১৯ আগস্ট ২০১৭

রায় যদি বিরাগ প্রসূত হয়ে থাকে তাহলে শপথ ভঙ্গ হবে

স্টাফ রিপোর্টার॥ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় যদি বিরাগ প্রসুত হয়ে থাকে তা হলে শপথ ভঙ্গ হবে। কোন বিচারক রাগ-অনুরাগের বশবর্তী হয়ে কিছু করতে পারেন না। এটা যদি হয়ে থাকে তা হলে কি হবে বাংলাদেশের জনগণই বিচার করবে। ‘পার্লামেন্ট ইজ ইমম্যাচিউর’, ‘ডেমোক্র্যাসি ইজ ইমম্যাচিউর’, ‘পার্লামেন্ট ইজ ডিজফাংশনাল। ‘পার্লামেন্ট ডিরেকশন শোনেনি’ কথাগুলো যদি অনুরাগ-বিরাগের মধ্যে চলে আসে তাহলে সেই জজ সাহেবের পজিশনটাইবা কী হবে? তিনি ওথ বাউন্ড থাকছেন কিনা, সেটাও আপনারা বিচার-বিবেচনা করে দেখুন। আমি পয়েন্ট আউট করে দিলাম। ওথ (শপথ ) ভঙ্গ হলে কী হতে পারে? আপনারা জানেন কী হতে পারে। তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ে বিচারপতির শপথ ভঙ্গের মতো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা বিবেচনা করে দেখতে হবে। সাবেক প্রধান বিচারপতি ও জাতীয় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এমন মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনাতেই ১৯৯৯ সালে সিনহাকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি এখন স্বাধীনতা বিরোধীদের সুরেই কথা বলছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধ লালন করেন ও বিশ্বাস করেন তিনি কীভাবে স্বাধীনতাবিরোধীদের সুরে কথা বলতে পারেন। এক-এগারোর কুশীলবদের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছেন প্রধান বিচারপতি। এটা হলে তার কাছ থেকে আরেকটি বড় আঘাত আসতে পারে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস, ‘ষোড়শ সংশোধনী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এ্যান্ড কাউন্সিল টেররিজম নামে একটি সংগঠন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ওয়ালিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হক, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, আমরা জজ সাহেবেরা কোনদিনই অনুরাগের বশবর্তী হয়ে কোন কিছু করব না। রায়ে যদি কোন অনুরাগ বা বিরাগ রিফ্লেক্ট করে, তাহলে হোয়াট ইজ দ্য কনসিকোয়েন্স অব দ্যট জাজমেন্ট। থিঙ্ক এ্যাবাউট ইট। আমার বলার কিছু নেই। যে জজসাহেব অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে... যদি আপনারা অনুরাগ বা বিরাগ বলে মনে করেন আপনারা... যেগুলো আমি বললাম, ‘পার্লামেন্ট ইজ ইমম্যাচিউর’, ‘ডেমোক্রেসি ইজ ইমম্যাচিউর’, ‘পার্লামেন্ট আমাদের ডিরেকশন শোনেনি’, এই কথাগুলো যদি অনুরাগ-বিরাগের মধ্যে চলে আসে তাহলে সেই জজ সাহেবের পজিশনটাইবা কী হবে? তিনি ওথ বাউন্ড থাকছেন কিনা, সেটাও আপনারা বিচার-বিবেচনা করে দেখুন। আমি পয়েন্ট আউট করে দিলাম। ওথ ভঙ্গ হলে কী হতে পারে? আপনারা জানেন কী হতে পারে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বিচারপতি খায়রুল হক আইন কমিশনের কাজের ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, যেহেতু আইন নিয়ে গবেষণা করা তাদের কাজ, সেহেতু আদালতের এই রায় তাদের গবেষণার বিষয়ের মধ্যেই পড়ে। কথা ওঠে আমি ল কমিশনের চাকরি করি। এখানে বসে এত কথা বলা উচিত কিনা? তাদের হয়ত ল কমিশন সম্পর্কে কোন আইডিয়া না থাকারই কথা। ল কমিশন কিন্তু এমন একটা প্রতিষ্ঠান, যেখানে আইন নিয়েই আমাদের গবেষণা। আইনকে মনিটর করাও আমাদের আরেকটা কাজ। উচ্চ আদালতের একটি রায় কিন্তু আইন। সেটা দেশের জন্য আইন। প্রধান বিচারপতি রায়ের মধ্যে যেসব কথা বলেছেন সেটা যদি বাইরে বলতেন, তাহলে হয়ত এত কথা উঠত না। কিন্তু রায়ের মধ্যে বলেছেন, তখন সেটা আইনের অংশ হয়ে গেছে, এ কারণেই এত আপত্তি। তিনি তার রায়ের মধ্যে সংসদকে অকার্যকর বলেছেন এটাই সর্বনাশী ব্যাপার। সে কারণে এটা তো আমাদের মনিটর করতে হবে, সেটা কারও পছন্দ হোক বা না হোক। ল কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমানে একটি দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালু আছে। দ্বৈতশাসন মানে এ রকম যে, নিম্ন আদালতের বিচারকদের প্রমোশন বা বদলি সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয় থেকে সুপ্রীমকোর্টে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওই প্রস্তাব জিএ কমিটি বা ফুল কমিটি বিচার-বিবেচনা করে। হয় তাতে একমত হন অথবা দ্বিমত করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে- ‘‘বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচারবিভাগীয় দায়িত্ব পালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি দান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলাবিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকিবে এবং সুপ্রীমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে।” আইন কমিশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমি মনে করি এই ব্যবস্থাটাই উত্তম। কারণ এখানে কোন পক্ষেরই এক্সট্রিম কোন কিছু করার সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ ক্ষমতা সরকারের ওপর থাকলে যেমন ‘কিছুটা অপব্যবহারের’ সুযোগ থাকে তেমনি সুপ্রীমকোর্টের ওপর থাকলেও একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সুপ্রীমকোর্টে যে সমস্ত বিচারকগণ আছেন তারা কিন্তু ফেরেশতা না, তাদেরও ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তাদেরও নানা রকম দুর্বলতা থাকতে পারে। নানা রকম সমস্যা থাকতে পারে। কাজেই এক হাতে এই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা না থাকাই ভাল বলে আমি মনে করি। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে সংসদকে অকার্যকর বলার সমালোচনা করেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান।

এখানে প্রধান বিচারপতি সংসদকে বলেছেন ‘ইমম্যাচিউরড’, এটা দুঃখজনক। আর্টিকেল ৬৫ (৩) অনুযায়ী মহিলাদের নির্বাচনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি। এটাই গণতন্ত্রের ম্যাচিউরিটি। কোনটা ম্যাচিউরড সেটা উনি (প্রধান বিচারপতি) বলার কে? কোনটা কী হবে, না হবে, তার সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক হলো সংসদ সদস্যরা, জুডিশিয়ারির নয়। এ বিষয়ে একজন বিচারপতি বলতে পারেন না।

সাবেক প্রধান বিচারতি এ বিএম খায়রুল হক বলেন, তিনি (প্রধান বিচারপতি) বলেছেন, ১৫২ সংসদ সদস্য ঠিকভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেননি। ওনারা (সুপ্রীমকোর্টের বিচারকরা) কি ইলেক্টেড হয়ে এসেছেন নাকি? এ সমস্ত কথা বলা তো ঠিকনা। তিনি (প্রধান বিচারপতি) রায়ের এক জায়গায় বলেছেন যে, সুপ্রীমকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে তা পালন করা হয়নি। এটাও তো ঠিক কথা নয়। পার্লামেন্টকে নির্দেশনা দেয়ার ক্ষমতা সুপ্রীমকোর্টের নেই। পার্লামেন্ট একটি স্বাধীন সংস্থা । এই দেশের সবকিছুর মালিক হচ্ছে সার্বভৌম জনগণ। খায়রুল হক বলেন, তিনি পার্লামেন্টকে অকার্যকর বলেছেন। নানা মন্তব্য করেছেন। এটা তো কোন বিচারকের ভাষা হতে পারে না, জুডিশিয়ারির ভাষা হতে পারে না, সুপ্রীমকোর্টের ভাষা হতে পারে না। সংসদ সদস্যরা আর কিছু না হোক তারা বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধি। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। এমপি হওয়াই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

সংসদ সদস্য হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা কোন উপাদান নয় এমন মন্তব্য করে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশের জনগণের প্রতিনিধি তিনি যেই হোন না কেন সবার পিএইচডি ডিগ্রী থাকতে হবে, এমন কোন কথা নেই। পার্লামেন্ট মেম্বার হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা কোন উপাদান নয়। উপাদান হচ্ছে আপনি (এমপি) মানুষকে ভালবাসেন কিনা? মানুষ আপনাকে ভালবাসে কিনা? আর অন্য কিছু নয়। খায়রুল হক আরও বলেন, তিনি (প্রধান বিচারপতি) বলেছেন, সংসদ অপরিপক্ব। গণতন্ত্র অপরিপক্ক। উনি বলার কে? কোনটা ম্যাচিউরড হবে, কোনটা কি হবে না হবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক তো সংসদ সদস্যরা, জুডিশিয়ারি নয়।

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির পদায়ন, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার বিষয়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের ‘দ্বৈতশাসন’ ব্যবস্থাই ‘উত্তম’ এমন মন্তব্য করে এটি চালু রাখার পক্ষে মত ব্যক্ত করেন খায়রুল হক। তিনি বলেন, এখানে একটি দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালু আছে। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা মানে হচ্ছে এরকম যে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে কারো পদোন্নতি, প্রমোশনের ব্যাপারে সুপ্রীমকোর্টের জি এ (জেনারেল এ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কমিটিতে পাঠানো হবে। জি এ কমিটি হয় সেটা অনুমোদন করে নয়তো, সেটা বাতিল করে। তাই আমি মনে করি যে এই ব্যবস্থাটাই উত্তম। তিনি আরও বলেন, এখানে কোন পক্ষেরই এক্সট্রিম কোন কিছু করার সুযোগ থাকে না। সমস্ত ক্ষমতা যদি সরকারের হাতে থাকে তাহলে ক্ষমতার অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে। আবার সমস্ত ক্ষমতা যদি সুপ্রীমকোর্টের হাতে থাকে, সুপ্রীমকোর্টে যারা আছেন তারা কিন্তু ফেরেস্তা নন। তাদেরও ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তাদেরও আশা-ভরসা, নানা দুর্বলতা থাকতে পারে। কাজেই এক হাতে এই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা না থাকাই ভাল। তাই বর্তমান ব্যবস্থাটাই চালু থাকা উচিত। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এটি ষোড়শ সংশোধনীর কোন ইস্যু ছিল না। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এটাকে টেনে এনে অনেক কথাই বলেছেন। যা ওনার বলা ঠিক হয়েছে বলে আমি মনে করি না।

ষোড়শ সংশোধনীর বাতিলের রায়ে বেশিরভাগ এ্যামিকাস কিউরিদের মতামতের বিষয়ে এ বি এম খায়রুল হক বলেন, অনেকেই বলছে এ্যামিকাস কিউরিরা তো ষোড়শ সংশোধনীর বাতিলের সমর্থন করেছেন। তারা তো বিদ্বান ও বোদ্ধা লোক। আমিও একমত যে যারা এ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন তারা অত্যন্ত বিদ্বান ও বোদ্ধা লোক এতে কোন সন্দেহ নেই। সুপ্রীমকোর্টে তারা প্র্যাকটিস করেন। এখান থেকেই তারা একটি বিশাল অর্থ আয় করেন। খায়রুল হক বলেন, ৪৮ বছর আগে ১৯৬৯-এ আমার সিনিয়র একদিন রিলাক্স মুডে বলেছিলেন যে, দেখ খায়রুল ‘যে দেবতা যেই মন্ত্রে তুষ্ট তাকে সেই মন্ত্রই শোনাবা’। উনার কথার মানে কি সেদিন আমি বুঝিনি। অনেক অনেক পরে আমি বুঝেছি।

রাজনৈতিক বিবেচনায় সিনহার নিয়োগ

এদিকে অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ’৯৯ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচারপতি নিয়োগ পেয়েছিলেন । আর একই বিবেচনায় তিনি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধান বিচারপতিকে দেখছি একজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মূল্যবোধকে লালন করেন। তিনি হঠাৎ করে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি বিএনপির বন্ধু হয়ে গেলেন।’ প্রধান বিচারপতি এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের সুরেই কথা বলছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধ লালন করেন ও বিশ্বাস করেন তিনি কীভাবে স্বাধীনতাবিরোধীদের সুরে কথা বলতে পারেন। এক-এগারোর কুশীলবদের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছেন প্রধান বিচারপতি। এটা হলে তার কাছ থেকে আরেকটি বড় আঘাত আসতে পারে।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত বিচারপতি হয়েছেন, কিন্তু প্রধান বিচারপতি কেউ হননি। এই যে বিরাট উদারতা সেটি কিন্তু আমাদের মাননীয় প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে কামরুল বলেন, তিনি রাজাকার না বলেই তাকে আমরা প্রধান বিচারপতি করেছিলাম। যুদ্ধাপরাধীদেরকে ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায় তিনি আপীলে বহাল রেখেছেন। তার কার্যকলাপে দেখেছি তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারেও তিনি ছিলেন। এ জন্যই আমরা তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলাম। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনীর মামলায় তিনি যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা একেবারেই তার বিপরীত। আমার ভয় হয়। জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে তিনি রাজাকার, পাকিস্তানের বন্ধু হয়ে গিয়েছিলেন। আজকে প্রধান বিচারপতি একজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উনি লালন করেন কিন্তু তিনি হঠাৎ করেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি বিএনপিপন্থী হয়ে গেলেন।

ষোড়শ সংশোধনীর মামলার এ্যামিকাস কিউরিরা ১/১১ এর কুশীলব উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এ্যামিকাস কিউরি হিসেবে যারা ছিলেন তারা কারা? ১/১১ এর পক্ষে যারা ছিলেন সেই ড. কামাল হোসেন, রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আমীর-উল ইসলাম, হাসান আরিফ। টোটাল এ্যাবাউট টার্ন করে তিনি (প্রধান বিচারপতি) ওই দিকে চলে গেলেন। বিএনপি আজকে তার কথায় লাফাচ্ছে। তার সবচাইতে পরম বন্ধু আজকে বিএনপি। এত বড় বন্ধু হতে পারে না। কামরুল বলেন, তিনি যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন তাতে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে তার কুশপুতুল দাহ করার কথা। অথচ তারাই তার (প্রধান বিচারপতি) চরম বন্ধু। যেভাবে পঁচাত্তরে জিয়া পাকিস্তানের বন্ধু ছিলেন। তিনি বলেন, আরও সাড়ে পাঁচ মাস তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে থাকবেন। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু আমাদের দেখতে হতে পারে। আমি ভরসা পাচ্ছি না। এই সাড়ে পাঁচ মাস তিনি যদি প্রধান বিচারপতি হিসেবে থাকেন তাহলে আরও অনেক কিছু দেখতে হতে পারে। কারণ দুষ্টু লোকেরা বলে তিনি একটি গ্রুপের, ১/১১ এর কুশীলবদের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ কোন নিয়মের ব্যত্যয় নয়। এটি স্বাভাবিক। কিন্তু এ নিয়ে সমালোচনা করছে বিএনপি ও তথাকথিত কিছু লোক।

এরা কারা? এদের চেহারা আমরা চিনি। এরা দেশে এরকম একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় যাতে আগামী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। একটা অসাংবিধানিক সরকার আনার পাঁয়তারা যেমনিভাবে তারা করেছিল ঠিক তেমনিভাবে একটি নতুন খেলায় তারা মেতে উঠেছে। আমাদের অবশ্যই এ ব্যাপারে আরও সতর্ক হওয়া উচিত এবং একটা বিহিত ব্যবস্থা হওয়া উচিত। না হলে এই সর্প আবার ছোবল মারবে কিনা এ নিয়ে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত।