১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছায়াছবির সঙ্গীতে নজরুল

  • জোবায়ের আলী জুয়েল

১৯৪২ সালের ১০ জুলাই অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত নজরুল যেসব চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আবৃত্তিকার, গায়ক, পরিচালক, সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও সংগঠক হিসেবে জড়িত ছিলেন সেই ২০টি চলচ্চিত্রের নাম ও পরিচিতি নিম্নে তুলে ধরা হলো-

জলসা খ- চিত্র : ১৯৩১ সালের ১৩ মার্চ ম্যাডান থিয়েটার্স কর্তৃক সংক্ষিপ্ত নমুনামূলক বাংলা সবাক চিত্র ‘জলসায়’ নজরুল আবৃত্তিকার হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চিত্রে স্বকণ্ঠে একটি গান ও ‘নারী’ আবৃত্তি করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, বাংলা সবাক চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় সেই ঘটনার প্রামাণ্য নিদর্শনটি এখন দুষ্প্রাপ্য। ‘জলসা’ খ- চিত্রটির কোন প্রিন্ট বা নিদর্শন এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভাবতে অবাক লাগে অবিভক্ত ভারতের প্রথম সবাক চিত্র ‘আলম আরার’ একদিন আগে ‘জলসা’ খ- চিত্রটি মুক্তি পায়।

প্রহলাদ ছায়া ছবি : ১৯৩১ সালে ‘প্রহলাদ’ ছবিতে ধীরেন দাসের কণ্ঠে কয়েকটি নজরুল গীতি সুরসহ ব্যবহৃত হয়েছে বলে গবেষক অশোক কুমার মিত্রের সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের ‘প্রহলাদ’ ছবিটির প্রিন্ট এবং বুকলেট দুষ্প্রাপ্য। ফলে এ ছবিতে নজরুল সংশ্লিষ্টতার বিস্তারিত প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় না। প্রিয় নাথ গাঙ্গুলি ছিলেন এ ছবির নির্মাতা।

বিষ্ণুমায়া ছায়াছবি : ১৯৩১ সালে ম্যাডান থিয়েটার্সের ব্যানারে ‘বিষ্ণুমায়া’ ছবিতে ধীরেন দাসের কণ্ঠে নজরুল গীতি সুরসহ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অশোক কুমার মিত্র উল্লেখ করেছেন। ‘বিষ্ণুমায়া’ ছবির প্রিন্ট ও বুকলেট আজও দুষ্প্রাপ্য। ফলে এ ছবিরও বিস্তারিত প্রামাণ্য তথ্যাদি পাওয়া যায় না।

ধুপছায়া ছায়াছবি : ১৯৩১ সালে নজরুল ‘ধুপছায়া’ নামে একটি ছবি পরিচালনা ও সে ছবির সঙ্গীতও পরিচালনা করেন বলে জানা যায়। তিনি এ ছবিতে বিষ্ণুর ভূমিকায় অভিনয় করেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। চলচ্চিত্রের ইতিহাস খুঁজে অবশ্য এ নামে কোন ছবি পাওয়া যায় না। তবে হতে পারে ‘ধুপছায়া’ একটি অসমাপ্ত বা অমুক্তিপ্রাপ্ত ছবি। শোনা যায় পঙ্কজ কুমার মল্লিক এ ছবির গানে কণ্ঠ দেন।

কপালকু-লা ছায়াছবি : ১৯৩৩ সালের ২০ মে চিত্রা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিলাভ করে। কাহিনীকার বঙ্কিম চন্দ্র। অভিনয়ে দুর্গাদাস, উমাশশী, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, নিভাননীসহ অনেকে। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা প্রেমাঙ্কুর আর্তথী। আলোকচিত্রে নিতেন বসু, সুরকার রাইচাঁদ বড়াল, প্রযোজনা নিউ থিয়েটার্স। এ ছায়াছবিতে একটি গান ‘কোন্ কুলে আজ ভিড়লে তরী’ নজরুলের কথা ও সুরে নিভাননীর কণ্ঠে গীত হয়েছে। এ ছবিতে নজরুল গীতিকার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

ধ্রুব ছায়াছবি : ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি কলকাতার ক্রাউন হলে ছবিটি মুক্তি লাভ করে। কাহিনীকার গিরীশ ঘোষ, পরিচালনায় কাজী নজরুল ইসলাম ও সত্যেন্দ্রনাথ দে, সুরকার কাজী নজরুল ইসলাম। অভিনয়ে কাজী নজরুল ইসলাম, মাস্টার প্রবোধ, নিত্যানন্দ ঘটক, মিস ভায়োলেট, পারুল বালা, আঙ্গুর বালাসহ অনেকে। প্রযোজনায় ছিলেন পাইওনিয়ার্স ফ্লিম্স। ‘ধ্রুব’ ছবিটি ছিল সঙ্গীতবহুল। এ ছবির ১৮টি গানের মধ্যে ১৭টি গান রচনা করেন কাজী নজরুল ইসলাম। ‘ধ্রুব’ ছবিতে নজরুলের বহু প্রতিভার সমন্বয় ঘটে। এ ছবির ১৮টি রিলের মধ্যে ১টি রিল বাংলাদেশে ফ্লিম আর্কাইভে রয়েছে। ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রে নজরুল ‘নারদ’ চরিত্রে রূপ দান করেন এবং গানেও কণ্ঠ দেন ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নজরুল বাঙালী মুসলমানদের মধ্যে প্রথম চলচ্চিত্রকার হিসেবে আবির্ভূত হন। নজরুলের বিখ্যাত স্বকণ্ঠে গানটি ছিল ‘ফুটিল মানস মাধাবী কুঞ্জে’। ‘ধ্রুব’ চিত্রে নজরুল রচিত ও সুরারোপিত গানগুলো হচ্ছে- (১) জাগো ব্যথার ঠাকুর (২) অবিরত বাদল বরষিছে (৩) চমকে চপলা মেঘ মগন গগন (৪) ধূলার ঠাকুর, ধূলার ঠাকুর (৫) হরিণামের সুধার (৬) আমি রাজার কুমার (৭) হে দুঃখ হরণ ভক্তের সারণ (৮) শিশুনটবর নেচে যায় (৯) মধুর ছন্দে নাচে আনন্দে (১০) গহন বনে শ্রী হরি নামের (১১) দাও দেখা দাও দেখা (১২) ফুটিল মানস মাধবী কুঞ্জে (১৩) হৃদিপদ্মে চরণ রাখো (১৪) ফিরে আয় ওরে ফিরে আয় (১৫) নাচো বনমালী (১৬) জয় গীতাম্বর শ্যামসুন্দর (১৭) কাঁদিস নে আর কাঁদিস নে। ছবিতে গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত গানটির প্রথম চরণ হচ্ছে (১৮) আয়রে আয় হরি। ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রে নজরুল স্বকণ্ঠে গেয়েছেন ৩টি গান।

পাতালপুরি ছায়াছবি : ১৯৩৫ সালের ২৩ মার্চ কলকাতার রূপবানী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিলাভ করে। কাহিনীকার ও পরিচালনায় শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়। আরেকজন এ ছবির সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার কাজী নজরুল ইসলাম। অভিনয়ে ছিলেন তিনকড়ি চক্রবর্তী, জীবন গঙ্গোপাধ্যায়, মায়া মুখোপাধ্যায়, শিশু বালা, পরেশ বসু, কমলা ঝড়িয়াসহ অনেকে। গীতিকার ছিলেন যৌথভাবে কাজী নজরুল ইসলাম ও শৈলজানন্দ। প্রযোজনায় কালী ফিল্ম (প্রিয়নাথ গাঙ্গুলী)। এ ছবিতে নজরুল রচিত ও সুরারোপিত গানগুলো হচ্ছে Ñ (১) এলো ধোঁপায় পরিয়ে দে (২) আঁধার ঘরে আলো (৩) শিকারী মারিস না তুই (৪) ধীরে চল চরণ (৫) ফুল ফুটেছে কয়লা ফেলা (৬) তালপুকুরে তুলছিল সে শালুক (৭) দুঃখের সাথী গেলি কই (৮) বল কত দূরে যাই। নজরুল এ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার জন্য একটি ভাল হারমোনিয়াম চেয়েছিলেন। কিন্তু বলা বাহুল্য দুর্ভাগ্য তিনি তা পানি। নজরুল তার পরের দিন নিজেই তাঁর গাড়িতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন গ্রামোফোন কোম্পানির একটি হারমোনিয়াম। এ ছবিতে তিনি ‘ঝুমুর’ নামের নতুন সুর সৃষ্টি করেছিলেন।

গৃহদাহ ছায়াছবি : ১৯৩৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার রূপবানী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি লাভ করে। কাহিনীকার শরৎ চন্দ্র, পরিচালনায় প্রমথেশ বড়ুয়া, গীতিকার অজয় ভট্টাচার্য। সুরকার কাজী নজরুল ইসলাম। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল। অভিনয়ে যমুনা সিংহ, মলিনা দেবী, বিশ্বনাথ ভাদুড়ী, প্রমথেশ বড়ুয়া, অমর মল্লিকসহ অনেকে। এই ছায়াছবিতে অহি সান্যালের কণ্ঠে নজরুলের ‘আমার দূরের বন্ধু’ গানটি গাওয়া হয়েছে। অনুমান করা যায় তখনকার সময়ে নজরুলের এই গানটি খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।

গ্রহের ফের ছায়াছবি : ১৯৩৭ সালের ৪ ডিসেম্বর ‘গ্রহের ফের’ ছায়াছবিটি রূপবানী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি লাভ করে। নজরুল হত্যা-রহস্য-রোমাঞ্চ-প্রেম নির্ভর ‘গ্রহের ফের’ সঙ্গীত পরিচালনা করে বিচিত্র ও সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় দেন। ছবিতে অজয় ভট্টাচার্যের লেখা গানে ও সুর দিয়েছিলেন নজরুল। কাহিনীকার ডা. নরেশ সেনগুপ্ত, সংলাপ প্রেমেন্দ্র মিত্র এবং পরিচালনায় চারু রায়। ছবিটির প্রযোজনায় ছিলেন দেবদত্ত ফ্লিমস। ‘গ্রহের ফের’ চলচ্চিত্রে ৬টি গান রচনা এবং সুরারোপ করেন নজরুল।

বিদ্যাপতি ছায়াছবি (বাংলা) : ১৯৩৮ সালের ২ এপ্রিল কলকাতা চিত্রা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিলাভ করে। নজরুলের রেকর্ড নাটক ‘বিদ্যাপতির’ কাহিনী অবলম্বনে বিদ্যাপতি (বাংলা) চলচ্চিত্র তৈরি হয়। চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনায় দেবকী বসু। সুরকার রাইচাঁদ বড়াল, কাজী নজরুল ইসলাম। অভিনয়ে পাহাড়ী সান্যাল, কানন দেবী, ছায়াদেবী, লীলা দেশাই, দুর্গাদাশ বন্দোপাধ্যায়, অমর মল্লিক, দেববালা, প্রফুল্ল, কৃষ্ণচন্দ্র দে (অন্ধগায়ক) সহ অনেকে। গল্প, টেকনিক ও সঙ্গীতে ‘বিদ্যাপতি’ ১৯৩৮ সালের শ্রেষ্ঠ ছবি। এ ছবিতে নজরুলের লেখা গান ও সুর ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলা ‘বিদ্যাপতি’ একযোগে ১৩টি হলে মুক্তি পায়। এর মধ্যে ৭টি হল ছিল বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলে। এই চলচ্চিত্রে কানন দেবীর গাওয়া গানগুলো বিখ্যাত হয়েছিল। বিদ্যাপতি চলচ্চিত্রে কানন দেবীর গাওয়া গানগুলো হলোÑ (১) সজল নয়ন- করি প্রিয়া পথ হেরি (২) অঙ্গনে আয়ব যব রসিয়া (৩) রতি সুখ সারে গত অভিসারে (৪) নব বৃন্দাবন নব নব তরুগণ (৫) সখি বলে পিরিতি ভাল (৬) রাই বিনোদিনী দোলে, ঝুলন দোলায়/একা লাগেনা ভালো, সাথে এসে দোলো শ্যামরায় প্রভৃতি শ্রেষ্ঠ গান হয়েছিল। এর পেছনে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। এ ছবির সংলাপ ও চিত্রনাট্য নজরুলেরই লেখা বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। নিউ থিয়েটার্সের ‘বিদ্যাপতি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নায়িকা ও গায়িকা রূপে কানন দেবীর বৈপ্লবিক প্রতিষ্ঠা হয়। এই প্রতিষ্ঠার নেপথ্যের মানুষটিও ছিল নজরুল। ‘বিদ্যাপতির’ নায়িকা অনুরাধা চরিত্রটি কাহিনীতে যুক্ত করেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। অনুরাধা চরিত্রটি দর্শকদের ভালবাসা পেয়েছিল।

বিদ্যাপতি ছায়াছবি (হিন্দী) : ১৯৩৮ সালের ৪ ডিসেম্বর করাচী ও বোম্বেতে একযোগে মুক্তি লাভ করে। বিদ্যাপতি (হিন্দী) ছায়াছবির বাংলা বিদ্যাপতির হিন্দী রূপান্তর। অভিনয়ে সব চরিত্রে তাই একই কলাকুশলী ছিল কিন্তু হিন্দী ভার্সনে বিদূশকের স্ত্রী চরিত্রে রাম পিয়ারী এবং বিদূশকের চাকর চরিত্রে কেদারশর্মা অভিনয় করেছেন বলে জানা যায়। আরও নাম পাওয়া যায় পৃথ¦ীরাজ কাপুরের। বিদ্যাপতি হিন্দী ছবিতে নজরুলের লেখা গান ও সুর ব্যবহৃত হতে পারে বলে অনেকে অনুমান করেন। এই হিন্দী ছবিতে মোট ক’টি গান ছিল এবং সেগুলো সঠিক কার রচনা ছিল, কোন্ কোন্ শিল্পীর কণ্ঠে গীত হয়েছিল এ তথ্য আজও পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক রাইচাঁদ বড়ালের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায় নজরুল এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সঙ্গীতের ক্ষেত্রেও তাঁর বেশ অবদান রয়েছে (তথ্যসূত্র : গানের কাগজ : কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি সংখ্যা, চতুর্থ বর্ষ, ষষ্ঠ সংখ্যা, নবেম্বর ১৯৭৬, প্রবন্ধ, কাজী দা’কে যতটুকু জানি)। এ ছবির মাধ্যমে নজরুলের সুনাম লাহোর, করাচী, মুম্বাই, কলকাতা, ঢাকা, সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম হয়ে সুদূর রেঙ্গুন পর্যন্ত পৌঁছায়।

গোরা ছায়াছবি : ১৯৩৮ সালের ৩০ জুলাই কলকাতা চিত্রা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিলাভ করে। কাহিনীকার রবীন্দ্রনাথ, পরিচালনায় নরেশ মিত্র। সঙ্গীত পরিচালনায় কাজী নজরুল ইসলাম। আবহ সঙ্গীত আইএস ফ্রাঞ্জ। সহকারী সঙ্গীত পরিচালক কালীপদ সেন। প্রযোজনা দেবদত্ত ফ্লিমস। গীতিকার রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম ও বঙ্কিম চন্দ্র। অভিনয়ে জীবন গঙ্গোপাধ্যায়, রানীবালা, প্রতিমা দাশগুপ্তা, রাজলক্ষ্মী, মোহন ঘোষাল, নরেশ মিত্র, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যসহ অনেকে। ‘গোরা’ ছবিটির মুক্তির মাত্র দু’দিন আগে বিশ্বভারতীর একজন কর্মকর্তা ছবিটিতে ব্যবহৃত রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বেসুরো গাওয়া হয়েছে এবং কবি গুরুর অনুমতি নেয়া হয়নি উল্লেখ করে সেন্সর বোর্ডে অভিযোগ করেন। সেন্সর বোর্ড ছবিটির মুক্তি আটকে দেয়। নজরুলের কাছে সংবাদটি পৌঁছানো মাত্র তিনি কালবিলম্ব না করে নরেশ মিত্রকে সঙ্গে নিয়ে প্রজেক্টর ও ছবির একটি প্রিন্টসমেত শান্তি নিকেতনে চলে যান এবং রবীন্দ্রনাথকে বিষয়টি অবহিত করেন। সব শুনে রবীন্দ্রনাথ বললেনÑ ‘ওহে কাজী ওরা কি আমার গান তোমার থেকে ভাল বোঝে? দাও তো কাগজটা এখনই অনুমতি দিচ্ছি’। ওই দিন সন্ধ্যায়ই কবিগুরুর অনুরোধে চলচ্চিত্রটি শান্তি নিকেতনে প্রদর্শিত হয়। সুযোগ পেয়ে নজরুল রবীন্দ্রপন্থীদের চটাবার জন্য নিজে একটি গান রচনা ও সুরারোপ করে ‘গোরা’ ছায়াছবিতে ব্যবহার করলেন। নজরুলের সেই ঐতিহাসিক মর্যাদাসম্পন্ন গানটিই হলোÑ ‘ঊষা এলো চুপি চুপি রাঙিয়া চলা অনুরাগে।’ আর এই গানটিতে নেপথ্যে কণ্ঠ দান করেছেন শিল্পী ভক্তিময় দাশগুপ্ত। গোরায় নায়িকা রানীবালা সার্থকভাবে গেয়েছিলেন ‘ওহে সুন্দর মম গৃহে আজি পরম উৎসব রাতি’ ‘রোদন ভরা এ বসন্ত, সখী কখনো আসেনি বুঝি মোর বিরহ বেদনা রাঙানো’ গান দু’খানিতে। ‘গোরা’ ছবিতে ‘যে রাতে মোর’ ‘মাতৃ মন্দির পুণ্য অঙ্গন’, ‘সখী প্রতিদিন হায়’ প্রভৃতি গান ও সফল হয় নজরুল ইসলামের সঙ্গীত পরিচালনার জন্য। ছবিটিতে ৩টি রবীন্দ্রসঙ্গীত ছিলÑ (১) সখী প্রতিদিন হায় (২) ওহে সুন্দর মম (৩) রোদন ভরা এ বসন্ত। ‘গোরা’ ছবিতে নজরুলের সঙ্গীত পরিচালনা তাঁর সংযম ও পরিমিত বোধের জন্য সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

হাল বাংলা ছায়াছবি : ১৯৩৮ সালের ২৭ মে কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে ‘হাল বাংলা’ ছবিটি মুক্তি পায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকটাত্মীয় ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (ডিজি) পরিচালিত ‘হাল বাংলা’ চলচ্চিত্রের একটি ছোট্ট চরিত্রে নজরুল অভিনয় করেন বলে জানা যায়। দৃশ্যটি ছিল কৌতুককর।

সাপুড়ে ছায়াছবি (বাংলা) : ১৯৩৯ সালের ২৭ মে কলকাতার পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিলাভ করে। কাহিনীকার নজরুল ইসলাম। গীতিকার ও সুরকার ছিলেন স্বয়ং নজরুল ইসলাম। পরিচালনায় দে বকী বসু। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল। অভিনয়ে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়, পাহাড়ী সান্যাল, কানন দেবী, কৃষ্ণচন্দ্র দে, শ্যাম লাহা, অহি সান্যাল, সত্য মুখোপাধ্যায়, মেনকা, আলাউদ্দিন সরকার, আগা আলীসহ অনেকে। বেদেনীদের জীবন নিয়ে এর আগে আর কোন ছায়াছবি তৈরি হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায় নাই। ‘সাপুড়ে’ ছায়াছবির গান লেখা এবং সুর সংগ্রহের জন্য কাজী নজরুল ইসলামকে কয়েকদিন বেদেদের সঙ্গে থাকতে হয়েছিল। সে আমলে ‘সাপুড়ে’ ছবির গান লোকের মুখে মুখে ফিরতে থাকে। সাপুড়ে ছবিতে যে ৭টি গান ছিল তাঁর ৬টিই লিখেছিলেন কাজী নজরুল। সেখানে কানন দেবীর একক কণ্ঠে গাওয়া ‘আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই’ কথা কইবে না বউ’ খুব জনপ্রিয় হয়েছিল এবং তা এখনও দর্শক স্মৃতিতে অম্লান। ‘সাপুড়ে’ ছবিতে নিউ থিয়েটার্সের শিল্পীদের দিয়ে নিজের কথায় ও সুরে ‘হলুদ গাদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল এনে এনেদে নইলে/বাঁধব না বাঁধব না চুল’ এই সাপুড়ে ছবির জন্য লেখা নজরুলের গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে বেদে জীবন নির্ভর এই চিত্রের ৬টি গান নজরুলেরই লেখা এবং সুর তাঁরই সৃষ্টি। ছবিতে নজরুলের গানসহ ৭টি গান হচ্ছেÑ (১) আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই (২) হলুদ গাদার ফুল (৩) কলার মান্দাস বানিয়ে দাও (৪) কথা কইবে না বউ (৫) পিছল পথে কুড়িয়ে পেলাম হিজল ফুলের মালা (কানন দেবী, পাহাড়ী সান্যাল ও মেনকা দেবীর গাওয়া)। (৬) দেখিলো তোর হাত দেখি (৭) ফুল ফুটে ওই চাঁদ হাসেরে ফুল ফোটানো হাসি (কানন দেবী, পাহাড়ী সান্যাল ও মেনকা দেবীর গাওয়া)।

সাপুড়ে ছায়াছবি (হিন্দী) : ১৯৩৯ সালের ২৪ জুন বোম্বে এবং করাচীতে ছবিটি মুক্তিলাভ করে। বাংলা ছায়াছবির ‘সাপুড়ের’ অধিকাংশ অভিনেতা-অভিনেত্রীই অভিনয় করেন হিন্দী ‘সাপেড়ায়’। এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক রাইচাঁদ বড়ালের স্মৃতিচারণের প্রেক্ষিতে জানা যায় নজরুল এই হিন্দী চলচ্চিত্রের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবেই জড়িত ছিলেন। এই ছবির কাহিনীকার, গীতিকার ও সুরকার ছিলেন নজরুল। সব গানের সুরকার নয় শুধু তাঁর নিজের রচিত গানের সুরকার ছিলেন তিনি। সাপুড়ে ছবির গান (হিন্দী সাপেড়া) নজরুলকে চলচ্চিত্রে খ্যাতি এনে দেয়।

রজতজয়ন্তী ছায়াছবি : ১৯৩৯ সালের ১২ আগস্ট কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিলাভ করে। পরিচালনায় প্রমথেশ বড়ুয়া। সরকার রাইচাঁদ বড়াল, গীতিকার অজয় ভট্টাচার্য। অভিনয়ে শৈলেন চৌধুরী, দীনেশ দাশ ছাড়া প্রেমথেশ বড়ুয়া, পাহাড়ী সান্যাল, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, মেনকা, মলিনা দেবী, সুপ্তা দেবী, সত্য মুখোপাধ্যায়। এই ছায়া ছবিতে নজরুলের একটি গান ‘তুমি কিÑ দখিন হাওয়া’ চিত্রায়িত হয়েছে। (তথ্য সূত্র : গ্রামোফোন রেকর্ড নম্বর জেএনজি ৫৪০৬, কণ্ঠ দিয়েছেন অভিনেত্রী মলিনা দেবী। এই গানটি পরবর্তীকালে মেনুকা ব্যানার্জির কণ্ঠে টুইন রেকর্ড নম্বর এফটি-১৩৯০০তে প্রকাশিত হয় ১৯৪১ সালের জুন মাসে।)

নন্দিনী ছায়াছবি : ১৯৪১ সালের ৮ নবেম্বর কলকাতার রূপবাণী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিলাভ করে। কাহিনীকার ও পরিচালক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়। সুরকার হিমাংশু দত্ত সুর সাগর। গীতিকার সুবল মুখোপাধ্যায় ও প্রণব রায়। কুমুদ রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় নিবেদিত কেবি পিকচার্সের ছায়াছবি। অভিনয়ে অহীন্দ্র চৌধুরী, যোগেশ চৌধুরী, জহর গঙ্গোপাধ্যায়, ধীরাজ ভট্টাচার্য, ইন্দু মুখোপাধ্যায়, ফণী রায়, মলীনা দেবী, রাধারানী, প্রভাদেবীসহ অনেকে। এই ছায়াছবিতে নজরুলের কথা ও সুরে একটি গান ‘চোখ গেল চোখ গেল’ কুমার শচীন দেব বর্মণের কণ্ঠে গীত হয়েছে।

চৌরঙ্গী ছায়াছবি (বাংলা) : চৌরঙ্গী নামে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ শুরু হয় ১৯৪০ দশকের প্রথম দিকে। তবে ছবিটি মুক্তি পায় নজরুলের অসুস্থতা শুরু হওয়ার সময়ে ১৯৪২ সালে (১৯৪২ সালের ১০ জুলাই নজরুল বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন)। এই চলচ্চিত্রে নজরুল গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক এবং নেপথ্যে সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা চৌরঙ্গী ছায়াছবিতে নজরুলের ৮টি গান রয়েছে। গানগুলো হলোÑ (১) রুম ঝুম ঝুম (২) জান্নাত পান্না হীরার বৃষ্টি (৩) সারাদিন ছাদ পিটি (৪) চৌরঙ্গী চৌরঙ্গী (৫) প্রেম আর ফুলের (৬) ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি (৭) ঘর ছাড়া ছেলে (৮) ওগো বৈশাখী ঝড়। বাংলা ‘চৌরাঙ্গী’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন নবেন্দু সুন্দর। বাংলা চৌরঙ্গীর গান ও সুর সেকালে জনপ্রিয় হয়েছিল।

চৌরঙ্গী ছায়াছবি (হিন্দী) : হিন্দী চৌরঙ্গী ছবিটি পরিচালনা করন এস ফজলী। ছবিতে গানের সংখ্যা ১৩টি। এর মধ্যে ৭টি গানের গীতিকার ও সুরকার ছিলেন ইসলাম। নজরুলের হিন্দী ৭টি গান হলোÑ (১) চৌরঙ্গী হ্যাং ইয়ে চৌরঙ্গী (২) সারা দিন ছাদ পিটি (৩) আ-জারিনি দিয়া (৪) উহ করকে আয় (৫) মো উমপে গুজরাতি (৬) ক্যায়সে মিলান (৭) হাম ইসকে মারোকা। হিন্দী চৌরঙ্গীর গান ও সুর সে সময়ে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল।

চিরকালের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে যাবার আগে কাজী নজরুল ইসলাম সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন ফজলি ব্রাদার্সের ‘চৌরঙ্গী’ ছবির সূত্রে তাতে গীত রচনা এবং দুর্গাসেনের সঙ্গে যুগ্মভাবে সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন নজরুল কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বিদ্রোহী কবি স্তব্ধ হয়ে যাবার দু’মাস পরে।

মদিনা ছায়াছবি (চলচ্চিত্রায়িত হয়নি) : বিটি পিকচার্স থেকে নজরুল নিজের লেখা কাহিনী, চিত্রনাট্য, সংলাপ, গান ও সুর অবলম্বনে ‘মদিনা’ নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনার কথা ঘোষণা করেন। ‘মদিনা’ চলচ্চিত্রের জন্য নজরুল গান ও সুর রচনা করেন এবং চিত্রনাট্যের প্রাথমিক খসড়াও তৈরি করে। কিন্তু আর্থিক অবস্থা ও হঠাৎ অসুস্থতার কারণে ‘মদিনা’ আর চলচিত্রায়িত হয়নি। ‘মদিনা’ খসড়ায় ৪৩টি গান ছিল। এর মধ্যে ১৫টি গান ‘মদিনা’ চলচ্চিত্রের জন্য মনোনীত করেছিলেন নজরুল।

সবচেয়ে বেশি গান নজরুল লিখেছিলেন ‘ধ্রুব’, ‘পাতালপুরি’ এবং ‘সাপুড়ে’ ছবির জন্য। ‘ধ্রুব’ ছবির অধিকাংশই যেমন ভক্তিরসাশ্রিত, তেমনি অন্য দুটি ছবিতে লোকসঙ্গীতের আঙ্গিক পেয়েছিল প্রাধান্য।

নজরুল অসুস্থতার পর (১৯৪২ সালের ১০ জুলাই সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন) আরও কয়েকটি চিত্রে তাঁর রচিত গান ও সুর ব্যবহৃত হয়েছে। প্রেমাংকুর আর্তথী পরিচালিত ‘দিকশূল (১৯৪৩ খ্রিঃ)’ চিত্রে দুটি গান ‘ঝুমকো লতার জোনাকি’ ও ‘ফুরাবে না মালা গাঁথা’। নজরুলের অসুস্থতার পর এই ছবিতেই প্রথম নজরুলের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া পঙ্কজ কুমার মল্লিকের সুরে নজরুলের এই দুটি গান ব্যবহৃত হয়েছে।

‘শহর থেকে দূরে (১৯৪৩ খ্রিঃ)’ ছবির অন্যতম গীতিকার ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। টাইটেলে ও এ ছবিতে তাঁর নাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘অভিনয়-নয় (১৯৪৫ খিঃ)’ চলচ্চিত্রে গিরিন চক্রবর্তীর সুরে নজরুলের একটি গান ব্যবহৃত হয়েছিল। নজরুলের গানটি ছিল ‘ও শাপলা ফুল নেব না বাবলা ফুল এনে দে’। শিল্পী গিরিন চক্রবর্তী এবং শেফালী ঘোষের দ্বৈত কণ্ঠে গানটি গীত হয়েছে। তাছাড়া ১৯৪৫ সালে ‘দিলরুবা’ চলচ্চিত্রে নজরুলের কথা ও সুরে গান পরিবেশিত হয়েছে। নজরুল বাকরুদ্ধ হওয়ার পর এই কয়টি চলচ্চিত্রে তার যুক্ততার পরিচয় পাওয়া যায়। পরবর্তীকালেও অনেক ছায়াছবিতে তাঁর গান ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সেগুলোর যথেষ্ট তাত্ত্বিক প্রমাণাদি না থাকায় নজরুলের কাজ হিসেবে উল্লিখিত হয় না।

অসুস্থ হওয়ার পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কয়েকটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রেও নজরুলকে দেখা যায় প্রত্যক্ষভাবে। তবে এসব ছবিতে অন্যেরা তাঁকে ব্যবহার করেছেন। উৎসাহী জনগণের কাছে এসব ছবি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, এতে জীবন্ত নজরুল দেখা যায়। দেখা যায় ঘুমন্ত বিদ্রোহী সিংহকে।

পরবর্তীতে দুই বাংলায় কিছুসংখ্যক ছবিতে নজরুল গীতির ব্যবহার হয়েছে। ‘৪৯ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, ‘৫২ সালের দর্পচূর্ণ, ‘৬২ এর দাদা ঠাকুর বা পরে বিরাজ বৌ, সম্রাট, অর্জুন, অসময়, বার বধূ ছবিতে নজরুলের গান শোনা গেছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা, হাসুলী বাঁকের উপাখ্যান, সুবর্ণ গোলক, দেবদাস, নীলকণ্ঠ, মৃত্যুক্ষুধা (অসমাপ্ত), আগমন, কোথায় যেন দেখেছি, বধূ বিদায়, লাইলি মজনু, রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা, শান্তি প্রহরী, নবদিগন্ত ছবিতেও ব্যবহার হয়েছে নজরুল গীতি।

সত্যজিৎ রায় তাঁর নিজের সঙ্গীত পরিচালনায় প্রথম ছবি, ‘তিনকন্যা’র সমাপ্তি পর্বে নজরুলের ‘বসিয়া বিজনে’ গানটি দারুণ তাৎপর্যে ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৭০ সালে জহির রায়হান তাঁর নির্মিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রে নজরুলের ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানটি সার্থকভাবে ব্যবহার করেন যা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জনগণকে উজ্জীবিত করেছিল।

আমাদের দেশে সর্বশেষ কাজী নজরুলের কাহিনী অবলম্বনে মুশফিকুর রহমান গুলজার ও মৌসুমী নির্মাণ করেন ‘মেহের নেগার’ এবং মতিন রহমান নির্মাণ করেন ‘রাক্ষুসী’। এ দুটি চলচ্চিত্র ছাড়া এখানে নজরুলকে নিয়ে বর্তমানে আর কোন উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি।