবে বাংলার জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ আছে, তাঁর পক্ষেই আছে। ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকারী কোন অশুভ শক্তির সঙ্গে নেই।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বাংলাদেশে এই নিষ্ঠুর হত্যাকা- এই প্রথম নয়। আমরা বার বার বলেছি, এসব হত্যাকা-ে জামায়াত-শিবির জড়িত। কারণ ১৯৭১ সালের পাকিস্তানী বাহিনীর হত্যাকা-ের সঙ্গে এসব হত্যাকা-ের মিল রয়েছে। ধর্মের কথা বলে যারা অধর্মের কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে গোটা জাতি সোচ্চার হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এসব কর্মকা- করে দেশকে বিতর্কিত করার জন্য একটি মহল থেকে ষড়যন্ত্রে হচ্ছে। এরা আবার জাতীয় ঐক্যের কথা বলে। কিন্তু জনগণকে নিয়ে তো শেখ হাসিনার ঐক্য গড়ে উঠেছে। তাহলে আমরা আর কাদের সঙ্গে ঐক্য করব? যারা সন্ত্রাসী-জঙ্গী হামলার মদদদাতা, যারা পৃষ্ঠপোষক তাদের সঙ্গে? তাদের সঙ্গে জনগণের জাতীয় ঐক্য হতে পারে না, আওয়ামী লীগের ঐক্য হতে পারে না। এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গী হামলাকারীরা একাত্তরের পরাজিত শক্তি। এরা এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় ভিন্ন ভিন্ন নামে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব) ফারুক খান এমপি, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।