১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফরাসিদের কাঁদিয়ে রোনালদোর পর্তুগাল চ্যাম্পিয়ন

ফরাসিদের কাঁদিয়ে রোনালদোর পর্তুগাল চ্যাম্পিয়ন

অনলাইন ডেস্ক॥ ২৪ মিনিটে কাঁদতে কাঁদতে মাঠের বাইরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। আর খেলতে পারলেন না। কিন্তু প্যারিসের ফাইনালে ফরাসিদের ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হলো পর্তুগাল। বড় আসর নাটকীয় ভাবে নায়কের জন্ম দেয়। বদলী ফরোয়ার্ড এদার নায়ক হলেন অতিরিক্ত সময়ে গোল করে। আর তার গোলেই স্তাদ দি ফ্রান্সে স্বাগতিক ফরাসিদের কাঁদিয়ে ইউরো ২০১৬ এর চ্যাম্পিয়ন পর্তুগিজরা। জয় ১-০ গোলের। তাতে ফুটবলের মহানায়ক রোনালদো দেশের হয়ে প্রথমবারের মতো কোনো বড় শিরোপার দেখা পেলেন।

খেলার নির্ধারিত সময়ে গোল হয়নি। টুর্নামেন্টে তৃতীয়বারের মতো অতিরক্তি সময়ের খেলায় নামলো পর্তুগাল। রোনালদোকে ছাড়া প্রায় পুরো ম্যাচ। ফ্রান্স যে ফাইনালে ফেভারিট। তারপর ফরাসিদের আক্রমণ ঠেকাতে ঠেকাতে ক্লান্তি আসার কথা। কিন্তু পর্তুগিজরা হাল ছাড়েনি। লড়াই করে গেছে। ডিফেন্স করে গেছে। গোল কিপার রুই পাত্রিসিও অনেকগুলো সেভ করে ফাইনালের বীর।

কিন্তু আসল ঘটনা ঘটলো ১০৯ মিনিটে। এই মৌসুমেই ফরাসি ক্লাব লিলের সাথে ৪ বছরের পাকা চুক্তি হয়েছে এদারের। মাঝ মাঠে তৈরি বল বড় বক্সের বাইরে পেলেন এই ফরোয়ার্ড। কসিয়েনলিকে মুহূর্তে ছিটকে ফেলে জোরালো শট নিলেন গোলে। কি অসাধারণ ফিনিশ! হুগো লরিস ডানে ঝাঁপিয়ে পড়েও রক্ষা করতে পারলেন না। কাঁদতে কাঁদতে রোনালদো সাইড বেঞ্চ থেকে মাঠে নামেন উৎসব করতে। এবং শেষ বাঁশির সাথে আবার কাঁদলেন। ২০০৪ এর ফাইনালে হেরেছিলেন ১৯ বছরের রোনালদো। এবার দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩১ বছরের রোনালদো আনন্দাশ্রুতে ভাসলেন। এমনটাই তো চেয়েছিলেন।

অবশ্য দুর্ভাগ্য রোনালদোকে চেপে ধরে শুরুতেই। ৭ মিনিটে পায়েত অনেকটা নিরীহ একটি ট্যাকল করেন রোনালদোকে। মাটিতে পড়ে যন্ত্রণায় কাতর হন খেলোয়াড়। উঠলেন তারপর। কিন্তু ১৭ মিনিটে ব্যথায় চোখে জল নিয়ে চিকিৎসার জন্য মাঠের বাইরে চলে যান। তিন মিনিট পর মাঠে ফিরলেও ২৪ মিনিটের সময় আবার ব্যথায় মাঠে বসে পড়েন। শিশুর মতো কাঁদতে শুরু করেন। নানিকে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরিয়ে দিয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন রোনালদো।

এই আসরে ৬ গোল করে ফ্রান্সের বীর ফরোয়ার্ড আন্তোইন গ্রিজমান। ফাইনালের শুরুতে সপ্তম মিনিটে ফরাসিদের প্রথম সেরা সুযোগটি তৈরি করেছিলেন তিনিই। বাঁ পাশ থেকে পায়েত বল তুলেছিলেন। ছোটোখাটো গড়নের গ্রিজমানের বিপজ্জনক হেডে বল জালে ঢুকছিল। বাতাসে ভেসে বল বাইরে পাঠিয়েছেন গোলকিপার পাত্রিসিও। কর্নার থেকে তৈরি বলকে অলিভার গিরুদও হেডে জালে পাঠাতে চেষ্টা করেছিলেন। বাধা হয়েছেন পাত্রিসিও।

৬৬ মিনিটে আবার নায়ক হওয়ার সুযোগ গ্রিজমানের সামনে। এবার পল পগবা মাঝ মাঠ থেকে দারুণ এক লম্বা পাস করলেন। বদলী কোমান সেই বলকে উড়িয়ে দিলেন বক্সের ভেতর। ৫/৬ গজের দুরত্ব। গ্রিজমান সেই বলকে হেড করে কিভাবে বাইরে পাঠালেন!

৭৫ মিনিটে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্সের মাঝমাঠ। এবার কোমান বক্সের ভেতর পাস ঠেলেছিলেন গিরুদকে। গিরুদ শট নিলেন। কিন্তু ফরাসিদের সামনে চীনের প্রাচীর তুলে দেওয়া পাত্রিসিও সেই বল ঠেকিয়েছেন।

৮০ মিনিটে পর্তুগালের চেষ্টাটাই ছিল ম্যাচে তাদের সেরা। ডান প্রান্ত থেকে বক্সের ধার থেকে বল তুলে মেরেছিলেন নানি। গোলকিপার লরিস লাফিয়ে জালের দিকে ঢুকতে যাওয়া বলকে ক্লিয়ার করলেন। বাঁ প্রান্তে বল বদলী কারেসমার কাছে গেলো। বাতাসে ভাসা বলকে অ্যাক্রোব্যাটিক শটে জালে পাঠাতে চেষ্টা করলেন। ধরে ফেললেন লরিস।

এর চার মিনিট পর পাত্রিসিওর আরেকটি পরীক্ষা নিয়েছেন পুরো ম্যাচে দারুণ খেলা সিসিকো। দূরপাল্লার একটি শট নিলেন গোল লক্ষ্য করে। পাত্রিসিও ডানে বাতাসে ভেসে সেই বলকে সেভ করেছেন।

স্টপেজ টাইমে ভাগ্য খেললো ফ্রান্সের সাথে! বাঁ প্রান্তে বক্সের ভেতর ঢুকে জিগনাক ডিফেন্ডার পেপেকে হার মানালেন। গোল কিপার পাত্রিসিও পারলেন না। কিন্তু জিগনাকের শট গোল পোস্টে লেগে ফিরে এল!

অতিরিক্ত সময়ের খেলার শুরু হলে রোনালদো সাইড বেঞ্চ থেকে উত্তেজনায় খোড়াতে খোড়াতে লাফান। পেপের হেড ছিল। কিন্তু অফ সাইডের পতাকা উঠেছে ততক্ষণে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে এডারের গোল ইতিহাস গড়ে দেয়। পর্তুগাল ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন!

নির্বাচিত সংবাদ