১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে অনিয়ম

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ১০ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ১০ সদস্যের সিন্ডিকেট সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের বেশি টাকা আদায় করে নিচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শাহ নেওয়াজ সিদ্দিকীকে তদন্তের জন্য দায়িত্বভার দেয়া হয়। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রণালয় ১০ সিন্ডিকেট সদস্যের ব্যাপারে সরেজমিনে জরিপে নেমেছে। মন্ত্রণালয় সচিব ড. নমিতা হালদার এই তদন্তের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় সিন্ডিকেট মূলত মালয়েশিয়া সরকারের ইচ্ছাতেই তৈরি করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ১০ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো নির্ধারণ করা হয়। এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি সমঝোতা স্মারকও সম্পাদিত হয়। কিন্তু ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের বেঁধে দেয়া অর্থের সঙ্গে সিন্ডিকেটের সদস্যরা যে পরিমাণ অর্থ নিচ্ছে তার মধ্যে কোন গরমিল আছে কিনা। যদি এর মধ্যে কোন অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির আভাস পাওয়া যায় তাহলে ১০ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। সরকার মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যাপারে কৃষিক্ষেত্রে এক লাখ চল্লিশ হাজার আর নির্মাণ ও কারখানায় কাজের জন্য এক লাখ ষাট হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। যে সব প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়। আরও ৩ লাখ ৯০ হাজার কর্মী পাঠাতে তারা প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষের পাসপোর্ট জমা নিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের মধ্যে আবার ৩০ শতাংশ কর্মীকে ‘অযোগ্য’ বিবেচনা করে পাসপোর্ট ফেরতও দেয়া হচ্ছে। শুধু স্বাস্থ্য পরীক্ষার খাত থেকেই প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ হিসাবে আসে সরকার নির্ধারিত টাকা প্রদানের ব্যাপারটি। সেখানে আরও জোচ্চোরি। কারণ দেড় লাখ টাকার পরিবর্তে নেয়া হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। বলা হচ্ছে এই দশ সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর দুর্নীতি মাফিয়া চক্রের অর্থ আত্মসাতকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে জনশক্তি রফতানির যে নৈতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম তা অর্থ লোপাটের সর্বশেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

কৃষি, নির্মাণ এবং কারখানায় শ্রম বিনিয়োগ করতে দেশ থেকে বাইরে পাড়ি দেয় অতি সাধারণ ঘরের জনগোষ্ঠী, যারা মোটামুটি কিছু টাকা খরচ করে বিদেশে গিয়ে শ্রমিক হিসেবে নিজেদের কর্মসংস্থান করে নিতে পারে। সরকার কর্তৃক বেঁধে দেয়া অর্থ কোনমতে তারা যোগাড় করার চেষ্টাও করে। কিন্তু জনশক্তি রফতানির সিন্ডিকেটের অর্থ লোভের কোপানলে পড়ে এসব অসহায় শ্রমিক টাকা-পয়সার ভোগান্তিতে তো পড়েই, উপরন্তু সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়। যে সব কাজের কথা বলে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে, সেখানেও তারা মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। কাক্সিক্ষত বা প্রাপ্য কোন পেশাতেই তারা সম্পৃক্ত হতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এই ১০ প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যে, তাদের ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোন প্রভাবই প্রতিপত্তিও খাটে না। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক এসব সিন্ডিকেটের ওপর কড়া নজরদারির কোন সুফল আদৌ ভুক্তভোগীরা পাবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা যাবে কিনা সেটাও সময়ই বলে দেবে।