২২ জুন ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জাপা’র নেতাদের

নিরপেক্ষ  নির্বাচন আয়োজনের দাবি জাপা’র নেতাদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিরোধী দল জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ না করলে দলের বিজয় নিশ্চিত করা যাবে না। কারণ দেশের মানুষ আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

মঙ্গলবার দলের চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মত-বিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগামী নির্বাচনে লাঙ্গলের ফলাদিয়ে সোনার ফসল ফলাবো। এরশাদের সম্পর্ক দেশের মাটি ও সাধারণ মানুষের সাথে। তিনি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে সরকার সহ নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান।

তিনি বলেন, দশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে আমাদেরকে একত্রিত হয়ে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ২৪ মার্চ জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশকে সফল করার লক্ষ্যে গাজীপুর মহানগর আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, দুই জেলায় সংসদীয় উপ-নির্বাচন চলছে। জনগণ লাঙ্গলে ভোট দিচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচনকে কমিশনকে আমরা আগেই অবহিত করেছিলাম। আমরা জানতে পেরেছি নাসিরনগরে পুলিশ রক্ষক হয়ে, ভক্ষকের ভুমিকায় নৌকায় নিজেরাই সীল পিটাচ্ছে। আইনের শাসন কোথায়? অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যালট পেপার সহ পুলিশ হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আলামত নেই। যদি নিরপেক্ষ উপ-নির্বাচন হতো তাহলে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো লাঙ্গলের বিজয় নিশ্চিত হত।

হাওলাদার বলেন, দেশের মানুষ এখন ভালো নেই। সবাই নীরব কষ্টে আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সুশাসন নেই। সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। কিন্তু অপরাধীদের বিচার হচ্ছে না। বিনা বাঁধায় অপরাধীরা সমাজে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। খুন, চাঁজাবাজি, ধর্ষণ নিয়মিত বিষয়। পত্রিকার পাতা খুললেই শুধু অপরাধ আর অপরাধ। ভালো কোন খবর পাওয়া যায় না। আমরা কোন দিকে যাচ্ছি।

গাজীপুর মহানগর সভাপতি আব্দুস সাত্তার এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী, মোঃ সফিকুল ইসলাম সেন্টু, উপদেষ্টা অ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, এমএম নিয়াজ উদ্দিন

সভায় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম দফতর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান, সুমন আশরাফ, নিজাম উদ্দিন সরকার, মোঃ হেলাল উদ্দিন, ফজলে এলাহী সোহাগ, এস এম আল জুবায়ে, হারুন অর রশিদ, রোকসানা, ইসমাইল হোসেন, তসলিম উদ্দিন, আব্দুস সোবহান, আবু তাহের, শফিকুল আলম শফিক, সালাম মোল্লা, ফারুক প্রধান, আল আমিন মুন্না, জাকির হোসেন প্রমুখ।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সমালোচনা করে বলেছেন, রিজভী পল্লীবন্ধুর জাতীয় পার্টিকে নিয়ে যেভাবে কটাক্ষ করেছেন, তা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্হির্ভূত। আপনি (রিজভী) এত বড় গলায় কথা বলেন, নব্বই পরবর্তীতে এরশাদের বিরুদ্ধে ৬২টি মামলা দেয়ার পরও ৩৫টি আসন পেয়েছে জাতীয় পার্টি। কোনো মামলাই এরশাদকে দোষী প্রমান করতে পারেনি। অথচ শুধু বেগম জিয়াই নন, তার পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্ণীতি প্রমানিত হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির কাকরাইল কার্যালয়ে জাতীয় কৃষক পার্টির যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বিএনপির বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ২০০৭ সালেও তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবর ক্ষমতায় পুনরায় থাকার জন্য এরশাদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালেও এরশাদের কৃপা পেতে আপনারা মরিয়া হয়ে গিয়েছিলেন। এসব ভুলে গেলে চলবে না। এখনও আপনাদের (বিএনপির) দলের ব্যারিস্টার মওদুদ, শাহ্ মোয়াজ্জেমসহ অনেক শীর্ষ নেতাই আমাদের কাছ থেকে গিয়েছে। এরশাদই তাদের নেতা বানিয়েছিলেন। বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেবের পিতাও এরশাদের মন্ত্রীসভার সদস্য ছিলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির এই দুর্দশা থেকে অনেকেই এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগদান করছেন দেখেই রিজভী সাহেবরা আতঁকে ওঠেছেন। যার কারণে জাতীয় পার্টি নিয়ে উল্টা-পাল্টা বলতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, যেহেতু আপনারা নিজেদের একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দাবি করেন, তাহলের এধরণের কথা থেকে বিরত থাকেন। তা না হলে দেশের জনগণ অপনাদের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে।

নির্বাচিত সংবাদ