১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেন এই দুর্ঘটন ॥ বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়

কেন এই দুর্ঘটন ॥ বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়
  • টাওয়ার আর পাইলটের ভুল নিয়ে ঢাকা ও কাঠমান্ডুতে বিতর্ক নেপালে দুটি তদন্ত কমিটি

আজাদ সুলায়মান ॥ নেপালে বাংলাদেশী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা তদন্তে একযোগে তিনটি কমিটি মাঠে নেমেছে। বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এ বিপর্যয়ে গোটা জাতি শোকাচ্ছন্ন। মঙ্গলবার এ ঘটনা ছিল- টক অব দ্য কান্ট্রি। সবারই একই প্রশ্ন- কেন এই দুর্ঘটনা। নেপাল এটিসির নাকি পাইলটের ভুল। এদিকে সোমবারের এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় মারা গেছেন দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান। নেপালের গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে এ ঘটনার জন্য পাইলটের ভুলকে দায়ী করার সংবাদ ছেপেছে। আর ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করা হয়েছে। পাইলট নয়- নেপালী এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ভুল বার্তার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইউএস বাংলার সপক্ষে আরও একটি যুক্তি দেখিয়ে বলেছে-মঙ্গলবার হঠাৎ করে নেপাল টাওয়ার অফিস থেকে ৬ কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেয়। এটা ট্রাফিকের ভুল বার্তার আলামত মুছে ফেলারই নিদর্শন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ৭ জন প্রতিনিধি ও ৪৬ জন স্বজন নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট কাঠমান্ডু পৌঁছেছে।

জানা গেছে- মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিধ্বস্ত প্লেনের দুই যাত্রী মারা যান। তাদের একজন ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান। এ নিয়ে বিধ্বস্ত বিমানের ৫১ জন যাত্রী প্রাণ হারালেন। নেপাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সবাদ সংস্থা রাষ্ট্রীয় সমাচার সমিতি (আরএসএস) বলছে, দুর্ঘটনায় ২২ নেপালী, ২৮ বাংলাদেশী, এক চীনা যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। নেপালের ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা এটি। সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ৪ ক্রু ও ৬৭ আরোহীবাহী বাংলাদেশী বেসরকারী এ বিমানটি ত্রিভুবন বিমানবন্দরের পাশের ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় সমবারই নেপাল সিভিল এভিয়েশন দুটো তদন্ত কমিটি গঠন করে। বাংলাদেশের বেসামরিরক সিভিল এভিয়েশনও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গতকালই তারা সবাই নেপাল গিযে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা সেখানে গিয়ে জানতে পারেন- সমবারের ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এমন ৬ কর্মকর্তাকে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের (এটিসি) কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার বদলি করা হয়েছে। তাদের মানসিক আঘাত প্রশমনে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দেশটির ইংরেজী দৈনিক মাই রিপাব্লিকান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। নেপালের গণমাধ্যমগুলোতে এ দুর্ঘটনার জন্য টাওয়ারের চেয়ে বাংলাদেশী পাইলটকেই বেশি দায়ী করেছে। ঢাকার গণমাধ্যমে নেপাল বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের ভুল নির্দেশনাকেই দায়ি করছে। এ নিয়ে চলছে বিতর্ক। তবে এ ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় কিছু বলে গেছেন কিনা সেটার ওপর নির্ভর করছে তা জানা যায়নি। সাধারণত এ ধরনের দুর্ঘটনার পর পরই রক্ষা পাওয়া ককপিট ক্রুদের জবানবন্দী নেয়া হয়। যদি কথা বলার মতো অবস্থায় থাকেন-তাহলে তাদের বক্তব্য নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান বলেন- ওই অডিওটি আমিও শুনেছি। কিন্তু তার সবকিছু স্পষ্ট নয়। অনেক অস্পষ্ট কিছু আছে। ক্যাপ্টেন আবিদের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে কিনা তা আমি নিশ্চিত নই। এটা নেপালী তদন্তকারীদের পার্ট।

এদিকে টাওয়ার আর পাইলটের ভুল নিয়ে ঢাকা ও নেপালে চলছে বিতর্ক। টাওয়ারের সঙ্গে ক্যাপ্টেন আবিদের সর্বশেষ কথোপথনের ব্যাখ্যাও দেয়া হচ্ছে দুভাবে। এ ঘটনায় নেপালের ইংরেজী দৈনিক নেপালী টাইমস কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের সর্বশেষ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড হাতে পেয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে- টাওয়ার থেকে ভুল বার্তা দেয়ার কারণেই ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট। অডিও রেকর্ডের শুরুতে শোনা যায়, কন্ট্রোল রুম থেকে বিমানের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানকে রানওয়ের ০২ দিয়ে অবতরণের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এতে আবিদ বলেন, ঠিক আছে স্যার। নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি প্লেন নিয়ে রানওয়ের সেই ডিরেকশনেই যাচ্ছিলেন। তিনি রানওয়ের যে স্থানে টাচ ডাউন করার কথা সেটা অতিক্রম করে যান। তখন তিনি বেকায়দায় পড়েন। এতে আবারও স্পিড বাড়িয়ে ওপরে ওঠে রানওয়ের শেষ মাথা পেরিয়ে আবার ইউ টার্ন করেন। এবং রানওয়ের পাশ দিয়ে মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে যান। এ সময় তিনি আবারও কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন টাওয়ার থেকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি বর্তমান অবস্থানে থাকতে পারবেন? এ সময় আবিদ জানান, তিনি উত্তর দিক দিয়েই অবতরণ করতে যাচ্ছে। তখন তিনি আবারও রানওয়ে ক্লিয়ার রাখার অনুরোধ জানান। টাওয়ার থেকে কিছু একটা বলার পরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অডিওতে শোনা যায়-সর্বশেষ কথা- ক্যান ইউ হিয়ার মি। কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে টাওয়ার ম্যাসেজ পাঠানো হয় -ফায়ার ফায়ার বলে। তারপর থেকেই ফায়ারের গাড়ি আসতে থাকে ঘটনাস্থলে।

এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে নেপালী সংবাদমাধ্যম অন্নপূর্ণা পোস্ট। সেখানেও ওই অডিও যোগাযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। অপর একটি অডিও কথোপকথন সূত্রে কাতারভিত্তিক আল জাজিরাও দুর্ঘটনার নেপথ্যে কন্ট্রোল রুমের ভূমিকার আশঙ্কার কথা বলেছে।

নেপাল ট্রাফিক কন্ট্রোলারের এই অডিও সম্পর্কে ঢাকায় ইউএস বাংলা থেকে ব্যাখ্যা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। বিশেষ করে গতকাল ওই টাওয়ারের ৬ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার পর পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইউএস বাংলার পক্ষ থেকে বলা হয়- কন্ট্রোল রুমের ভুল বার্তাই দুর্ঘটনার কারণ। এ প্রসঙ্গে ইউএস বাংলার সিইও- আসিফ ইমরান বলেন, বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাইলটকে ভুল বার্তা দেয়া হয়েছিল।

এদিকে ওই কথোপকথনের বিবরণ দিয়ে নেপাল টাইমস জানায়, এয়ার কন্ট্রোল রুম- এটিসি থেকে পাইলটকে বলা হচ্ছে, আমি আবার বলছি, রানওয়ে ২০ দিকে এগোবেন না। পাইলট অপেক্ষা করছেন বলে জানান। কন্ট্রোল রুম তাকে বিমান অবতরণ না করে অপেক্ষা করতে বলেন। কারণ আরেকটি বিমান ওই রানওয়ের দিকে এগিয়ে আসছে।

বিমানটি ডানদিকে ঘুরে গেলে এটিসি থেকে জানতে চাওয়া হয়, আবিদ কি রানওয়ে জিরো টুতে (উত্তর প্রান্ত) ল্যান্ড করবেন নাকি রানওয়ে টু জিরোতে (দক্ষিণ প্রান্ত)। আবিদ জানান, তারা রানওয়ে টু জিরোতে (২০) ল্যান্ড করবেন। এরপর জানতে চাওয়া হয় তিনি রানওয়ে দেখতে পারছেন কিনা। আবিদ নেতিবাচক উত্তর দেন। এবার এসিটি থেকে তাকে ডানদিকে ঘুরতে বলা হয়। তখন আবিদ জানান, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। বলেন, জিরো টু-তে অবতরণ করার জন্য প্রস্তুত। কন্ট্রোল টাওয়ার জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের বিমানটিকে টু-জিরোতে নামার চূড়ান্ত অনুমতি দেয়া হয়েছে। (একটু আগেই কথা হয়েছে জিরো টুর বিষয়ে। এ সময় প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে একটি সামরিক বিমানকে অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল। এরপর ইউএস ক্যাপ্টেন জানতে চান, স্যার, আমরা কি অবতরণের অনুমতি পেয়েছি? কিছুক্ষণ নীরবতার পরই কন্ট্রোলের চিৎকার শোনা যায়- আমি আবার বলছি, ঘুরে যান। এরপরই ফায়ার ওয়ানকে ডাকা হয়, যার মানে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর নেপালী একজন পাইলটের প্রশ্নের জবাবে রানওয়ে বন্ধ বলে জানানো হয়।

এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার নেপাল টাওয়ার অফিস থেকে ৬ জনকে প্রত্যাহারের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছে ইউএস বাংলা। যদিও নেপালের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক রায়হান পোকহারেল বলেছেন-এমন দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মেনেই তাদের অন্যত্র সরানো হয়েছে। তারা একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেছে এবং তারা শোকাহত। তাদের চাপ কমাতেই আমরা তাদের অন্য বিভাগে স্থানান্তর করেছি বলেছেন, নেপালের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক রায়হান পোকহারেল।

যেভাবে লাশ আনা হবে ॥ এ ঘটনায় নিহতদের মরদেহ কবে নাগাদ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল নাইম হাসান জানান- এখন লাশ শনাক্তকরণের চেষ্টা করছেন তাদের স্বজনরা। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় লাশগুলো বিকৃত হয়ে পড়ায় শনাক্তকরণে সমস্যা হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশীদের লাশ ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। লাশ শনাক্তকরণ করাটাও জটিল ব্যাপার। কারণ নেপালী ও বাংলাদেশীদের চেহারাও একই ধরনের। এজন্য স্বজনদের পাঠানো হচ্ছে। তবে দু-একদিনের মধ্যেই লাশগুলো ঢাকায় হতে পারে।

জানা গেছে- শনাক্ত করার পর ইউএস-বাংলা নিজস্ব খরচে লাশগুলো ঢাকায় নিয়ে আসবে। তবে ঢাকায় পাঠানোর সময় পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, কাঠমান্ডু পুলিশের রিপোর্ট, দূতাবাসের রিপোর্ট এই তিনটি কাগজ অবশ্যই লাগবে। এসব রিপোর্ট পেতে কোন সমস্যা হবে না। নেপাল ও বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে নিহতদের স্বজনরা নেপালে পৌঁছানোর পরপরই মৃতদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। মৃতদের লাশ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শনাক্তকরণ জটিল হয়ে পড়েছে। নেপালের সূত্রের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হয়ত ধাতব কোন বস্তু বা অন্য কিছু থেকে নিহতদের শনাক্ত করতে হতে পারে। বাংলাদেশী আহত ১০ জনের সবাই মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কাঠমান্ডু মেডিক্যাল হসপিটালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাতে কাঠমান্ডু থেকে একজন সাংবাদিক জানান- মঙ্গলবার অন্তত ১৩ জনের লাশ শনাক্ত করেছে তাদের স্বজনরা। বাকিগুলো হয়ত আজকের মধ্যেই হয়ে যাবে। কজনের চেহারা আগুনে এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে যে চেনা দায়।

