১৮ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আস্থার প্রতীক র‌্যাব

গত বুধবার রাজধানীতে র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দরবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা র‌্যাবের সদস্যদের প্রতি দিকনির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্যে জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে র‌্যাবের প্রতি পেশাগত নৈতিকতা উর্ধে তুলে ধরে কর্তব্য পালনের আহ্বানও জানান তিনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেনÑ নৈতিক স্খলন যে কোন বাহিনীর মনোবল দুর্বল করে দেয়। স্মরণযোগ্য, বর্তমান সরকারের সময়ে এ বাহিনীর নতুন নতুন ব্যাটালিয়ন উদ্বোধন করা হয়। র‌্যাবের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাবের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব বাংলাদেশ পুলিশেরই অপরাধ ও সন্ত্রাসবিরোধী ‘এলিট ইউনিট’ হিসেবে এর মধ্যেই দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও জঙ্গী সংগঠনের তৎপরতা দমনে এলিট ফোর্স র‌্যাব দেশের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমন, অপহরণ, ভেজালবিরোধী অভিযান, অবৈধ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে র‌্যাবের সাফল্য সর্বজনস্বীকৃত। ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত র‌্যাবের সদস্য হিসেবে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ পুলিশ, আনসার, বর্ডার গার্ড (বিজিবি) নিযুক্ত করা হয়। একই বছর ১৪ এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু করে র‌্যাব দেশের আইনশৃঙ্খলাসহ আমাদের নিরাপত্তার সামগ্রিক দায়িত্বে প্রশংসনীয় অনেক অবদান রেখেছে। অভ্যন্তরীণ ৯টি বিভাগ নিয়ে র‌্যাবের প্রধান দফতর তাদের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। দেশজুড়ে র‌্যাবের ১২টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে পাঁচটিরই অবস্থান রাজধানীতে। মূলত র‌্যাব দেশের সব এলাকা থেকে অপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ করে। প্রাপ্ত তথ্য তাদের ইন্টেলিজেন্স উইং নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। র‌্যাবের দায়িত্ব ও কর্তব্য দিন দিন আরও বাড়ছে। অস্বীকার করা যাবে না যে, জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদ দমনসহ কিছু বিষয়ে র‌্যাবের অর্জন অনেক। অপরাধ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ‘রিপোর্ট টু র‌্যাব’ নামে একটি মোবাইল এ্যাপ চালু করা হয়েছে। যা অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে সহায়তা করছে। অপরাধী শনাক্ত করতে র‌্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সময়োপযোগী। এ বাহিনীতে অস্পষ্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ, টেলিফোন সেট ট্রাকিংয়ের যন্ত্রসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে। র‌্যাবের অপারেশনাল শক্তি বৃদ্ধি করতে দুটি হেলিকপ্টারসহ প্রয়োজনীয় যানবাহন বরাদ্দ করা হয়েছে সাম্প্রতিককালে। ফলে র‌্যাব জল, স্থল ও আকাশ পথে দ্রুত অভিযান কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে। পরিণত হয়েছে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে।

তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে র‌্যাব ক্রসফায়ারের মাধ্যমে বেশি আলোচিত হয়। ক্রসফায়ার নিয়ে দেশে-বিদেশে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের। বিগত ১৩ বছরে দেশে-বিদেশে র‌্যাব যেমন প্রশংসিত হয়েছে, ঠিক তেমনি সমালোচিতও হয়েছে। অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, র‌্যাব দেশের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। সামনের দিনগুলোয় এই বাহিনী আরও দায়িত্বশীলতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার পরিচয় দেবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার মাধ্যমে উত্তরোত্তর এগিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা।