১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজনৈতিক মানুষ নাচে মিছেই -জাফর ওয়াজেদ

রাজনীতি যদি কেবল ক্ষমতায় গিয়ে জনগণকে কিছু সেবা দিতে পারে, ক্ষমতার বাইরে থেকে জনগণের পাশে থাকতে বা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অন্যায় বা ভ্রান্তির বিরুদ্ধে অক্ষম হয়- তা হলে এ কারণে রাজনীতি ঘিরে অনুদারতা ও অমানবিক বিকারের জন্ম ঠেকানো মুশকিল। বিএনপি নামক অবক্ষয়িত রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতার বাইরে গিয়ে এ ফাঁদে পড়েছে। এই ফাঁদ থেকে উঠে আসার পথ খুঁজেও পাচ্ছে না। না পাওয়ার কারণেই দলটি একই বৃত্তে ঘুরপাক খেতে খেতে দিশা হারানোর বালুচরে পরিণত হতে যাচ্ছে। আর আওয়ামী লীগ নামক দলটি ক্ষমতায় থেকে ভবিষ্যতের জন্য ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে গিয়ে একই ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছে। কে তাকে এই অবস্থা ও অবস্থান থেকে ফেরাবে, সেই মানবেরা দৃশ্যমান নয়। দলটি যে বিপাকে পড়ার সম্ভাবনা থেকে সরে আসতে পারেনি, তা তার নেতা, পাতিনেতা, হাফনেতাদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ স্পষ্ট করে। প্রশ্ন উঠতে পারে, আওয়ামী লীগ কি তামাদি রাজনীতির খপ্পরে পড়ে যাচ্ছে? এটা তো সত্য এবং বাস্তব যে, আজ ক্ষমতা ও এর সুবিধার বাইরে আওয়ামী লীগেরও কোন রাজনীতি নেই। সরকার গ্রাস করে নিয়েছে দলটিকে। যিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, তিনিই আবার মন্ত্রী। অতএব সাধারণ নেতা-কর্মী দূরে থাক, জেলা পর্যায়ের নেতারাও তাদের কাছে পৌঁছতে পারেন না। দলের মধ্যে আদর্শ ও নীতির প্রশ্নটি চাপা পড়ে থাকায় দুর্বৃত্তরা দলের মধ্যে মিশে যেতে পারছে। তারা দুর্বৃত্তায়নের ক্ষেত্রে যে বিস্তার ঘটাচ্ছে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তেই পারে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নানামুখী অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এই অস্থিরতা সৃজনে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা কম যায় না। সব দায়ভার দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘাড়ে চাপিয়ে যেসব নেতারা নির্ভার আছেন, তাদের কাছ থেকে নির্বাচমুখী কোন তৎপরতার নিদর্শন মিলবে না। বরং দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়গুলো অবচেতন বা সচেতনভাবে প্রকট হয়ে উঠছে। সমাজকে খুবলে রক্তাক্ত করার মতো ধ্বংসের শক্তির পদধ্বনি থেমে নেই। ষড়যন্ত্রের কুটিলপথ ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। সেসব থেকে উদ্ধার পেতে রাজপুত্র কিংবা তার সঙ্গী-সাথী, উজির-নাজির-সওদাগর-কোটালপুত্রও তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের দেখা মেলে না। কেবল বড় বড় কথা বলার মধ্যে সবকিছু সীমিত। বিপর্যয় যে দরোজায় কড়াঘাত নাড়তে পারে যে কোন সময়ে, সে নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা যে কত জরুরী, তা যারা অনুধাবন করতে পারছেন না তাদের হাতে দলের ভবিষ্যত উজ্জ্বলতর হবার সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ। আওয়ামী লীগের শক্তি ছিল তার সংগঠন। যদিও সংগঠন সচল থাকে রাজনীতির জোরে, ক্ষমতা বা বিত্তের জোরে নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ কেন যেন দ্বিতীয়টিকেই প্রাধান্য দিয়ে বেশ মৌতাতে থাকার পথ বেছে নিয়েছে। যা তার হবার কথা নয়। নীচের থেকে রাজনৈতিক চাপ দলের গুণগত উৎকর্ষ সাধনে যথেষ্ট সহায়ক। কিন্তু দলের নিচের দিকে অধঃপতনের বিষ এমনভাবে ছড়ানো হচ্ছে যে, দলের মধ্যে অধঃপতিতদের ভিড় বাড়ছে। দুর্গন্ধ ছড়ানোদের অস্তিত্বও দলে প্রকট হয়ে উঠছে। তাই দেখা যায় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিরোধী শক্তি ও তাদের প্রতিভূরা ব্যাপক ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগারদের চক্ষুকর্ণ তা অবলোকন ও শ্রবণের বিপরীতে রয়েছে। ফলে সবকিছু তাদের হয়ত মনে হচ্ছে, সুশাসন এবং সব নিজেদের আয়ত্তে রয়েছে। কলকাতায় হোচিমিন সরণিতে একটি বিদেশী দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের অফিসে বসে নানা পরিকল্পনা করা হচ্ছে- কী করে শেখ হাসিনাসহ মহাজোট সরকারকে সরানো যায়। সম্ভাব্য অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ বহাল করায় বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের বিদেশী প্রভুরা যে তৎপর, সে নিয়ে সামান্য উৎকণ্ঠাও দেখা যায় না দলীয় নেতাদের মধ্যে। বালখিল্য বক্তব্য জনগণের কাছে হাসিঠাট্টার খোরাকে পরিণত হওয়া কোন মূল্যায়ন নয়। বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি প্রাণ পায় এখন প্রতিবেশী রাজ্য থেকেও। কিন্তু তার শেকড় উপড়ে ফেলার কোন প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয় না।

নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই গণবিমুখ কাজকর্ম প্রাধান্য পাচ্ছে। দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীরা আন্দোলন, অনশন করছেন। এসবের দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায় না। বরং বিরূপ মন্তব্য বিরূপতা বাড়িয়ে চলছে। অপপ্রচারের পরিমাণ বাড়ছে। এক ধরনের অসহিষ্ণুতা ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস দেখা যায়। ৭ মার্চ বাঙালীর জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে যে ভাষণ দেন, ইতিহাসের মাইলফলক ধরে তা আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে। ঐতিহাসিক সেই দিবসটি স্মরণে আওয়ামী লীগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করেছিল মহাসমাবেশের। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিকতা হারিয়েছিল। মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ জনগণকে জানান দেয়নি, কোন কোন রুট চালু থাকবে, কোন রুটে মিছিল যেতে পারবে। জনগণ রাজপথে নেমে বিভ্রান্তির কবলে পড়েছিল। নগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাস প্রায় ‘নেই’ হয়ে গিয়েছিল। অনেক রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। স্কুল-কলেজ ফেরতগামী শিক্ষার্থীরা, হাসপাতালের রুগীরা বিপাকে পড়েছিল অন্যদের মতো। অধিকাংশ যানবাহন সমাবেশে যোগদানকারীরা আগেই ভাড়া করে নেবার কারণে পরিবহন সঙ্কট দেখা দেয়। কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ দিয়ে আসা সমাবেশে যোগদানকারীদের বাসগুলো বাংলামোটরে থেমে যায়। বাংলামোটর থেকে ইস্কাটন পর্যন্ত বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছিল। যোগদানকারীরা বাস থেকে নেমে মিছিল সহকারে সেøাগান দিতে দিতে সমাবেশ স্থলে এগিয়ে যায়। এসব দৃশ্য সচক্ষে দেখা। ইস্কাটনে জনকণ্ঠ ভবন পর্যন্ত বাসের সারি ছিল। বাসে চড়ে যারা এসেছিল, তাদের অধিকাংশকেই মনে হয়নি রাজনৈতিক দলের কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, একজন এমপির হয়ে (বাসের সামনে ব্যানারে যার নাম লেখা) তারা এসেছে। এরা কেউ বেকার, কেউ দিনমজুর, কেউ শ্রমিক। এদেরকেই দেখা গেল সমাবেশ শেষ হবার আগে বাসে চড়ে ফিরে যেতে। এমপির পক্ষে শোডাউন দিতে এদের এই আগমন ও প্রস্থানের মাঝখানে যে ‘বীভৎস’ ও ‘ন্যক্কারজনক’ কর্মকা- ঘটে গেল, তা অভাবনীয়। রাজনৈতিক কর্মী হলে তারা এই আচরণের বহির্প্রকাশ ঘটাতো না। বাংলামোটরে কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা আমার কন্যার সঙ্গেও হতে পারতো। অদিতি বৈরাগীকে সে এগারো বছর ধরে চেনে। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ধানম-ি শাখায় ২০০৭ সালে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল আমারই কন্যার সঙ্গে। এখন তারা কলেজছাত্রী একই প্রতিষ্ঠানের। অদিতি স্কুলে আবৃত্তি, নাটক, বিতর্ক, ক্রীড়া, সঙ্গীত, লেখাপড়ায় শীর্ষস্থানে ছিল। পড়াশোনার ব্যাপ্তি তার বিশাল। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচীতেও ছিল তার শীর্ষ অবস্থান। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এসব বিষয়ে তার সম্যক ধারণা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে স্কুল ও কলেজে একটি সংগঠনও গড়ে তুলেছিল। কলেজ ড্রেস পড়া আমার কন্যার সহপাঠীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা শুধু ঘৃণাতেই মুছে যায় না। এমন একজন প্রতিভাবান মেধাবী ছাত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক যে নির্যাতন করা হয়েছে, তা বলার ভাষা নেই। সেদিন শহরজুড়ে পরিবহন বিপর্যয়ের কারণে অদিতিকে বাংলামোটর আসতে হয়েছিল। বাসে চড়ে আসা যাওয়া করা অদিতির ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যে ‘রুচি বহির্ভূত’ বক্তব্য রেখেছেন, তা রাজনৈতিক নয়, বরং দম্ভোক্তি হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে। তিনি ‘সমাবেশের বাইরের ঘটনার দায় দলের নয়, সরকারের’ বলে যে কুযুক্তি পেশ করলেন, তাতে এই দায় থেকে তিনি নিজেও মুক্তি পেতে পারেন না। তিনি একদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং অপরদিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীও। শুধু যদি দলনেতা হতেন, বুঝা যেতো সরকার মানে প্রশাসনের দায়ভার। যেখানে দল এবং সরকার একাকার, সেখানে দায়ভার তো দল ও সরকারের ওপরই বর্তায়। আর এমন অভব্য ঘটনার নিন্দা এবং ব্যবস্থা গ্রহণের উল্লেখ না করেই তিনি দায়ভার নিয়ে এমনভাবে ওঠে পড়ে কেন লেগেছিলেন, তা সাধারণ মস্তিষ্কে স্পষ্ট হয় না। তবে মেধাবী মস্তিষ্ক এর মধ্যে অনেক কিছুই আবিষ্কার করে থাকতে পারেন। আওয়ামী লীগ নেতা ধর্ষক, নির্যাতনকারীদের পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন এমনটা কেউ মনে করে না অবশ্য। কিন্তু ঘটনা ভাল করে না জেনে, না শুনে, ঘটনার দায়ভার কার ওপর বর্তায় সে দিকচিহ্ন নির্দেশ করে আসলে বিষয়টাকে কী অবয়ব দিতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট হবে আজ হোক, কাল হোক। আমাদের জানা, মুক্ত সমাজগুলোর সামনে সব সময়ই বিপদ থাকে। অদিতি মুক্ত সমাজে বসবাস করতে চায়। সমাজভাবনা তার কত তীব্র, সে তার বিতর্কের ভাষ্য শুনলে পরিষ্কার হয়। কিন্তু রাজনীতিকরা যখন তা গলটিপে হত্যা করতে সহায়ক হলো, তখন বিপদ চতুর্দিক থেকেই আসে। কেবল বক্তৃতা আর বাকশিল্প দিয়ে আজকের দুনিয়ায় চলা যাবে, তা নয়। চাই জ্ঞান বিজ্ঞান, শিক্ষা, ভব্যতা, উদার মূল্যবোধ- যেখানে যা মূল্যবান, তাকেই মুক্তমনে গ্রহণ করতে হবে। দেশবাসীর মন মুক্ত হলে, তবে দেশের মুক্তি হবে এবং সেই দেশের নাম হবে বাংলাদেশ। কিন্তু রাজনীতিকরা কেন যেন এ সবের পায়ে শিকল পরাতে চায়। তার অন্যরকম মাজেজা আছে। আর সেই কারণেই ‘দায়’ চাপানোর কেচ্ছা কাহিনী বর্ণিত হয়।

বিএনপির করুণ দশার বিপরীতে আওয়ামী লীগের অবস্থান সবল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলটি সারাক্ষণ বিএনপি আর বেগম জিয়ার নাম উচ্চারণ করতে করতে কণ্ঠস্বর ক্রমশ জোরালো করে তুলছেন। লীগের নেতারা বিএনপিবান্ধব যে আচরণ করছেন, তা জনগণের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিরূপণ করা হলে বুঝতে পারতেন, কীভাবে তারা সমাধি পথের যাত্রী বিএনপিকে বাঁচিয়ে রাখায় মন্ত্র জঁপে যাচ্ছেন। নিজের দলের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও করণীয় নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করেন না। বরং লীগের এমন নেতার বক্তৃতাও পাঠ করতে হয়, যেখানে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের হেয় করা শুধু নয়, দলের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করে আসছেন, যা আগামী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে বাধ্য। দলপ্রেম এবং দেশপ্রেমের মধ্যে যে মস্ত বড় একটা বিরোধ আছে, সেটা অনেক নেতার মনে খুব স্পষ্ট নয়। অনেক সময় দেখা যায়, দলের স্বার্থে দেশের স্বার্থকে বলি দেয়া হয়।

দুর্নীতির দায়ে আদালতের রায়ে বেগম জিয়া কারাগারে। দুর্নীতির মাতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের মাতা হিসেবে খ্যাত বেগম জিয়াকে যখন গণতন্ত্রের মাতা আখ্যা দেয়া হয়, তখন বোঝা যায়, বিএনপির কাছে গণতন্ত্র হচ্ছে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পরিপূরক। তাই দুর্নীতি শব্দটিকে ঢেকে দিতে গণতন্ত্র শব্দটিকে এনে খেতাব প্রদান হাস্যরসেরই যোগান দেয়। পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা যে গণতান্ত্রিক অধিকার, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাকে হত্যাও গণতন্ত্রের মধ্যে পড়ে তাই তারা বুঝাতে চান। কারাগারের প্রকোষ্ঠে বসবাস করে বেগম জিয়া চাইছেন পুরো দেশটা অন্ধকারে ঢাকা পড়ুক। আর এই অন্ধকার এনে দিতে প্রবাসে রাজকীয় হালে বসবাসরত দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত পুত্রই যথেষ্ট। বেগম জিয়া ও তার পুত্ররা যে দুর্নীতিবাজ, তা আদালতের রায়ে প্রমাণিত। কিন্তু এই কৃতকর্মের জন্য তারা দুঃখপ্রকাশ এবং ক্ষমা চায়নি। লজ্জাবোধের মধ্যেই যে মনুষ্যত্বের প্রকাশ, তা জানা থাকলে আদালতেই অপরাধ স্বীকার করতেন। দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত হয়ে সাজাভোগী বেগম জিয়াকে কারামুক্ত করে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় সুযোগ বিএনপির অনেক নেতা না চাইলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা চায়। তারা বিএনপি নামক মৃতপ্রায় দলটিকে ওষুধ খাইয়ে হলেও সুস্থ করে তুলতে চায়। কিন্তু জনগণ কী চায়? তা আগামী নির্বাচনেই পরিষ্কার হবে।