২২ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান ॥ ঢাকার মানুষের নিজের ঘরবাড়ি সুন্দর। ছবির মতো। ঝকঝকে তকতকে। নারীরা পুরুষেরা এমনকি এইটুকুন বাচ্চাটি বুঝে, ঘর একদম ময়লা করা যাবে না। আম্মু বকা দেবে। ছাড় দেবে না আব্বুও। অথচ বাসা থেকে বের হতেই আশ্চর্য পরিবর্তন! সুন্দর আর সুরুচির এত চর্চা যিনি ঘরে করেন সেই তিনি অন্য মানুষ হয়ে যান। আর তাই রাজধানী ঢাকা আজ ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এমনকি ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতি বুকে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ মিনারটিও আক্রান্ত হচ্ছিল প্রতিনিয়ত। এর চারপাশ ময়লা করার সময় কারও মনে হতো না, খুব অন্যায় করা হচ্ছে। এমনকি বিরাট বিদ্বান লোকটিও জুতা পায়ে উপরে ওঠে যেতেন। অনায়াসে বেদী নোংরা করতেন। অমর্যাদা করতেন ভাষা শহীদদের। এই লেখা-পড়া জানা মূর্খদের, ইতিহাস-অজ্ঞদের নিভৃত করার প্রয়াস কখনও সখনও দেখা গেছে বটে। শহীদ মিনারের মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় আছে হাইকোর্টের রুলও। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। এ অবস্থায় অতি সম্প্রতি এগিয়ে আসে শহর ঢাকার একদল তরুণ-তরুণী। ‘বিডি ক্লিন’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়ে গত এক বছর ধরে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন তারা। কম বড় কথা নয়। সে ধারাবাহিকতায় আসেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। স্মৃতির মিনার ও এর আশপাশের এলাকা ঝাড়ু দেন। নিজ হাতে ময়লা তুলে নিয়ে যথাস্থানে ফেলেন। না, একবার দু’বার নয়। বারবার এখানে কাজ করতে দেখা গেছে তাদের। গত রমজানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। রোজা রেখে কয়েক শ’ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ ঝাড়ু দিয়েছেন। শহীদ মিনার ধুয়ে মুছে সাফ করেছেন। এই দৃশ্য শুধু তাকিয়ে দেখাও আনন্দের। চোখ, বিশ্বাস করুন, ভিজে যায়। গর্বে ভরে উঠেছে বুক। গত ১ জুলাই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে কথা হয় উদ্যমী তরুণদের সঙ্গে। বিডি ক্লিনের মূল উদ্যোক্তা মিলন বললেন, আমরা কার্যকর কিছু করতে চাইছি। জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছি। বেদিতে তো বটেই, আমরা প্রত্যাশা করি সিঁড়িতেও কেউ জুতা পায়ে উঠবেন না। প্রথম সিঁড়িতে পা দেয়ার আগে সবাইকে জুতা খুলে নিচে রেখে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আহ্বানে কাজ হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিডি ক্লিনের ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ছবিতে সিঁড়ির নিচে জুতা রেখে উপরে উঠছেন দর্শনার্থীরা। স্বেচ্ছাসেবক তরুণরা এ কাজে তাদের সহায়তা করছেন। শহীদ মিনারের সিঁড়িগুলো স্থাপনারই অংশ। জুতা পায়ে উঠলে নোংরা হয়। এখানে ওখানে জুতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এমন দৃশ্য দেখতে ভালও লাগে না। যারা শহীদ মিনারে যান, যাবেন, তারা নিশ্চয়ই বিষয়টি ভাববেন।

ঢাকার জলাবদ্ধতার কথা একটু বলা যাক এবার। ভারি এবং টানা বৃষ্টি হলে রাজধানীর নিচু এলাকায় জল জমে যায়। কিন্তু এবার অল্প বৃষ্টিতেই ডুবে যাচ্ছে শহর। রাস্তায় সত্যি সত্যি নৌকা উঠে যাচ্ছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে একাধিক প্রধান সড়ক তলিয়ে গিয়েছিল। কাওরানবাজারের সামনের সড়কটির কথাই যদি বলি, ভিআইপি সড়ক, খরস্রোতা নদীর চেহারা পেয়েছিল। রাস্তায় কোনরকমে গাড়ি চলেছে। ফুটপাথ দিয়ে হাঁটা সম্ভব ছিল না। এত জল! ঢাকার নিচু এলাকাগুলো এখনও জলে ডুবে আছে। অথচ বর্ষা সবে শুরু। শ্রাবণে হবে টা কী? শঙ্কা প্রকাশ করছেন নগরবাসী। দেখার কেউ কি আছে?