২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘ডিজিটাল মানুষ’

বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় বাবার মুখে শোনা বাস্তব আত্মত্যাগের গল্পগুলো থেকে দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন কাজ করত। সেই স্বপ্ন থেকে আমাদের ডিজিটাল মানুষ এ্যাপ গড়ে তোলা

‘ডিজিটাল মানুষ’ এ্যাপটি প্রকাশ হয় ১ মে শ্রমিক দিবসে। থেমে থাকেনি মানুষের প্রয়োজনীয় এ্যাপসটির জয়যাত্রা। এ্যাপটি উদ্ভাবনের পর ১১ মে ২০১৭ তারিখে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সফটওয়্যার কম্পিটিশনে প্রথম স্থান অর্জন করেছে, যেখানে তাদের পুরস্কার তুলে দেন এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান কাইয়ুম রেজা চৌধুরী। পুরস্কার প্রাপ্তির পর এর উদ্যোক্তা আলিফ ও তার সঙ্গীরা কিন্তু বসে থাকেনি। তারা সরেজমিন বিস্তার লাভের পাশাপাশি ডিজিটাল মানুষ এ্যাপটি সংস্করণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

সুখবর আরও আছে। ২০১৭ সালে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতায় ডিজিটাল মানুষসহ ২৯৪টি উদ্যোক্তা-দল অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে স্মার্ট স্যাটেলমেন্টস ও আরবানাইজেশন ক্যাটাগরিতে সেরা ৭-এ মনোনীত হয়েছে ডিজিটাল মানুষ। আগামী ৪ মে ভারতে সে প্রতিযোগিতায় যাচ্ছেন তারা। এ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন খোন্দকার মোঃ আলিফ জানান, ‘আমাদের ঘরে টুকিটাকি নানা ছোট সমস্যা হয়। যেমন বৈদ্যুতিক, তালা, গ্যাস, রং, গাড়ির মিস্ত্রি থেকে শুরু করে চর্মকার, স্যানিটারি সেবাদাতা, ইন্টারনেট সেবাদাতা, লন্ড্রি, সংবাদপত্রের হকার, ডেকোরেটর, তাঁতি, বাসা বদলের জন্য শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে স্মার্টফোন এ্যাপ্লিকেশন ‘ডিজিটাল মানুষ’-এর মাধ্যমে। গুগল এ্যাপ স্টোর থেকে নামিয়ে আপনার প্রয়োজনীয় মিস্ত্রির তথ্য লিখলেই পেয়ে যাবেন ফোন নম্বর। শুধু ফোন নম্বরই নয়, থাকবে তার পুরো ডাটা।’ এ্যাপটিতে মোট ২২টি বিভাগ আছে। ঢাকা শহরের ৮৪টি এলাকার কর্মীদের খুঁজে পাওয়া যাবে। আপনি যে এলাকায় থাকেন সেই এলাকার ‘লোকেশন’ হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। এরপর এ্যাপে চলে আসবে নির্দিষ্ট কাজের শ্রমজীবীদের তালিকা। সেখানে তাদের নাম, পরিচয়, তথ্য ও ফোন নম্বর পাবেন। ফোন করতে চাইলে বোতামে চাপ দিলেই তার কাছে ফোনকল চলে যাবে। আপনি তার সঙ্গে কথা বলে তাকে তিনটি বিষয় সম্পর্কে উভয়পক্ষ নিশ্চিত হয়ে নেবেন। প্রথমত আপনার সমস্যাটি সম্পূর্ণ তাকে বলবেন। তারপর এর জন্য কত পারিশ্রমিক দিতে হবে তা নিশ্চিত করবেন। সব শেষে আপনার বাসার ঠিকানাটি ঠিকভাবে বুঝিয়ে বলবেন। এরপর আপনার বাসায় এসে তিনি কাজটি করে দিয়ে যাবেন।

এ রকম একটি উদ্যোগ সম্পূর্ণ ফ্রি হওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে ডিজিটাল মানুষ টিমের সদস্য খন্দকার কফি আনান বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় বাবার মুখে শোনা বাস্তব আত্মত্যাগের গল্পগুলো থেকে দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন কাজ করত। সেই স্বপ্ন থেকে আমাদের ডিজিটাল মানুষ এ্যাপ গড়ে তোলা। শ্রমজীবী বা পেশাজীবী মানুষের পরিশ্রমেই একটি দেশ গড়ে ওঠে। তাদের পরিশ্রমকে লাঘব করতে এবং তাদের উপযুক্ত সম্মান ও সুবিধা প্রদানই এই এ্যাপের লক্ষ্য।

সম্পূর্ণ ফ্রি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তারা কাজ করছেন। ৪ মে ভারতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তারা, সর্বোমোট তিনটি দল থাকবে বাংলাদেশের, সেগুলো হচ্ছে ‘টপটিউব’, আমার এমপি এবং ডিজিটাল মানুষ।

ডিপ্রজন্ম ডেস্ক