১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোরিয়ায় প্রবাসী বাঙালীদের সঙ্কট

বিদেশী শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শিল্পোন্নত দেশও বাংলাদেশ থেকে কর্মী বিনিয়োগে বরাবরই আগ্রহ প্রকাশ করায় প্রবাসী বাঙালীরা সেখানে বসবাস করে আসছে নির্দিষ্ট মেয়াদে। কিন্তু বর্তমানে সেই শ্রমবাজারে বাংলাদেশীর অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি বিএনপি- জামায়াতের সদস্য দক্ষিণ কোরিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করায় সেখানকার শ্রমবাজার বাঙালীদের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, দেশটির সর্বোচ্চ মহল এই ধরনের রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশও করেছে। এসব কর্মী উল্লেখ করে দেশে তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলার অভিযোগ আছে, যে কারণে তারা এখানে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে। বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দেশের দালাল চক্র তাদের কোরিয়ায় পাড়ি জমাতে সাহায্য করেছে। প্রয়োজনীয় আইনী কাগজপত্রও তাদের সঙ্গে আছে। তবে এসব কাগজপত্রে বিধি মোতাবেক কোন ছাড়পত্র নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে কোরিয়ার শ্রমবাজারে প্রায় ২০ হাজার প্রবাসী বাঙালী কর্মরত আছে। তাদের বেতন-ভাতা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি বলে প্রতিবছর প্রায় দেড় থেকে দু’শ’ কর্মী কোরিয়ায় অভিবাসী হিসেবে চলে যায়। কর্মীরা ১২০০ থেকে ১৮০০ ডলার মাসিক বেতনে সেখানে কাজ করে। যা যে কোন উন্নত দেশের তুলনায় বেশি। তার ওপর থাকা-খাওয়ার খরচ মালিক পক্ষ নির্বাহ করে। ফলে বেতনের সিংহভাগ তারা দেশে পাঠিয়ে দেয়, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্স সংগ্রহেও বিরাট অবদান রেখে আসছে। নির্দিষ্ট মেয়াদে কোরিয়ার শ্রমবাজারে অনেক বাংলাদেশীর সময়সীমা এখন শেষ পর্যায়ে। তবে তারা এখন আর দেশে ফিরে আসতে চান না। তারা হরেক রকম অভিসন্ধির আশ্রয় নিচ্ছে থেকে যাওয়ার। আর এই রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়াও এক প্রকারের কূট- কৌশল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে কোরিয়ান সরকার এখন অবধি কাউকেই রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়নি। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কিছু অবহিত নন বলে জানান। এমনকি কোরিয়ান কর্তৃপক্ষ থেকেও তারা কোন ধরনের অভিযোগ পায়নি। কোরিয়ান সরকার এ বিষয়ে কিছু জানালে মন্ত্রণালয় অবশ্যই যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সম্পর্কে কিছু জানে কি না তাও নিশ্চিত করতে পারেননি এই কর্মকর্তা। এই ধরনের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিই শুধু ক্ষণœœ হবে না পাশাপাশি শ্রমবাজারে বাঙালীদের প্রবেশও হুমকির মুখে পড়তে পারে। কারণ নির্ধারিত সময়ের কর্মী নিয়োগ চুক্তিতে সে দেশে স্থায়ীভাবে থাকার কোন সুযোগ নেই। ফলে চুক্তি মোতাবেক সময়সীমা পার হলে প্রবাসী বাঙালীদের দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করবে সে দেশের সরকার। এর অন্যথা হলে কর্মী নিয়োগই বন্ধ করে দিতে পারে কোরিয়ান কর্তৃপক্ষ, যা বাংলাদেশের জন্য সঙ্কটময় হয়ে উঠতে পারে। তবে বিদেশী শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের বিনিয়োগ করার চাইতেও এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি জরুরী জনসংখ্যার চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

উন্নয়নের গতিধারায় বাংলাদেশ আজ নিরন্তর সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিস্তার সমৃদ্ধির ধারাকে আরও বেগবান করছে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে বাংলাদেশকে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। আধুনিক শিল্পোদ্যোক্তারা যেভাবে কল-কারখানার প্রবৃদ্ধি ঘটাচ্ছেন সেখানে বাংলাদেশের শ্রমবাজারও উন্নত দেশের মতোই অনেক বেশি কর্মী বিনিয়োগ করতে পারবে বলে আশা করাই যায়। দেশীয় শ্রমবাজারকেও অবাধ ও মুক্ত করতে হবে যাতে জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব অনেকাংশে লাঘব হতে পারে। তবে বাংলাদেশ সেই সম্ভাবনার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে- এ কথা বলাই যায়।