১৮ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাঁচ বছরে জামিন মিলেছে পাঁচ শতাধিক জঙ্গীর

  • দুর্বল তদন্ত, আইনী জটিলতা

আরাফাত মুন্না ॥ দুর্বল তদন্ত, বিচারে দীর্ঘসূত্রতাসহ নানা আইনী জটিলতায় জামিনে বেরিয়ে যাচ্ছে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার আসামিরা। আদালত থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে পাঁচ শতাধিক সন্দেহভাজন জঙ্গীর জামিন মিলেছে। এসব মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, আসামিপক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ও ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন আদালত আসামিদের জামিন আদেশ দিয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ এসব জামিন বাতিলে আপীল করেনি।

নথি সূত্রে জানা গেছে, জামিন পাওয়াদের মধ্যে হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে ৪২১ জনের বিরুদ্ধে। ৪২ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। এছাড়া হুজির ১৫ এবং আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে ৪ জনের বিরুদ্ধে। আইএস ও হামজা ব্রিগেডসহ অন্যান্য জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ২০ জনেরও বেশি আসামি জামিন পেয়েছে গত পাঁচ বছরে।

অভিযোগ রয়েছে, আমলি থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ ও রাষ্ট্রপক্ষের কাজে সমন্বয় নেই। সঠিক তদন্ত না হওয়া, মামলার আইনী প্রক্রিয়ায় ভুল থাকা এবং বিলম্বিত বিচারপ্রক্রিয়ার কারণেই জঙ্গী তৎপরতা কমছে না বলে মনে করেন অনেক আইনজীবী। তাদের মতে, তদন্তের দুর্বলতা ও মামলার আইনী প্রক্রিয়াগত ত্রুটির সুযোগ নিয়ে জামিনে বেরিয়ে যায় জঙ্গীরা। এতে তাদের মনোবল বেড়ে যায়। এছাড়া বিচার ও দ- কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণে কারাগারে থেকেই বাইরের অনুসারীদের নানা নির্দেশনা দিচ্ছে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গী নেতারা। আর একের পর এক হত্যাকা- ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অনুসারীরা।

এদিকে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতারকৃতদের জামিন এবং মুক্তি ঠেকাতে একটি কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করার প্রয়োজনের কথা বললেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি সেল গঠন করা গেলে জঙ্গীদের জামিন ও মুক্তি ঠেকানো সম্ভব হবে।

এর আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জঙ্গীদের জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর হতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সম্প্রতি নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী বিচারকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তিনি এ অনুরোধ জানান।

মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের তথ্য থেকে জানা যায়, ২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সময়ে জেএমবি সদস্যদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় ৪৪টি মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এসব মামলার অধিকাংশ আসামিই বর্তমানে জামিনে রয়েছে। হিযবুত তাহরীরের সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা ১৩০টি মামলায় প্রায় সব আসামি জামিনে বেরিয়ে গেছে। তাদের কেউ কেউ নিয়মিত আদালতে হাজিরাও দিচ্ছে না।

আলোচিত ঘটনায় জামিন ॥ পুরান ঢাকার হোসেনী দালানে গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে রাজধানীর গাবতলীতে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইব্রাহিম মোল্লা হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচ আসামিও জামিন পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত ও হাইকোর্ট থেকে আলোচিত এই দুই মামলার নয় আসামি জামিন পায়। আসামিরা জঙ্গী সংগঠন সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশের ভাষ্য। হোসেনী দালানে গ্রেনেড হামলা মামলায় জামিন পেয়েছে হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ, মোঃ শাহজালাল, ওমর ফারুক ওরফে মানিক ও চাঁন মিয়া। এএসআই ইব্রাহিম হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছে শেখ রফি আহম্মেদ, মাসুদ রানা ওরফে রিফতী, ইউনুস আলী, তৌফিকুর রহমান ও মিজানুর রহমান।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন আইএসের (ইসলামিক স্টেট) সদস্য সন্দেহে গ্রেফতার কাজী সাইফ উদ্দিন ইয়াহিয়া গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পেলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২০১৩ সালে ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার সাদ আল নাহিন, কামাল হোসেন সরদার, কাউছার হোসেন ও কামাল উদ্দিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। ওই বছরের ২৮ জুলাই নাহিনকে জামিন দেন ঢাকার তৎকালীন মহানগর দায়রা জজ জহুরুল হক। নাহিনের জামিনদার ছিলেন তার চাচা শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক। এর দুদিন পর কাউছার ও কামাল উদ্দিনকে জামিন দেন ঢাকার মহানগর হাকিম এম এ সালাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে কামাল হোসেন সরদারও জামিন পেয়ে যায়। এরপর গত বছর আগস্টে খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ানে ব্লগার নীলাদ্রি চট্ট্যোপাধ্যায় নিলয় খুন হলে নাহিন, কাওসার ও কামাল হোসেন সরদারকে আবারও গ্রেফতার করে পুলিশ।

২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোপীবাগে কথিত পীরের বাসায় ঢুকে ছয়জনকে হত্যার মামলায় গ্রেফতার জেএমবির মোঃ আজমীর গত বছর ২৬ এপ্রিল ও গোলাম সারওয়ার ১৪ জুন হাইকোর্ট থেকে জামিন পায়। ওই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপীল করেনি বলে আদালতের নথি থেকে জানা গেছে। ২০১৪ সালে আইএস সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক ব্রিটিশ নাগরিক সামিউন রহমান ইবনে হামদান, সাবেক বিচারপতির ছেলে আসিফ আদনান ও সাবেক যুগ্ম সচিবের ছেলে ফজলে এলাহী হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এর মধ্যে আসিফের জামিন ছিল অন্তর্বর্তীকালীন। গত বছর ৩ আগস্ট ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

২০১২ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা কলাবাগান থানার এক মামলার ৩৫ আসামির সবাই গ্রেফতারের কয়েক মাসের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে যায়। সব আসামিই হিযবুত তাহরীরের সদস্য বলে মামলার নথি থেকে জানা যায়। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হিযবুত তাহরীরের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা গোলাম মাওলা ও মাকসুদুর রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১ ডিসেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এরপর ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান সৈয়দ গোলাম মাওলা।

আরও যারা জামিনে আছে ॥ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে পাঁচ শতাধিক জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। অনেকেই জামিন পেয়ে আর আদালতে হাজিরা দিচ্ছে না। এদের মধ্যে রয়েছে ফারুক আহম্মেদ, শরিফ, খাইরুল ইসলাম, ময়েজ উদ্দিন, মহব্বত ওরফে তিতুমীর ওরফে নাহিদ, ওয়ালিউল্লাহ ওরফে হামিদ শফিক, মিলন, সবুজ, সাজেদুর, মানিক, মাজিদ, কফিল উদ্দিন ওরফে রব মুন্সি, আজিবুল ইসলাম ওরফে আজিজুল, শাহান শাহ, হামিদুর রহমান, বজলুর রহমান, বাবর, মাওলানা শফিকুর রহমান, মাওলানা ইদ্রিস আহম্মদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিরাজগঞ্জের আবদুল আজিজ, নরসিংদীর মোস্তফা কামাল, কক্সবাজারের রেজাউল করিম, চট্টগ্রামের রেজাউল, কিশোরগঞ্জের শরিয়তউল্লাহ, চাঁদপুরের মুসা আহম্মদ, কক্সবাজারের হাফেজ রফিকুল ইসলাম, হাফেজ সিরাজুল করিম, আনোয়ার উদ্দিন জাবেদ, ওসমান ও হাবিব, হুজির বিস্ফোরক বিভাগের প্রধান প্রশিক্ষক মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম, শারীরিক বিভাগের প্রধান প্রশিক্ষক হাফেজ জাহাঙ্গীর বদর, মাওলানা আবদুর রহমান, খুলনার হাফেজ মোহাম্মদ আবু তাহের, আবুল হোসেন ওরফে আবুল হাসেম, ফেনীর গিয়াস উদ্দিন, আবদুল আজিজ, জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রামের সাখাওয়াত হোসেন, কামরুল ইসলাম নুরুল আলম, কুমিল্লার দিদারুল আলম, ময়মনসিংহের আবুল কাশেম, কুমিল্লার ইউসুফ, হবিগঞ্জের নুরুল হক, মাওলানা আবু তাহের, মহিবুর রহমান, মৌলভীবাজারের আবদুল হক, বাগেরহাটের মমতাজ উদ্দিন, নাঈম, আসাদ, সোহাগ, গোপালগঞ্জের বোরহান উদ্দিন মাসুম, রাজবাড়ীর হাফেজ আলী ইয়াস আহম্মদ, পটুয়াখালীর ইব্রাহিম ওয়ালিউল্লাহ, গোপালগঞ্জের খালেদ, দিনাজপুরের রাশিদুল ইসলাম, চাঁদপুরের আবু জিহাদ, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা আবু বক্কর, সাঈদ আহম্মদ অন্যতম। এসব আসামির বর্তমান অবস্থান জানা যায়নি।

জামিন পেয়ে আবার অপরাধে ॥ ২০১৩ সালের ১৪ জানুয়ারি উত্তরায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। আসিফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ওই বছরের ২৬ জানুয়ারি গ্রেফতার হয় সাদ আল নাহিন, কামাল হোসেন সর্দার, কাউছার হোসেন ও কামাল উদ্দিন নামে চারজন। চার আসামিই আসিফ মহিউদ্দীনকে কুপিয়ে আহত করার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীও দেয়। তারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জবানবন্দীতে সাদ আল নাহিন বলেছে, সে নিজে আসিফ মহিউদ্দীনকে ধারালো ছুরি দিয়ে ঘাড়ে কোপ দেয়। তসলিমা নাসরিনসহ নাস্তিক-মুরতাদদের হত্যা করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয় বলে জবানবন্দীতে তিনি উল্লেখ করেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর পরও ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই নাহিনকে জামিন দেন ঢাকার তৎকালীন মহানগর দায়রা জজ জহুরুল হক। নাহিনের জামিনদার ছিলেন তার চাচা মুজিবুল হক।

নাহিনের জামিনের মাত্র দুদিন পর কাউছার ও কামাল উদ্দিনকে জামিন দেন ঢাকার মহানগর হাকিম এম এ সালাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে কামাল উদ্দিনও জামিন পায়। গত বছর ৭ আগস্ট খিলগাঁও পূর্ব গোড়ানের ভাড়া বাসায় ব্লগার নীলাদ্রি চ্যাটার্জি ওরফে নিলয়কে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় করা মামলায় সাদ আল নাহিন, কাউছার ও কামাল হোসেন সরদারকে আবারও গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে (বাবু) গত ৩০ মার্চ তেজগাঁও শিল্প এলাকার দক্ষিণ বেগুনবাড়ীতে রাস্তার ওপর কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে হিজড়াদের সহযোগিতায় পুলিশ জিকরুল্লাহ ও মোঃ আরিফুল ইসলাম নামে দুজনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ২০১২ সালে গ্রেফতার হয়েছিল।

কো-অর্ডিনেশন সেল চান এ্যাটর্নি জেনারেল ॥ জঙ্গী সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতারকৃতদের জামিন এবং মুক্তি ঠেকাতে একটি কো-অর্ডিনেশন সেল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন পরামর্শ দেন তিনি। জঙ্গীরা আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে যাচ্ছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবাদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জামিন পেয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি কো-অর্ডিনেশন সেল থাকা দরকার।

তিনি আরও বলেন, যারা জঙ্গী কম্পিউটারে তাদের নাম থাকা উচিত। সেই তথ্য প্রত্যেক জেলার পিপিরাও যাতে কম্পিউটারের বোতাম টিপলেই পান সে ব্যবস্থাও থাকতে হবে। আমার অফিসও যাতে বোতাম টিপলেই কোন জেলায় সন্ত্রাসী মামলায় কারা আটক আছে, তাদের জামিন কখন হয়েছে বা জামিন আবেদন কখন করা হয়েছে, এটা জানতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। এ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এ ধরনের সেল শুধু থাকলেই হবে না, তাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারী আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগও রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত ইনফরমেশন টেকনোলজির যত এপ্লিকেশন হবে এটা ততই ত্বরিত গতির হবে।

এ ধরনের সেলের প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত জঙ্গীরা নানারকম চালাকির সুযোগ নিচ্ছে। দরখাস্তে লিখছে ১৭ নম্বর কোর্টে মুভ করবে। কিন্তু মুভ করছে ১৩ নম্বর কোর্টে।

এছাড়া জঙ্গীদের জামিনের ক্ষেত্রে এজাহার ও চার্জশীটে যেন দুর্বলতা না থাকে সেই বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলেন এ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা জঙ্গীদের বিরুদ্ধে এজাহার ঠিকমতো না করা, প্রাপ্ত আলামত সঠিকভাবে উল্লেখ না করা অথবা চার্জশীট যদি ঠিকমতো না দেয়ায় তার ফাঁকফোকর দিয়ে অনেকেই জামিনের সুযোগ নিচ্ছে।

জঙ্গী মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার জবাবে তিনি বলেন, ‘মূল আদালত তাদের মৃত্যুদ- দিলেও হাইকোর্ট সেটাকে কনফার্ম না করলে অথবা বহাল না রাখলে তা কার্যকর করা যায় না। এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পঞ্চম সংশোধনীর প্রেক্ষিতে এখন মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ-ে দ-িত যে কোন লোক আপীল করলে তা অটোমেটিক আপীল হিসেবে ট্রিট হয়, লিভ পিটিশন হিসেবে নয়। তাই মৃত্যুদ-প্রাপ্ত প্রত্যেক আসামি তিনটা কোর্টে বিচারের সুযোগ নিতে পারছে। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে সময় বেশি লাগছে।