২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাইম আর্টের ১০ বছর পূর্তি উৎসব

মাইম আর্টের ১০ বছর পূর্তি উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শুধু মূকাভিনয় শিল্প চর্চা করে এ বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি মূকাভিনয়ের সংগঠন মাইম আর্ট নিরবচ্ছিন্ন পথচলার ১০ বছর পূর্ণ করেছে। এ অর্জনের আনন্দ মাইম আর্টের সব শুভাকাক্সক্ষীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে আগামী ১৫ মার্চ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে বিকেল ৫টা থেকে ১০ বছর পূর্তি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এক দিনের এ আয়োজনের মধ্যে থাকছে- দিনে মাইম আর্টের উন্মুক্ত মূকাভিনয়, বিকেলে আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান, সন্ধ্যায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন দলের মূকাভিনয়, রাতে মূকাভিনয় শিল্পী নিথর মাহবুবের একক মূকাভিনয় এবং সবশেষে মাইম আর্টের দলীয় পরিবেশনা।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পার্থপ্রতিম মজুমদারের হাত ধরে বাংলাদেশে মূকাভিনয় চর্চা শুরু হলেও গত দশকের শেষের দিকে এসে সাংবাদিক ও মূকাভিনয় শিল্পী নিথর মাহবুবের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে শিল্পটির ব্যাপক পরিচিতি ঘটে। বাংলাদেশে মাইম শিল্পটি যখন বিলুপ্তির পথে ঠিক তখনই এ দেশে মাইম শিল্পকে জনপ্রিয় করতে এবং এর স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরির অঙ্গীকার নিয়ে নিথর মাহবুব ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গড়ে তোলেন শুধু মাইম চর্চার সংগঠন মাইম আর্ট। মাইম আর্টের প্রতিষ্ঠাতা নিথর মাহবুব। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মাইম আর্টের আয়োজনে নতুন নতুন মাইম শিল্পী ও দর্শক তৈরিতে সচেষ্ট ছিলেন। ১০ বছর আগে যেখানে মূকাভিনয় করার একটি মাত্র সংগঠন মাইম আর্ট ঢাকায় সক্রিয় ছিল; সেখানে ঢাকাসহ সারাদেশে এখন গড়ে উঠেছে শুধু মাইম নিয়ে কাজ করার অসংখ্য সংগঠন ও শিল্পী। সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এক সময় থেমে যাওয়া অনেক মূকাভিনয়ের দল ও মূকাভিনেতারা। অনেক সবাক অভিনয়ের দলেও এখন মূকাভিনয় চর্চা হচ্ছে। দেশে গড়ে উঠেছে একটি মূকাভিনয়ের ফেডারেশনও। অর্থাৎ বলা যায় বাংলাদেশে মূকাভিনয় শিল্প এখন স্বতন্ত্র শিল্প মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শুরু থেকে মাইম আর্ট কর্মশালা পরিচালনার পাশাপাশি ৫-৭ মিনিটের ছোট ছোট মূকাভিনয় প্রযোজনা মঞ্চে আনতে থাকে; যেগুলোর প্রায় সবই ছিল একক মূকাভিনয়। যার মধ্যে আছে- ‘প্রেমপত্রের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’, ‘খেলোয়াড়ের গন্ডগোল’, ‘বাংলাদেশ’, ‘অনুতপ্ত’, ‘ঘাউরা লাটিম’ ইত্যাদি। ২০১১ সালে মাইম আর্ট মঞ্চে আনে ২৫ মিনিটের মূকনাটক ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’। এটি প্রশংসিত হলে ২০১৩ সালের ২৩ মে মাইম আর্ট টিকেটের বিনিময়ে প্রদর্শনীর জন্য ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’কে এক ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ মূকাভিনয় প্রযোজনা হিসেবে মঞ্চে আনে। এ প্রযোজনার সুবাদে নাট্যাঙ্গনে দ্রুত পরিচিতি লাভ করে মাইম আর্ট। এরপর মাইম আর্ট ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর ১৬টি খ- মূকাভিনয়ের সমন্বয়ে ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ শিরোনামে দেড় ঘণ্টার একটি প্রযোজনা মঞ্চে আনে। খন্ড মূকাভিনয়গুলো হলো- ‘মনোযোগে গোলযোগ’, ‘সুযোগসন্ধানী’, ‘অচেতন মানুষ সচেতন ছাগল’, ‘ডার্টি ম্যান’, ‘গাল ফ্রেন্ড ও খালি পকেট’, ‘বিলের ফাঁদ’, ‘পরকীয়া’, ‘অকৃতজ্ঞ’, ‘মুখ পালিশ’, ‘ভুলের মাশুল’, ‘ইভটিজিং’, ‘ভন্ড ফকির’, ‘ভোটের দন্ধ’, ‘বয়রা প্রতিযোগী’, ‘ওভার কনফিডেন্স’, ‘বাড়াবাড়ি’। হাস্যরসের মাধ্যমে সমাজের একাধিক অসঙ্গতি তুলে এনে বিভিন্ন ম্যাসেজ প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে মূকাভিনয়ে দলীয় প্রযোজনার নতুন দ্বার উন্মোচন করে বাংলাদেশে মাইমকে অল্প সময়ে অনেকটাই জনপ্রিয় করে তোলে মাইম আর্ট। এর পর মাইম আর্ট মঞ্চে আনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাত্রার মূক নাটক ‘ইউ-টার্ন। পেট্রোলবোমার ওপর নির্মিত এই মূকনাট্যটিও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। মাইম আর্ট হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মূকাভিনয়ের অন্যতম এবং অগ্রপথিক এক সংগঠন। ডাক আসতে থাকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের হয়ে কাজ করার। যা ফলে মাইম আর্ট এর প্রযোজনায় মঞ্চে আসে জনসচেতনতা ও সেবামূলক অনেক প্রযোজনা। যার মধ্যে আছে- ‘সাদা মনের মানুষ’, ‘ভূমিকম্পের আগে ও পরে’, ‘কাজের সঠিক ও সহজ নিয়ম’, ‘নারী নির্যাতনের সাজা’, সম্প্রীতি, ইত্যাদি। মাইম আর্ট দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সময়ে যেসব সেবামূলক সংগঠনের হয়ে কাজ করেছে তার মধ্যে সেবা, লিউ ক্লাব, রেড ক্রিসেন্ট, গণজাগরণ মঞ্চ, মহিলা পরিষদ ইত্যাদি। বিভিন্ন সময়ে মাইম আর্ট অসুস্থ ব্যক্তি ও দেশের দুর্যোগকবলিত মানুষের সহযোগিতার জন্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্থের যোগান দিয়েছে। মাইম আর্ট দেশের বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হয়েও প্রদর্শনী করেছে। যার মধ্যে আছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ওই ফোন, জাইকা, আইবিএ, এক্সপ্রেশন, ডিবিএল সিরামিক, গ্রামীণফোন ইত্যাদি। সব মিলিয়ে গত ১০ বছরে মাইম আর্ট সারাদেশে ৩০০টিরও অধিক মূকাভিনয় প্রদর্শনী করেছে এবং ২০টির অধিক মূকাভিনয় কর্মশালার আয়োজন করেছে।