১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফরাসিদের শত্রু পর্তুগিজ এদার ফ্রান্সে খেলবেন কিভাবে!

ফরাসিদের শত্রু পর্তুগিজ এদার ফ্রান্সে খেলবেন কিভাবে!

অনলাইন ডেস্ক॥ ফ্রান্সের এক নম্বর শত্রু কে? এখন এই প্রশ্ন করলে নিঃসন্দেহে আসবে ইউরো ২০১৬ ফাইনালের হিরো এদারের নাম। এদারজিতো আন্তোনিও মাসেদো লোপেজ তার পুরো নাম। সংক্ষেপে এদার। প্যারিসে গেলো রাতে পর্তুগালের এই ফরোয়ার্ড ফরাসিদের বুক ভেঙেছেন। বদলী হিসেবে নেমে অতিরিক্ত সময়ে গোল করেছেন। তাতেই ১-০ গোলে স্বাগতিক ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পর্তুগাল। ফ্রান্সের শত্রু নন এদার! কিন্তু এই বছরই যে ফ্রান্সের ক্লাব লিলের সাথে ৪ বছরের পাকা চুক্তি হয়েছে এদারের!

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ২৪ মিনিটে ইনজুরির কারণে মাঠ ছেড়েছেন। পর্তুগিজরা ম্যাচে এরপর কেবল প্রতিরোধ গড়ে গেছে। প্রতিরোধ করে গেছে। বদলী হিসেবে নেমে আলো ছড়াচ্ছিলেন এদার। কিন্তু ১০৯ মিনিটে ফরাসিদের স্তব্ধ করে দিলেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট খেলা ছিল গোলশূন্য। মাঝ মাঠে থেকে আসা বলকে পেছন দিকে পেয়েও প্রতিপক্ষ একজনকে ছিটকে ফেললেন এদার। তারপর এই ফরোয়ার্ড প্রায় ২৫ গজ থেকে প্রবল শট নিলেন। কি ফিনিশিং! গোলকিপার হুগো লরিস ডানে ঝাঁপিয়েও দলকে বাঁচাতে পারেননি। ঐতিহাসিক হিরো হলেন এদার।

এদারকে দেখলেই বোঝা যায় তিনি আফ্রিকান বংশোদ্ভুত। মধ্য আফ্রিকার গিনি বিসাউতে জন্ম। পরিবারের সাথে ছেলেবেলায় পর্তুগালে পাড়ি দেন। ১১ বছরে ফুটবলে হাতেখড়ি। খেলতে পারতেন গিনি বিসাউর হয়ে। কিন্তু বেছে নিয়েছেন পর্তুগালকে। আর এখন তো দেশটির ইতিহাসের অন্যতম একজন এদার। দেশের হয়ে ২৯ ম্যাচে ৪ গোল তার। চতুর্থ গোলটি ঐতিহাসিক। অমর।

এদার ২০১২ থেকে পর্তুগালের জাতীয় দলে। কিন্তু বড় তারকার মর্যাদা নেই। খেলেছেন ২০১৪ বিশ্বকাপেও। বদলী হিসেবে খেলা তার ভাগ্য। অনেকে হয়তো তার কথা আলাদাভাবে মনেও করেন না। যেমন গেলো মৌসুমে তার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ দল সোয়ানসি সিটি তাকে ভেবে নিয়েছিল বাজে বিনিয়োগ!

২০১৫ সালেই পর্তুগালের ব্রাগা থেকে ইংল্যান্ডের সোয়ানসিতে নাম লেখান এদার। তিন বছরের চুক্তি। সাত মৌসুমে পর্তুগিজ লিগে ১৪৩ ম্যাচে ৩৮ গোল করেছিলেন। কিন্তু সোয়ানসিতে ১৫ ম্যাচে একটিও গোল পেলেন না। মাত্র চার ম্যাচে একাদশে ছিলেন। সোয়ানসি তাকে ধারে ফ্রান্সের লিলেতে পাঠালো। মৌসুমের শেষটায় লিলের ১৩ ম্যাচে ৬ গোল করে জায়গা করেছিলেন। এদার সহায়তা করেছেন ক্লাবটিকে ইউরোপা লিগে জায়গা করে নিতেও। বিনিময়ে চার বছরের চুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু ফ্রান্সকে তৃতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হতে না দিয়ে এখন যে ফরাসিদের চক্ষুশূল তিনি! চারটি বছর সেখানে কিভাবে কাটাবেন এদার!

নির্বাচিত সংবাদ