১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দক্ষিণ সুদানে সেনা সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭২

দক্ষিণ সুদানে সেনা সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭২

অনলাইন ডেস্ক॥ দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবায় প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের অনুগামী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে নিহতদের সংখ্যা বেড়ে ২৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে সুদানে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সেখানে কর্মরত বাংলাদে‍শি শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে আছেন বলে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার জুবায় প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাখারের অনুগত সেনাদের মধ্যে লড়াই শুরু হয়।

শুক্রবারও দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই অব্যাহত ছিল। শনিবার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও রোববার শহরের জাতিসংঘ ভবনের সামনে ফের দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়। জুবা থেকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, মর্টার ও ভারি গোলাবর্ষণের কারণে জুবার বাসিন্দরা পালিয়ে যাচ্ছে। শহরের গুদেলে ও জেবেল এলাকায় মাখারের অনুগত সেনাদের অবস্থানের কাছে গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক।

জুবায় অবস্থানরত এক ত্রাণকর্মী বলেছেন, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট জেবেল এলাকা লক্ষ্য করে ভারি গোলাবর্ষণের শব্দ শুনেছি আমরা। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট কির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাখারকে বরখাস্ত করার পর দিনকা নৃগোষ্ঠীর কির ও নুয়ের গোষ্ঠীর মাখারের অনুগতদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। দুই বছর টানা লড়াই চলার পর গত বছর অগাস্টে এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে এর অবসান হয়। কিন্তু শান্তিচুক্তির অন্যতম প্রধান শর্তানুযায়ী দুই নেতার কেউই নিজ নিজ অনুগত বাহিনীকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে পারেননি।

সেনাবাহিনীতে মাখারের সমর্থকদের মুখপাত্র উইলিয়াম গাতজিয়াত দেং জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ভবন ও সেনা ব্যারাকে সংঘর্ষ হয়েছে। তিনি বলেন, শনিবার সকালে আমরা ৩৫ মাখার সমর্থক সেনার এবং ৮০ সরকারি সেনার লাশ উদ্ধার করেছি। জুবার এক হাসপাতালের চিকিৎসক বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, অনেক লাশ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। আর রিয়েক মাখারপন্থী সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, শুক্রবারের সংঘর্ষে অন্তত ১১৫ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার দক্ষিণ সুদানের সাংবাদিক বিবিসিকে জানান, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আটকেপড়া সাংবাদিকরা অন্তত ১০০ মৃতদেহ দেখেছেন। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের ভেতরে এবং বাইরে এসব লাশ পড়েছিল। সর্বশেষ লড়াইয়ে দু’পক্ষের অনেক লোক নিহত হওয়ায় দক্ষিণ সুদানে ফের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্ক করা হচ্ছে। এর আগে দক্ষিণ সুদানের গৃহযুদ্ধে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

নির্বাচিত সংবাদ