১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেনীর একরাম হত্যা মামলায় ৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ

 ফেনীর একরাম হত্যা মামলায় ৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফেনী, ১৩ মার্চ ॥ ফেনী ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেলসহ ৩৯ জনের ফাঁসি ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং বিএনপির জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনার ও ফেনী পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টারসহ ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেছে আদালত। জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হকের আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ফেনী কারাগার থেকে ৩৬ জন আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন। ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত ৩৯ জনের মধ্যে ৯ জন পলাতক রয়েছে। খালাস প্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে ২ জন পলাতক রয়েছে। দ-প্রাপ্ত সকল আসামিকে কারগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন বিচারক।

এ মামলার ১৯ জন চার্জশীটভুক্ত আসামি পলাতক রয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন জামিনে এসে পালিয়ে গেছে এবং ৯ জন শুরু থেকে পলাতক রয়েছে। মামলায় ৫৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয় তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশীটভুক্ত আসামি রুটি সেহেল জামিনে করাগার থেকে বের হওয়ার পর গত ৩ জুলাই ২০১৭ র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে (ক্রস ফায়ারে) মারা যায়।

ঘটনার ১০০ দিনের মাথায় ২৮ আগস্ট ২০১৪ গ্রেফতার হওয়া ও পলাতক মিলিয়ে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশীট জমা দেয়। চার্জশীটভুক্ত ৫৬ জনের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহব্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টার এর নাম রয়েছে। আদালত ১২ নবেম্বর ২০১৪ চার্জশীট গ্রহণ করে। মাহতাব উদ্দিন মিনার, শিবলু উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিলেও আপিলে তা স্থগিত হয়ে যওয়ায় কারাগার থেকে বের হতে পারেনি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২০ মে সকালে ফেনী শহরের একাডেমী এলাকায় ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামকে ফুলগাজী যাওয়ার পথে নিজ দলীয় ক্যাডাররা কুপিয়ে গুলি করে তার গাড়িতে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করে।

একরাম হত্যার ঘটনায় একরামের ছোট ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপির জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক ও ফুলগাজী উপজেলা নির্বাচনে একরামের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারের নাম উল্লেখসহ ৩৫/৪০ জন অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।