১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাট সমন্বয় সেল

পাট নিয়ে নতুন করে পাঠ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। পাটের বহুমুখী ব্যবহার ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার পর পাট নিয়ে নানামুখী কাজ চলছে। গবেষণা কার্যক্রমও চলছে। পাট শুধু আমাদের সোনালি অতীতই নয়, সোনালি ভবিষ্যতও বটে। গত কয়েক দশক ধরে তৈরি পোশাক খাত এবং প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালক হিসেবে কাজ করেছে। এখন সময় এসেছে নতুন চালক খুঁজে বের করার এবং এক্ষেত্রে পাটের সম্ভাবনা খুবই বেশি। মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য অর্থনীতির ক্ষেত্রে নতুন একটি শক্তিশালী চালক প্রয়োজন। যা পাটের মাধ্যমে সম্ভব। বিএনপি-জামায়াত সরকার আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার সেখানকার যন্ত্রপাতি দিয়ে বিশেষ করে যশোর এবং বগুড়া অঞ্চলে পাট খাতের নতুন সম্ভাবনার দিক উন্মোচন করেছে। পাটের হারিয়ে যাওয়া বাজার আবার ফিরে আসছে। বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে সরকারী লোকসানী প্রতিষ্ঠান পাটকলগুলোর টিকে থাকা না থাকা সমান আজ। বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন বা বিজেএমসি দীর্ঘদিন ধরেই একটি লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পরিচালনার দায়িত্ব পায় বিজেএমসি। প্রতিবছরই প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের হার বাড়ছে। অর্থাভাবে যথাসময়ে পাট যেমন কিনতে পারে না, তেমনি শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা বকেয়া থাকছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিতে ‘ভয়ঙ্কর প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিষ্ঠাকালীন বিজেএমসির মূল দায়িত্ব ছিল পাটকলের পাটপণ্য উৎপাদন ও বিক্রি পর্যন্ত। কিন্তু কৃষকদের কাছ থেকে কাঁচা পাট নিয়ে তা পাটকলে সরবরাহ করার জন্য আরেকটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৮৫ সালে। বিজেএমসি নামক বিশাল এ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি কৃষকের কাছ থেকে কাঁচা পাট কিনে পাটকলগুলোয় সরবরাহ করত। প্রক্রিয়াজাত করে রফতানিও করত। কিন্তু আশির দশকের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দিয়ে দিয়ে শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছিল। ফলে ১৯৯৩ সালে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে বিলুপ্ত ঘোষিত হয় এক সময়ের রমরমা প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাস্তবে বিলুপ্ত হয়নি। বন্ধ ঘোষণার দুই বছর পরও সংস্থাটি চলছে। সংস্থা বিলুপ্ত করার জন্য চালু রেখে দাফতরিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সেই পথ ধরেই চলছে বিজেএমসিও। সরকারী কোষাগার থেকে প্রতিবছর বিজেএমসিকে চার/পাঁচ শ’ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার পরেও তারা লোকসান থেকে বের হতে পারছে না। যে পদ্ধতিতে চলছে প্রতিষ্ঠানটি তাতে পাটের উন্নয়নের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাই অর্থ মন্ত্রণালয় পাটের উন্নয়নে বিজেএমসিকে বন্ধ করে দিতে চায়। বিকল্প হিসেবে পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সমন্বয় সেল স্থাপনের প্রস্তাব রেখেছে। পাটের প্রসারের জন্য এ সেল গঠন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাবলিক, প্রাইভেট পার্টনারশিপ তথা পিপিবি এবং সরকারী-বেসকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পাটকে এগিয়ে নেয়া প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় পুরনো বিজেএমসি রাখার প্রয়োজন পড়বে না। পাটের যে নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে তার প্রসারেই প্রয়োজন এই সেলের। এমনিতেই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বেশিরভাগ পাটকলই পুরনো। উৎপাদন ক্ষমতাও কম। এ অবস্থার পুরনো মেশিনপত্র বিক্রি করে নতুন মেশিনপত্র লাগানোর বিজেএমসির উদ্যোগ অর্থহীনতায় পর্যবসিত হয়েছে। পরিবেশ সচেতনতার এই যুগে উন্নত বিশ্বে পাটের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়া এবং তাদের বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা বাড়ছে। দেশেও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। পাটের হারিয়ে যাওয়া বাজার ফিরে আসছে। কিন্তু এসব কিছুর জন্য দেশে কোন ‘পাট আইন’ নেই। থাকলে এই শিল্প অনেকদূর এগিয়ে যাবে। দুর্নীতি-অনিয়ম কমে আসবে। দিনগুলো সচল হবে। দেশে-বিদেশে পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে জুটপাল্প প্যাকেজিং এ্যাক্ট প্রণয়ন জরুরী অবশ্য। পাট নিয়ে যত গবেষণা চলছে, তা থেকে উপকৃত হওয়ার মতো উদ্যোগ গ্রহণ জরুরী। পাট হোক দেশের আয়ের বিশাল উৎস। পাটচাষী ও পাটশিল্প শ্রমিকদের জীবনে আসুক সচ্ছলতার আবহ। পাটের নতুন পাঠ গ্রহণ এখন জরুরী।