১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কবি মারুফুল ইসলামের ‘নতুন করে পাব বলে’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত

কবি মারুফুল ইসলামের ‘নতুন করে  পাব বলে’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মঞ্চ থেকে ভেসে আসছে রবীন্দ্রনাথের গান ‘তোমায় নতুন করে পাব বলে’। দরাজ গলায় গাইছেন দেশের স্বনামধন্য শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। কবি মারুফুল ইসলামের ‘নতুন করে পাব বলে’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশনানুষ্ঠানের শুরুটা ছিল শিল্পীর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান দিয়ে। বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বুধবার বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনা করেন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা ও কবি তুষার দাস।

বক্তারা বলেন, কবি মারুফুল ইসলাম স্বাতন্ত্র্যে সমুজ্জ্বল। তার কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য চিন্তাভাবনা, বোধ, অনুভূতি, প্রেম-বিরহ, প্রতিদিনের ছবি, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক এই সব বিষয় মূর্ত হয়। কিন্তু তিনি এই সব প্রকাশে নিজস্ব একটি পথ অনুসন্ধান করছেন। তার একান্ত স্বাক্ষরটি কবিতায় বসিয়ে দিতে চাচ্ছেন, যা তাকে অন্য কবি থেকে আলাদা করবে নিঃসন্দেহে। তার কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁইজি’ বের হয় ২০১৬ সালে। তখনই কবিতাপ্রেমিকরা উপলব্ধি করে যে বাংলা কবিতায় তিনি একটি নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন। ওই কাব্যগ্রন্থে তিনি লালনের বাউল ভাবনাকে আধুনিক চিন্তা, যুগচেতনা, মনস্তত্ত্ব এবং দেহতত্ত্বের আলোতে সাজিয়েছেন। এর ফলে কবিতাগুলোতে লোকদর্শনের সঙ্গে নাগরিক দর্শনের একটি সমন্বয় ঘটেছে। কবিতাগুলো একইসঙ্গে মানুষের ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের একটি সংযোগ ঘটিয়েছে।

তার ‘নতুন করে পাব বলে’ এ কাব্যগ্রন্থে ছন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলনের নিশ্চিতি, মেজাজের বলিষ্ঠ প্রকাশ। ‘সাঁইজি’র পেছনে ছিলেন লালন আর নতুন এ কাব্যগ্রন্থের পেছনে আছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই কাব্যগ্রন্থের বিষয়বৈচিত্র ব্যাপক। বেশিরভাগ কবিতা লিরিকধর্মী। প্রতিটি কবিতায় একটি পঙ্তি রবীন্দ্রনাথের কবিতাটি অনুপ্রাণিত সেই পঙ্তির ভাব ও দ্যোতনায়। এই পঙ্তির অনুরণন কবির মনে, তার কবিতায়। বলা যায়, বাংলা কবিতার অভিযাত্রায় এ এক অজানা অভিঘাত, নয়া অভিজ্ঞতা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘তুমি হাওয়ায় ভেসে আসা ধন’, ‘হায় গো ব্যথার কথা যায় ডুবে যায় যায় গো’ ও ‘তোমায় নতুন করে পাব বলে’।

এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন বইটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। বইটির মোড়ক উন্মোচনের পর নিজের লেখা ‘নতুন করে পাব বলে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন বইটির লেখক মারুফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে কবি মারুফুল ইসলামের ‘নতুন করে পাব বলে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তি শিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।

জাদুঘরের আহমদ শরীফ স্মরণ ॥ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম সেরা প-িত ও মনীষী অধ্যাপক ডক্টর আহমদ শরীফ। তিনি একাধারে ভাষাবিদ, লেখক, চিন্তক ও সমাজ সংস্কারক। তার স্মরণে জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে ‘ডক্টর আহমদ শরীফ : মনীষী’ শীর্ষক এক সেমিনার হয় বুধবার বিকেলে। জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক অধ্যাপক আহমদ কবির। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নেহাল করিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখক ও চিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে অধ্যাপক আহমদ কবির বলেন, ডক্টর আহমদ শরীফ ১৯৪৪ সালে দুই শত পঞ্চাশ টাকার বেতনে গ্রিভেন্সিভ অফিসার হিসেবে দুর্নীতি দমন বিভাগে চাকরি দিয়ে তার পেশাগত জীবন শুরু করেন। কিন্তু তার শিরায় প্রবাহিত ছিল শিক্ষকতার নেশা। সেই নেশা থেকেই পরে তিনি ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাস থেকে লাকসামের পশ্চিমগাঁও নওয়ার ফয়জুন্নেসা কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। এর পর তিনি তার সংগ্রহে থাকা আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের বিশাল পুঁথির সম্ভার বিনা অর্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে দেয়ার শর্তে এবং ঐ পুঁথি দেখভালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রিসার্চ এ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে যোগ দেন।

আলোচক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, দেশ-কাল-সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রথাগত সংস্কার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সব সময় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। মানুষের আর্থ-সামাজিক মুক্তিসহ সমাজতন্ত্রের প্রতি ছিল তার প্রচ- আগ্রহ। ভাববাদ, মানবতাবাদ ও মাকর্সবাদের যৌগিক সমন্বয় প্রতিফলিত হয়েছিল তার চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা, আচার-আচরণে, বক্তব্যে ও লেখনীতে। তার রচিত এক শ’রও অধিক গ্রন্থের প্রবন্ধে তিনি অত্যন্ত জোরালো যুক্তি দিয়ে পরিত্যাগ করেছিলেন প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা, বিশ্বাস ও সংস্কার এবং আন্তরিকভাবে আশা পোষণ করেছিলেন সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার জন্য।