২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতিশ্রুতি পালনের জন্য জাতিসংঘ ও এনজিওদের প্রতি আহ্বান

  • রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রম

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পালনের জন্য জাতিসংঘ ও বিদেশী এনজিওদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেশ কয়েকটি বেসরকারী সংস্থা। শনিবার ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ‘গ্রান্ড বারগেন’ নামের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলো পালন করার আহ্বান জানান। কোস্ট ট্রাস্ট এবং কক্সবাজারসিএসও এ্যান্ড এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত এই আলোচনা সভার বক্তারা স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং অধিকতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে এই আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সিসিএনএফ’র কো-চেয়ার আবু মুর্শেদ চৌধুরী ও সিসিএনএফ’র কো-চেয়ার পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইন্টারন্যাশনাল অফিস অব মাইগ্রেশন-এর ডেপুটি চীফ আব্দুস সাত্তার, ইউএনসিআর-এর ভিনসেন্ট গুলা। আলোচক হিসেবে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শাহীন আনাম, ডিজাস্টার ফোরামের গওহর নঈম ওয়ারা, অক্সফামের এমবি আখতার, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের একেএম মুসা, খ্রিস্টিয়ান এইডের শাকিব নবী, জাতিসংঘ আবাসিক প্রতিনিধির কার্যালয়ের হেনরি গ্লোরিয়েক্স ও লেইন ক্রেইন্ক, কানাডা দূতাবাসের আরাশ, ইসিএইচও-এর মিজ সুরঙ্গা, নেদারল্যান্ড দূতাবাসের জোরেন স্টিগস এবং ডিএফআইডি-এর ওমর ফারুক।

আলোচনা সভায় রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে গ্রান্ড বারগেন প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে সে বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার সার সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন জিএমআই/নেভিগেশন ৩৬০ এর কোয়েনরাড ভ্যান ব্রাবান্ট এবং কোস্ট ট্রাস্টের মোঃ মজিবুল হক মনির। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করে স্থানীয় সক্ষমতাকে অবহেলা করা, অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়, যথাযথ সমন্বয়ের অভাব, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে অধিক বেতনে বিদেশী এনজিওতে কর্মী নিয়োগ দেয়া, স্থানীয় এনজিওদের ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন না করা এবং স্থানীয় প্রতিবেশ-পরিবেশের ওপর গুরুত্ব না দেয়ার সমালোচনা করা হয় তাদের উপস্থাপনায়। তারা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ের ভূমিকায় আরও বেশি সুযোগ দেয়া এবং স্থানীয় জনসাধারণ ও স্থানীয় পরিবেশের ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার আহ্বান জানান। জয়েন্ট রিসপন্স প্ল্যানিংয়ে গ্রান্ড বারগেনের প্রতিশ্রুতিগুলোকে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়, যাতে কর্মসূচী বা প্রকল্পগুলোতে অধিকতর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

শাহীন আনাম বলেন, মানবিক সঙ্কটে সাড়া প্রদান বা উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে বাংলাদেশী এনজিওরা যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে, তাদের বিদেশী বিশেষজ্ঞের এখন খুব কমই দ্বারস্থ হতে হয়। আব্দুস সাত্তার বলেন, ইন্টার সেক্টরাল কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ এবং স্ট্র্যাটিজিক এক্সিকিউটিভ গ্রুপ রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ভিনসেন্ট বলেন, ইউএনএইচসিআর মানবিক সহায়তায় স্থানীয়করণ দেখতে চায়। একেএম মুসা বলেন, সব স্থানীয় এনজিওদেরই মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় আলাদা বিভাগ থাকা উচিত। শাকিব নবী বলেন, স্থানীয় জনসাধারণ এবং স্থানীয় পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে গেল, তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে হবে। এমবি আখতার বলেন, স্থানীয় এনজিওদের অধিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, স্বচ্ছতা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের স্থায়িত্বশীলতা অর্জনের জন্য স্থানীয় এনজিওদেরকে সহায়তা করতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