১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাউন্টি খেলতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন মুস্তাফিজের

কাউন্টি খেলতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন মুস্তাফিজের
  • ১৩ জুলাই ইংল্যান্ড যাচ্ছেন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সাতক্ষীরায় ঈদ কাটিয়ে রবিবার ঢাকায় ফিরেছেন বাংলাদেশ ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। উদ্দেশ ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে যাওয়া। এজন্য ভিসার সব প্রক্রিয়া শেষে ভিসা হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় মুস্তাফিজ। ভিসা মিলতেই ইংল্যান্ড ছুটে যাওয়ার অপেক্ষাতেও আছেন। ১৩ জুলাই ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথাও আছে মুস্তাফিজের। ১৫ জুলাই খেলতে নামার কথাও রয়েছে মুস্তাফিজের।

ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট খেলবেন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বিস্ময়কর পেসার মুস্তাফিজ। সাসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি২০ ব্লাস্ট টুর্নামেন্টে খেলবেন। যেখানে মুস্তাফিজের দল এরইমধ্যে ১০ ম্যাচ খেলে ফেলেছে। ৪টিতে জিতেছে। ৪টিতে হেরেছে। ২টি ম্যাচের রেজাল্ট হয়নি। পয়েন্ট তালিকায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে ৫ নম্বর অবস্থানে আছে সাসেক্স। টুর্নামেন্টটি হচ্ছে দুই গ্রুপে। নর্থ গ্রুপ ও সাউথ গ্রুপ রয়েছে। দুই গ্রুপে ৯ করে মোট ১৮ দল রয়েছে। নর্থ গ্রুপের দলগুলো নিজেদের মধ্যে খেলছে। আর সাউথ গ্রুপের দলগুলোও একই রকম খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। মুস্তাফিজের দল আছে সাউথ গ্রুপে। এই গ্রুপে সাসেক্সসহ আছে গ্ল্যামোরগান, গ্লোচেস্টারশায়ার, এ্যাসেক্স, সারে, কেন্ট, মিডলসেক্স, সামারসেট ও হ্যাম্পশায়ার। আর নর্থ গ্রুপে নর্থাম্পটনশায়ার, নটিংহ্যামশায়ার, ওরউইকশায়ার, ওরচেস্টারশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার, ডারহাম, ডার্বিশায়ার, ইয়র্কশায়ার ও লেচেস্টারশায়ার রয়েছে। ২০ মে শুরু হয়েছে টুর্নামেন্ট। ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হবে ২০ আগস্ট। তিন মাস ধরে চলবে টুর্নামেন্ট।

শুরুতে আইপিএলে খেলতে থাকায় কাউন্টিতে যোগ দিতে পারেননি মুস্তাফিজ। এরপর যখন আইপিএল শেষ হলো, ইনজুরিতে পড়লেন। শুরু হলো তার ইনজুরি সারানোর পুনঃবাসন প্রক্রিয়া। এজন্য ঢাকা লীগেও মাঠে নামতে পারেননি মুস্তাফিজ। জুনের তৃতীয় সপ্তাহে ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়েন বলেছিলন, ‘প্রতি সপ্তাহেই তার এ্যাসেসমেন্ট চলছে। তবে নিজেকে ফিরে পাওয়ার বিষয়টি অনেকাংশে তার নিজের ওপর নির্ভর করছে। কেননা সে যত বেশি ট্রেনিংয়ে সময় দেবে তত দ্রুত নিজেকে ফিরে পাবে। আর এ জন্য আদর্শ সময় হলো এক মাস।’ এমনকি ইনজুরি কাটাতে ছয় সপ্তাহও লেগে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ভিল্লাভারায়েন। মুস্তাফিজ জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে পুনঃবাসন প্রক্রিয়া শুরু করায়, এক মাস হতে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহই লাগার কথা। সেই সপ্তাহ চলছে। কিন্তু এর আগেই মুস্তাফিজ ফিট হয়ে গেছেন। কাউন্টি ক্রিকেটেও খেলতে যাবেন। ভিল্লাভারায়েন যে বলেছিলেন, মুস্তাফিজের নিজের ওপরই সব নির্ভর করে। সেটিই মুস্তাফিজকে যেন ফিট করে তুলেছে।

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছিলেন মুস্তাফিজ। আইপিএল খেলার আগে থেকেই এ সমস্যা ছিল। আইপিএল খেলে এ সমস্যা আরও বেড়েছে। এরসঙ্গে আইপিএল চলাকালে ঠিকমতো না খাওয়ায় ওজনও কমে গিয়েছিল ২ কেজি। এ্যাঙ্কেলের নিচের দিকেও খানিক সমস্যা ছিল। এ তিন সমস্যা দূর করার জন্যই মুস্তাফিজের পুনঃবাসন প্রক্রিয়া চলেছে। যতদূর জানা গেছে, তিনটি সমস্যারই সমাধান হয়ে গেছে। মানে মুস্তাফিজ ঠিক হয়ে গেছেন। মুস্তাফিজ এখন ফিট। আর তাই টুর্নামেন্ট শুরুর ৫৫ দিন পর কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে নামবেন মুস্তাফিজ। ১৩ জুলাই যদি ইংল্যান্ডে যেতে পারেন, তাহলে ১৫ জুলাই হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে হোভে হোম গ্রাউন্ডেই খেলতে নামবেন মুস্তাফিজ। শুরু হয়ে যাবে মুস্তাফিজের কাউন্টি ক্রিকেট ক্যারিয়ার পর্বও।

পুনঃবাসন প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়, তখন থেকেই মুস্তাফিজের কাউন্টি ক্রিকেট খেলা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। তবে টুর্নামেন্ট যেহেতু শেষ হবে আগস্টে, তাই সাসেক্সের অধিনায়ক লুক রাইট কোনভাবেই হাল ছাড়তে রাজি হননি। বলেছিলেন, ‘আমরা মুস্তাফিজের অপেক্ষায় আছি।’ সেই অপেক্ষার প্রহর অবশেষে শেষও হতে চলেছে লুক রাইটের। মুস্তাফিজকে দলে খেলানোর জন্য সাসেক্স কোচ ডেভিসও আশাবাদী ছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী সে (মুস্তাফিজ) দলের সঙ্গে এসে খেলবে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা বোলারদের মধ্যে অন্যতম মুস্তাফিজ। সুতরাং তার আগমনের ব্যাপারে আমরা রোমাঞ্চিত।’ ডেভিসের সেই রোমাঞ্চ শেষ হতে চলেছে। কাউন্টি খেলতে যেতে মুস্তাফিজও কী রোমাঞ্চিত নন! সেই রোমাঞ্চের ইতি ঘটাতেই, ইংল্যান্ড যেতেই, ভিসা হাতে পেতেই ঢাকায় এখন মুস্তাফিজ।