১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইয়ুথ অপরচুনিটির ‘ওসামা বিন নূর’

ডিপ্রজন্ম- আপনাদের তৈরি এ্যাপ ‘ইয়ুথ অপরচুনিটি’ নিয়ে কিছু বলুন-

ওসামা- আমাদের এ্যাপটি মূলত সারাবিশ্বের তরুণদের একটি প্লাটফর্মে তাদের প্রয়োজনীয় ইভেন্টগুলো সম্পর্কে জানাতে সাহায্য করে। প্রথমে এটি বাংলাদেশকে ফোকাস করে শুরু করলেও বর্তমানে এটি সারাবিশ্বের তরুণরা ব্যবহার করছেন। আমরা চেয়েছিলাম বিশ্বব্যাপী তরুণদের নেটওয়ার্কিংটাকে আরও মজবুত করতে। সারাবিশ্বের তরুণদের ‘স্কলারশিপ, ফেলোশিপ, সেমিনার, ওয়ার্কশপসহ তরুণদের কাজে আসতে পারে এমন সব বিষয় সব একফ্রেমে আনতে।

ডিপ্রজন্ম : শুরুর দিকের গল্প বলুন-

ওসামা : আসলে ২০১২-এর প্রথমভাগে আমরা ফেসবুকে একটি পেজ খুলে কাজ করি, স্বপ্নটা খুব ছোট ছিল। বাইরের দেশের তরুণরা ফেসবুক ইনবক্সে নতুন কোন কাজের সন্ধান দিলে তা আমাদের পেজে দিতাম। বলে রাখা ভাল, আমার ইয়ুথ অপরচুনিটির কো-ফাউন্ডার মাকসুদ মানিক। একটি ট্রেনিং ক্যাম্পে আমাদের পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর এতদূর একসঙ্গে আমরা।

এভাবে কাজ করতে করতে ২০১৪তে আমরা ওয়েবসাইট খুলি, এর মাধ্যমে আমাদের পরিধি আরও বেড়ে যায়। আর যখন কিছু দিন আগে এটিকে এ্যাপ হিসেবে চালু করি আমাদের স্বপ্নের জায়গাটা অনেক বড় ব্যাপ্তি পায় তখন।

ডিপ্রজন্ম : ব্রিটিশ রানীর সঙ্গে দেখা হবার অনুভূতি কেমন ছিল-

ওসামা : কখনোই ভোলার নয় স্মৃতিটুকু। নিজের কাজের স্বীকৃতির জন্য যখন রানীর কাছে নটিংহ্যাম প্যালেসে যাবার সুযোগ পেলাম তখন সত্যি নিজেকে সত্যিকারের ভাগ্যবান মনে হয়েছে। আর রানীকে বলেছি তার তরুণদের উৎসাহদানের বিষয়টি আমাকে কতবেশি আনন্দিত করেছে। রানী আমার দেশের নাম জানতে চান আর প্রশংসা করেন আমার কাজের। জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ছিল সেটা, কারণ বিশ্বের অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্ব সেদিনের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।

ডিপ্রজন্ম : রানীর সামনে পাঞ্জাবি-লুঙ্গি পরার চিন্তাটা কিভাবে এসেছিল?

ওসামা : আসলে বলা ছিল হয় ট্র্যাডিশনাল নতুবা অফিসিয়াল পোশাকে আসার জন্য। তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্বটা এখানে আরও একবার গর্বের সঙ্গে করার। কারণ, প্রত্যেকটি দেশেরই নিজস্ব পোশাক আছে, আমার দেশের পুরুষদের পোশাকে রানীর সামনে হাজির হই।

ডিপ্রজন্ম : যেসব পুরস্কার মিলেছে সর্বশেষ সময়ে -

ওসামা : স্বীকৃতি মিলেছে অনেক। সবই আমার কাজের গতিকে করে দিয়েছে আরও শক্তিশালী। ২০১৬ তে স্পোর্টস ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’ এশিয়ার ত্রিশ তরুণকে নিয়ে মূল ফিচার করেছিল, সেখানে একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে ছিলাম, ২০১৬তেই ব্র্যাক মন্থন ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডও জেতা হয়েছে, জেতা হয়েছে জাতীয় মোবাইল এ্যাপিকেশন এ্যাওয়ার্ড ২০১৬-এর চ্যাম্পিয়নশিপ, সারাবিশ্বের সিইওদের মধ্যের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন রিয়াল লিডার সারাবিশ্বের ১০০ তরুণ নিয়ে প্রকাশ করেছিল তাদের প্রোফাইল, সেখানেও জায়গা হয়েছিল আমার। সবচেয়ে যেটি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিচিতি দিয়েছে সেটি ব্রিটিশ রানীর হাত থেকে অর্জন করা ২০১৬তে ‘কুইন্স ইয়াং লিডার’ এ্যাওয়ার্ড অর্জন করার মাধ্যমে। এতগুলো সম্মাননা সবসময়ই একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমাকে করেছে গর্বিত।

ডিপ্রজন্ম : বাংলাদেশী তরুণ হয়ে বলা যায় বিশ্বজয় করেছেন আপনি, এদেশের তরুণদের নিজস্ব চিন্তার বিকাশে পরিবার কি সবসময় সমর্থন দেয়? কিংবা যদি না দেয় তাহলে না দিলে করণীয়?

ওসামা : আসলে যখন কেউ নতুন কিছু চিন্তা করে তখন সবসময় পরিবার সমর্থন দেবে না। বাংলাদেশে এটা আরও বেশি কঠিন পরিবারের সমর্থন পাওয়া। আমাদের তরুণদের উচিত পরিবারকেও নিজের কাজের জায়গাটা বোঝানো, যতটুকু সম্ভব আর কি। আমি নিজে ভুক্তভোগী, তবে আরেকটা জিনিস নিজের স্বপ্নের জায়গাটাকে ঠিক মনে করলে জায়গাটা ছাড়া উচিত না কখনোই।

ডিপ্রজন্ম : বর্তমানের ব্যস্ততা কি নিয়ে?

ওসামা : ইয়ুথ অপরচুনিটির ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি দেশের তরুণদের নিয়ে কাজ করছি। নিয়মিত তরুণদের ফেস্টগুলোতে যাচ্ছি, আইডিয়া শেয়ারিং হচ্ছে প্রচুর।

ডিপ্রজন্ম : আপনাকে অনুসরণ করা তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন-

ওসামা : আমাদের সবকিছু একটু পরিবর্তন করে এগোলেই অনেক বড় অর্জন আসবে, বর্তমানের তরুণরাও অনেক বেশি নতুন উদ্যোগ নিয়ে হাজির হচ্ছে। সবমিলিয়ে লক্ষ্য স্থির করে এগোলেই বদলে দিতে পারবেন জগতটাকে।

ডিপ্রজন্ম : মূল্যবান সময় দেয়ায় ধন্যবাদ আপনাকে।

ওসামা : ডিপ্রজন্মের সকল পাঠকের জন্য রইল শুভকামনা,ধন্যবাদ আপনাকেও।