২০ জুন ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের নিহত নাবিলা শিশু কন্যা হিয়ার সন্ধান মিলেছে

ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের নিহত নাবিলা শিশু কন্যা হিয়ার সন্ধান মিলেছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের নিহত কেবিন ক্রু নাবিলা ফারহিনের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে ইনায়া ইমাম হিয়াকে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ শিশু হিয়াকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। উত্তরা (পশ্চিম) থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জনকণ্ঠকে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ডিসি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিশু হিয়াকে তার দাদির হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হিয়ার চাচার বন্ধু বিপ্লব জনকন্ঠকে জানান, বিমান দূঘর্টনার পর হিয়ার দাদি উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে নাবিলার বাসায় গিয়ে তা তালাবদ্ধ দেখতে পান। এরপর রাতেই থানায় জিডি করা হয়। মূলত নাবিলার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তার বোন হিয়াকে ভাষানটেকে তার নানির বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। দুই পরিবারের শোকের কারনে যোগাযোগ করতে পারেনি বলে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুজ্জামান জানান, সোমবার দুপুরে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর শিশু হিয়ার মা কেবিন ক্রু নাবিলা নিহত হয়। এর খবরের পরপরই শিশুটি হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আসে। বাড়ির কাজের বুয়া রুনাকে (৩০) তাকে নিয়ে পালিয়ে গেছে।

সোমবার দুপুরে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবরের পরপরই হিয়ার দাদি উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে নাবিলার বাসায় গিয়ে তা তালাবদ্ধ দেখতে পান। হিয়ার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। রাতেই হিয়ার দাদি বিবি হাজেরা উত্তরার পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি ৯০২) দায়ের করেন। পরে উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সড়কের পাশের একটি বাসা থেকে কাজের বুয়া রুনাকে (৩০) আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের কাজের বুয়া রুনা জানান, বিমান দুর্ঘটনার পর হিয়াকে তার খালা নুসরাত নিয়ে গেছেন। রাতে ভাষানটেকের তার নানা বাড়িতে ছিল হিয়া। এসআই আরিফুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তার খালা নুসরাত শিশু হিয়াকে উত্তরা পশ্চিম থানা নিয়ে এসেছেন। পরে বিকেলে ডিসি ও ওসি সাহেবের উপস্থিতিতে শিশু হিয়াকে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সকালে শিশু হিয়ার খোঁজ পাওয়ার সন্ধান পান তার দাদি। এ সময় হিয়ার চাচি ফাতেমা হোসেন জানান, হিয়ার বয়স আড়াই বছর। সোমবার দুপুরে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবরের পরপরই হিয়ার দাদি উত্তরায় নাবিলার বাসায় গিয়ে তা তালাবদ্ধ দেখতে পান। রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তাঁদের হিয়ার খোঁজ দেন।

পরে জানতে পারি দূঘর্টনার পর হিয়াকে তার খালা নুসরাত নিয়ে গেছেন। ফাতেমা জানান, দুপুরে উত্তরা পশ্চিম থানা থেকে শিশু হিয়াকে তার দাদি বাসায় নিয়ে এসেছেন। হিয়ার চাচা বাবলু নেপাল গিয়েছেন। তিনি নাবিলার লাশ গ্রহন করার জন্য। শিশু হিয়ার বাবা আনান আহমেদ দেশের বাইরে থাকেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের বাসায় মেয়ে হিয়াকে নিয়ে থাকতেন কেবিন ক্রু নাবিলা।