১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠেছে শহর, বাড়ছে কর্মচাঞ্চল্য

আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠেছে শহর, বাড়ছে কর্মচাঞ্চল্য
  • চিরচেনা চেহারায় ফিরছে ঢাকা

মোরসালিন মিজান ॥ ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষ হয়েছে। সরকারী ছুটি শেষে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী। আড়মোরা ভেঙ্গে জেগে উঠছে শহর। একটু একটু করে বাড়ছে কর্মচাঞ্চল্য। ধারণা করা হচ্ছে, আর কয়েকদিনের মধ্যেই আপন চেহারায় ফিরবে রাজধানী।

প্রতিবছর ঈদে সরকারী ছুটি থাকে তিন দিন। এবার নানা যোগ বিয়োগ করে পাওয়া যায় নয় দিনের ছুটি। সরকারের পক্ষ থেকে আগেভাগেই তা জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। যারা সব সময় গ্রামের বাড়িতে ঈদ করেন, তারা এক মুহূর্তও নষ্ট করেননি। অন্যরাও লম্বা ছুটি কাজে লাগিয়েছেন। ঈদ করেছেন গ্রামে। মূল শ্রোতটা নেমেছিল গত ৩০ জুন। এদিন বৃহস্পতিবার হওয়ায় দিনে অফিস করে রাতে গাড়িতে ওঠেন বহু মানুষ। পরের দিন শুক্রবার শ্রোতটি বেড়ে কয়েকগুণ হয়। ট্রেনের টিকেটের জন্য ভোর রাত থেকে অপেক্ষা, বাসে পেছনের সিট, লঞ্চের ডেকে গুটিশুটি হয়ে বসে থাকা। তার পর বাড়ি। প্রিয়জনের মুখটি দেখা। আবেগে জড়িয়ে ধরা। এই আবেগ এই ভালবাসাবাসির দুর্লভ সুযোগ করে দিয়েছিল ঈদ।

একই কারণে মোটামুটি ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল ঢাকা। ঈদের ছুটিতে রাস্তায় নামতেই চোখ কপালে উঠে যায়। চিরচেনা রাস্তাগুলোকে অচেনা মনে হয়। দু’তিনটির বেশি গাড়ি চোখে পড়ে না। যানজটে নাকাল নগরবাসী মুহূর্তেই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চলে যান। বাধাহীন। ফুটপাথগুলো হকারদের দখলে ছিল। সেগুলো যথারীতি গুটিয়ে নেয়া হয়। দোকানগুলো ঘিরে যে জটলা, দেখা যায় না সেগুলোও। ঈদের কয়েকদিন দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমল সব বন্ধ। শূন্যতা যেন গিলে খাচ্ছিল শহর। এভাবে বেশ কয়েকদিন। আর তারপর ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।

রবিবার থেকে খুলেছে সরকারী অফিস আদালত। এদিন মতিঝিলের অফিস পাড়া ঘুরে দেখা যায়, একটু একটু করে বাড়ছে কর্মচাঞ্চল্য। গোটা এলাকা ক্রমশ সরব হয়ে উঠছে। দিলকুশায় অবস্থিত বিসিআইসি ভবনে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী কাজে যোগ দিয়েছেন। পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময় গল্প আড্ডাও হচ্ছে। কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল বললেন, ঈদে তো ভবন খালি করে সবাই চলে যেতে চান। এবারও তা-ই হয়েছে। অনেকেই গ্রামের বাড়ি ঈদ করেছেন। তবে, ছুটি শেষে তাদের বড় অংশটিই কাজে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ দুই একদিন ছুটি বাড়িয়ে নিয়েছিলেন। তারা যোগ দিলে আগের মতোই অফিস কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।

টানা নয়দিন বন্ধ থাকায় ব্যাংকগুলোতে ভিড় ছিল উল্লেখ করার মতো। ছুটির পর প্রথম কার্য দিবসে প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। বিভিন্ন বিল পরিশোধ করতে আসা মানুষ এদিন প্রচুর সময় ব্যাংকের শাখায় ও বিভিন্ন বুথে কাটিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও ছিল কর্মচঞ্চল। ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা জানান, ঈদের পর কাজের চাপ বাড়বে। এমনটি আমরা আগেই ধারণা করে রেখেছিলাম। হয়েছেও তাই। অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী কাজে যোগ দেয়ার পর থেকেই ব্যস্ত।

এদিকে, ঈদ শেষে প্রতিদিনই ঢাকায় ফিরছেন মানুষ। বাস ট্রেন লঞ্চ- সবই পরিপূর্ণ হয়ে শহরে প্রবেশ করছে। রবিবার সকালে কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ট্রেন থেকে বিপুল পরিমাণ যাত্রী নেমে আসছেন। সিলেট থেকে উপবন এক্সপ্রেসে আসা আমিনুর রহমান বললেন, সরকারী চাকরি করি। আজ থেকে অফিস খোলা। তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রামের বাড়ি রেখে ঢাকায় এসেছি। বাসায় ঢুকে হাত মুখ ধুয়ে অফিসের উদ্দেশে রওনা করবেন বলে জানান তিনি। বলেন, এই কদিন গ্রামে থেকে কতকিছু নিয়ে ভেবেছি! আলোচনা করেছি। কিন্তু আজ থেকে আবার ব্যস্ত জীবন। কাজ কাজ আর কাজ। একটু খারাপ লাগছে। তবে, কাজে ঢুকে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

সদরঘাটও আর নীরব হয়ে নেই। প্রতিটি লঞ্চ ভর্তি হয়ে আসছে। বরিশাল থেকে কর্মস্থল ঢাকায় ফেরা শিহাব উদ্দিন বললেন, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পে কাজ করি আমি। কাজের এত চাপ থাকে যে, চাইলেই বাড়ি যাওয়া যায় না। ঈদের ছুটির জন্য অপেক্ষা করে থাকি। এবার লম্বা ছুটি পেয়ে বেশ উপভোগ করলাম। আজ সোমবার থেকে কাজে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি।

গাবতলী বাস টার্মিনালেও অভিন্ন চিত্র। ছোট বড় মাঝারি মাপের বাস শহরে ঢুকছে যাত্রী ভর্তি হয়ে। কুষ্টিয়ায় ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরা জয়নাল আবেদিন বলেন, স্ত্রী ও দুই কন্যা নিয়ে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। সবাই খুব মজা করেছে। কেউ আসতে চায় না। কিন্তু আসতে তো হবেই। প্রফুল্ল মন নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন বলে জানান তিনি।