২৫ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আর্সেনিক ঝুঁকিতে রূপগঞ্জ

  • ৪২ গ্রামে আতঙ্ক ॥ আক্রান্ত ৮

নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ৬ জানুয়ারি ॥ রূপগঞ্জের ভোলাবো, দাউদপুর ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের ঘরে ঘরে আর্সেনিকের কালো থাবা পড়েছে। ইতোমধ্যে গ্রামগুলোতে আর্সেনিক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এসব গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত এক যুগ ধরে ওইসব গ্রামের মানুষ আর্সেনিকের সমস্যায় ভুগলেও এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ ছিল না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ঝুঁকি এড়াতে আর্সেনিকযুক্ত পানি না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ফলে এলাকার জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, রূপগঞ্জের ভোলাবো, দাউদপুর ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের মানুষ অনেকটা জেনে বুঝেই আর্সেনিকের মতো বিষপান করে চলছেন। এসব গ্রামের প্রায় ৩ হাজার ৯৮৭টি টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে। সরকারীভাবে কিছু গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও সেগুলো অকেজো। তাই বাধ্য হয়েই মানুষ আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করছে। দেখা গেছে, আক্রান্তদের হাতে-পায়ে গুটি ও ঘা, সারা শরীরে কালো দাগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ে মানুষকে সচেতন করতে বা আর্সেনিক মুক্ত পানির উৎস তৈরি করতে সরকারী বা বেসরকারী কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, দাউদপুর ইউনিয়নের বাসুন্দা গ্রামের নুরুল হক, একরাল হোসেন, লতিফা বেগম, ফুলেরা বেগমসহ আরও অনেক নারী পুরুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীরে চর্মরোগের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে রোগীরা গেলে, চিকিৎসক পানিবাহিত কারণে চর্মরোগ হতে পারে এমন সন্দেহ করে বিষয়টি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে অবহিত করতে বলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তারা (রোগীরা) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে এ বিষয়ে অবহিত করলে তারা (জনস্বাস্থ্য অধিদফতর) টিউবওয়েলগুলোর পানি পরীক্ষা করলে আর্সেনিক ধরা পড়ে।

এখন পর্যন্ত ওইসব রোগীদের সরকারী-বেসরকারীভাবে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কথা হয় ভোলাবো ইউনিয়নের গুতুলিয়া এলাকার মোতালিব মিয়ার সঙ্গে। তার নলকূপে পয়েন্ট ৫ মাত্রায় আর্সেনিক দেখা দিয়েছে। একই গ্রামের মান্নান সরকার, যাকারিয়া ভূইয়া, কবির সরকার, এমরান সরকার, জজ মিয়া, জহিরুল সরকার, হাবিবুর সরকার, ছাদিকুর সরকার, ইউনুস মিয়া, শামীম মিয়া, নাজমুলসহ অনেকের নলকূপে আর্সেনিক দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তাদের নলকূপে আর্সেনিক দেখা দিয়েছে। তাই তারা পানি পান করা বন্ধ করে দিয়েছে। পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা থাকার কারণে ঐ গ্রামের অনেকে এখন বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের কর্মকর্তা সারা বছরেও তাদের খোঁজ নেয় না বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই এলাকার হালেমা খাতুন বলেন, ‘বাপ পোরা (গোটা) গেরাম ভয় দেহা দিছে। মানুষ এহন টিউবওয়েলের পানি খায় না। গেরাম পানির অভাব দেহা দিছে।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, কর্মকর্তারা আর্সেনিক নিয়ে কাজ করছে। লোকজনদের বুঝানো হচ্ছে। আর্সেনিকযুক্ত নলকূপগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিন ইউনিয়নে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছে।