১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রামনাবাদের বুকে চর বঙ্গবন্ধু উপশহর গড়ার উদ্যোগ

রামনাবাদের বুকে চর বঙ্গবন্ধু উপশহর গড়ার উদ্যোগ
  • গলাচিপার মাঝেরচর

শংকর লাল দাশ ॥ চরটির নাম ‘মাঝেরচর’। রামনাবাদ নদীর বুক চিড়ে জেগে ওঠা চর। এক সময়ের খরস্রোতা রামনাবাদের বুক জুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায় কেবল সবুজ আর সবুজ। কি না ফলছে সেখানে ! তরমুজ, আলু থেকে শুরু করে মৌসুমি শাকসব্জি, ফলমূল সবই ফলছে। আমন ধানতো রয়েছেই। নদীর তীর ঘেঁষে উঁচু বেড়িবাঁধ আর মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল, ফসলের সমারোহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জমি হয়েছে উর্বর। তাইতো কৃষক আর চাষীদের ব্যস্ততায় সর্বদা মুখর একদা নদীর এ অংশটি।

রামনাবাদের উৎপত্তি আগুনমুখা থেকে। দক্ষিণাঞ্চলের শিহরণ জাগানিয়া নদী আগুনমুখা। যা সরাসরি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলেছে। একটা সময়ে আগুনমুখা পাড়ি দিতে সাহসী মাঝিদেরও অন্তরাত্মা কেঁপে উঠতো। সেই আগুনমুখা থেকে জন্ম বলে রামনাবাদও একটা সময়ে বেশ টগবগে খরস্রোতা ছিল। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা শহর দাঁড়িয়ে আছে রামনাবাদ তীরেই। রামনাবাদ নদীর ঠিক মাঝখানে কয়েক দশক আগে এক চিলতে চর পড়েছিল। চার-পাঁচ দশক আগেও সে চরের দু’পাশ দিয়ে হুইসেল-ভেঁপু বাজিয়ে স্টিমার-লঞ্চ চলতো। নিত্য হাজারও যাত্রী নানা গন্তব্যে যাতায়াত করতো। খর¯্রােতার কারণে নৌকার চলাচল ছিল সীমিত। ধীরে ধীরে এক চিলতের সেই চর এখন বিশাল আকার নিয়েছে। নাম হয়েছে মাঝেরচর। পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মাঝেরচরের অবস্থানগত গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন মাঝেরচর ঘিরে ‘বঙ্গবন্ধু উপশহর’ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রায় ১০ কিলোমিটারের এ বঙ্গবন্ধু উপশহরে পরিকল্পিত আবাসন ছাড়াও অর্থনৈতিক অঞ্চল, তথ্য-প্রযুক্তি পার্ক, স্কুল, কলেজ, স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে এর মাস্টারপ্লান চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এরই মধ্যে নদীর তীর ঘেঁষে উঁচু বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে গোটা মাঝেরচরকে জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে সুরক্ষিত করা হয়েছে।

এতসব পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ-আয়োজনের মাঝেও বসে নেই মাঝেরচরের চাষীরা। গত কয়েক বছরে চাষীরা নিজেদের প্রয়োজনেই মাঝেরচরকে করে তুলেছেন সুজলা-সুফলা। রোপা আমন ধান ছাড়াও কৃষকরা এখানকার জমিতে তরমুজ, আলু থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি শাকসব্জি ও ফলমূল উৎপন্ন শুরু করে দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো চর ছেয়ে গেছে সবুজ আর সবুজে। একের পর এক ক্ষেতে ফলছে নানা ফসল। কয়েকজন চাষী জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগেও নদীর লোনা জলের কারণে এখানে রোপা আমন ধান ছাড়া আর কিছুই হতো না। এখন বেড়িবাঁধ হওয়ায় কৃষকদের নোনা জলে ভুগতে হচ্ছে না। জলোচ্ছ্বাসের প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে। মাঝখানের খালে প্রায় সারা বছর মিষ্টি জল মিলছে। অনুকূল পরিবেশে তাই কৃষকরা নানাবিধ কৃষিপণ্য উৎপাদনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।