১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএসের টার্গেট এবার শিলিগুড়ি

আইএসের টার্গেট এবার শিলিগুড়ি

অনলাইন ডেস্ক॥ ঢাকার গুলশানের পরে ইসলামিক স্টেট তথা আইএসের আক্রমণের লক্ষ্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিংয়ের একটি শহর শিলিগুড়ি৷ ভারতীয় সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুর (আইবি) এর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে রাজ্য সরকার এবং শিলিগুড়ি কমিশনারেটকে৷ শিলিগুড়িতে হামলার ছক কষা এই জঙ্গিরা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে তাদের ডেরা বেঁধে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে আইবি৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তার পরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে শিলিগুড়ি জুড়ে৷ খবর এই সময়ের।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, গুলশানের হোলে আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানো নিহত নিব্রাস ইসলাম, রোহন ইমতিয়াজদের মত আইএস জঙ্গিদের ঘনিষ্ঠ সঙ্গীদের মধ্যে অন্তত ৪ জন জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে৷ সরাসরি আইবি'র পক্ষ থেকে দেওয়া 'অ্যালার্ট'-এর কথা স্বীকার না করলেও, শহর জুড়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা স্বীকার করেছেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি এস লেপচা৷ জানিয়েছেন, 'সারা বছরই আমরা সতর্ক থাকি৷ ঢাকার ঘটনার পরে আমরা সতর্কতা দ্বিগুণ করেছি৷ সেই মত তল্লাশি অভিযানও চলছে৷

'রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, শিলিগুড়িতে ঢোকা এবং বেরোনোর সব কটি পথে দিনরাত নজর রাখা হচ্ছে৷ এছাড়াও নজরে রয়েছে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, হোটেল, সিনেমা হল, শপিং কমপ্লেক্সসহ সব কয়টি জনবহুল এলাকা৷ সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে শহরে নতুন আসা বিদেশিদের উপর৷ এর পাশাপাশি শহরের সব কটি পাড়ায় নতুন আসা ভাড়াটেদের উপরে নজর রাখার সিদ্ধান্তও হয়েছে৷ শিলিগুড়ি কমিশনারেটের অন্তর্গত পাঁচটি থানা এলাকায় যে সমস্ত ভাড়াটে দীর্ঘদিন তাঁদের ভাড়া বাড়িতে থাকেন না, অথচ নিয়মিত বাড়িওয়ালাকে বকেয়া ভাড়ার টাকা গুণে দেন সময় মত, তাদের রেকর্ডও খতিয়ে দেখবে পুলিশ৷

আইবি সূত্রে জানা যাচ্ছে, গুলশনের ঘটনার পরে ঢাকা থেকে পালাতে মরিয়া ছিল বেশ কয়েকজন জঙ্গি৷ তারা যে কোন উপায়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢোকার উপায় খুঁজছিল৷ ভারত-বাংলাদেশ সংলগ্ন অাসাম সীমান্ত দিয়ে তাদের ৪ জন ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে, অাসাম পুলিশের কাছ থেকে এমন খবর পেয়েছেন গোয়েন্দারা৷ ওই জঙ্গিরা এখন পশ্চিমবঙ্গে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারে, গত কয়েকদিন ধরে এমন আশঙ্কা করছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দারা৷ বাংলাদেশের এই পলাতক জঙ্গিদের মাতৃভাষা যেহেতু বাংলা, স্বভাবতই তারা অাসামের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে থাকতে অনেক বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে, এমনটাই মনে করছেন তারা৷ রাজ্য পুলিশকে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে৷ এদের সন্ধানে ইতিমধ্যেই জোর তল্লাশিও শুরু হয়েছে৷

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার স্বার্থেই যে জঙ্গিরা ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করবে, তা জানেন তুখোড় গোয়েন্দারা৷ কিন্তু তাদের সনাক্ত করার মত কোন নির্দিষ্ট সূত্র এই মুহূর্তে গোয়েন্দাদের হাতে নেই৷ যে চার জন জঙ্গি বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছে তারা গুলশানের জঙ্গিদের 'সাপ্লাই লাইন' হিসেবে কাজ করে থাকতে পারেন বলে অনুমান করছেন ভারতের গোয়েন্দারা৷ গুলশানের মাস্টারমাইন্ড কে বা কারা, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নয় বাংলাদেশ সরকার৷ এর আগে বাংলাদেশে আইএস -এর আস্তানার কথা মানতে চায়নি বর্তমান সরকার৷ পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকার অবশ্য সুর পাল্টেছে৷ আইএস তত্ত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের রাস্তা থেকে সরে এসেছে৷ এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে নাশকতার সম্ভাবনা জাগানো সন্দেহভাজন জঙ্গিদের সন্ধানে দিন রাত এক করে ফেলছেন ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷

সূত্র: এই সময়।

নির্বাচিত সংবাদ