ক্যাপ্টেনের ভুল ছিল না- ইউএস বাংলা ॥ ত্রিভুবন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ফ্লাইট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের দিক থেকে কোন ভুলভ্রান্তি ছিল না বলেই দাবি করছে- ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলেনে ইউএস বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামররুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন-আমাদের মনে হচ্ছে.. ক্যাপ্টেনের কোন প্রবলেম আমরা আসলে খুঁজে পাইনি। ইউএস-বাংলার ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের বিমানে তিনি ১৭০০ ঘণ্টা ফ্লাই করেছেন। বাংলাদেশের এভিয়েশনে ৫০০০ ঘণ্টার উপরে কাজ করেছেন। কাঠমান্ডু এয়ারফিল্ডে শতাধিক ল্যান্ডিং ওনার আছে। এয়ারফিল্ড, এয়ারক্রাফট ওনার জন্য নতুন কিছু না। আমাদের মনে হয় না, এখানে ক্যাপ্টেনের কোন ভুলভ্রান্তি আছে। এটিসির সঙ্গে পাইলটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথনের একটি রেকর্ড প্রকাশ পেয়েছে, যাতে মনে হয় রানওয়েতে নামা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে কামরুল বলেন- এটিসি কন্ট্রোল ও পাইলটের লাস্ট মিনিটগুলোর কনভারসেশন ভাইটাল এভিডেন্স হিসেবে কাজ করবে। ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হয়েছে। ইউটিউবে অডিও এসেছে, আমরা সেটা শুনেছি। সেখানে ডেফিনিটলি একটা কনফিউশন আছে। সেখানে নেপালী মিডিয়াসহ বিশ্ব গণমাধ্যমে এটিসি কন্ট্রোলকে কিছুটা দোষারোপ করা হচ্ছে। আমরাও বলছি, এ ধরনের অবস্থার মধ্যে এটিসি কন্ট্রোল থেকেও মিসগাইডেড হতে পারে। ব্যাকবক্স রিডিং সময়ের ব্যাপার। আমরা আশা করছি, আমরা পজিটিভ কোন আউটপুট পাব। প্রকৃত দোষীকে তা বেরিয়ে আসবে। তবে ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, যে দিক দিয়ে বিমানটির রানওয়েতে নামার কথা ছিল, পাইলট নেমেছেন তার উল্টো দিক দিয়ে। তিনি বলেন- আমাদের একটা টিম কাঠমান্ডু পৌঁছে গেছে, ডিসিশনের ব্যাপারে আমরা অনেক বেশি রিলাক্স থাকব। আমাদের অনেক সহজেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারব। নিহতদের মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা স্বজনদের হাতে তুলে দেবেন। নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার জন্য ইউএস বাংলা প্রস্তুত।

ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফ্লাইট ক্যাপ্টেন আবিদের দ্বন্দ্বের খবর গণমাধ্যমে এলে সেটাকে ‘ভুল মেসেজ’ বলে অভিহিত করেছেন কামরুল। তিনি বলেন- ককপিটে বসে ফ্লাইট শুরু করার আগ মুহূর্তেও যদি পাইলট মনে করেন তিনি ‘নট ফিট ফর দ্য ফ্লাই’ তবে কোন অথরিটির রাইট নাই তাকে প্রেসার দেয়। এসব মেসেজের ভেতরে ভুলভ্রান্তি আছে।

২০১৫ সালে সৈয়দপুরে ইউএস বাংলার ফ্লাইট দুর্ঘটনায় পড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেই ফ্লাইটের সঙ্গে নেপালের ঘটনার কোন ধরনের লিঙ্ক বা সামঞ্জস্য নাই। এই এয়ারক্রাফট সেম এয়ারক্রাফট নয়।

নেপালে বিমান মন্ত্রীর বৈঠক ॥ এদিকে নেপালের সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিমানমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নেপালের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। তারা আমাদের দুর্ঘটনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন। আগামীকাল সকাল ৮টায় নেপালের সেনা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করব। দুপুর ১২টায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী খাদগা প্রসাদ শর্মা অলির সঙ্গে বৈঠক করাব। এরপর দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান বিমানমন্ত্রী।

কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা জানতে পেরেছেন কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তারা পরস্পরকে দোষারোপ করছে। বিমানটির বাকবক্স ও ককপিট ভয়েস রিকোভার করা হয়েছে। তারা তদন্ত করছে। আমাদের দলও তদন্ত করছে।

সন্ধ্যার পর বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজে যান বিমানমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল।