২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের সামনে আজ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

ভারতের সামনে আজ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

মিথুন আশরাফ ॥ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে পরিকল্পনা সফল হয়েছে। তাতে হারের বৃত্ত থেকে বের হয়েছে বাংলাদেশ। ছন্দ খুঁজে পেয়েছে। সেই ছন্দ কী আজও বজায় থাকবে? ভারতকে আজ হারাতে পারবে বাংলাদেশ? আজ এই দুই দলের মধ্যকার নিদাহাস ট্রফির ম্যাচ রয়েছে।

ম্যাচটিতে বাংলাদেশ জিতলে ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করবে। হারলেও সম্ভাবনা থাকবে। এ জন্য পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে হবে। আর ভারত জিতলে, তাদের ফাইনালে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে। টুর্নামেন্টে ভারত এখন সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জিতেছে। বাংলাদেশ দুই ম্যাচের মধ্যে একটিতে জিতেছে। শ্রীলঙ্কার অবস্থা বাংলাদেশের মতোই। আজ যদি বাংলাদেশ জিতে তাহলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটিতে তখন হারলেও ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা থাকবে। যদি শ্রীলঙ্কার কাছে বাজেভাবে না হারে বাংলাদেশ। তখন পয়েন্ট সমান হলেও রানরেটে ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা বাংলাদেশেরই বেশি থাকবে।

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দুটি ম্যাচ খেলেছে। একটিতে হেরেছে। একটিতে জিতেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিতলেও ভারতের কাছে প্রথম ম্যাচেই হেরেছে। সেই ভারতের বিপক্ষেই আজ আরেকটি ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের। যে ভারত প্রথম ম্যাচে হারলেও পরের দুটি ম্যাচে জিতেছে। শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত হারলেও বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে।

দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ শিরোপা জেতার কথা বলেছিলেন। জানিয়েছিলেন, ‘লক্ষ্য অবশ্যই টুর্নামেন্ট জেতা। এটা আমাদের প্রথম লক্ষ্য।’ সঙ্গে যোগ করেছিলেন, ‘তবে পাশাপাশি আমাদেরও অনেক কিছু করার বাকি আছে। অনেক কিছু প্রমাণ করার বাকি আছে। আমরা কতটুকু ভাল করতে পারি এই সংস্করণে। শেষ সংবাদ সম্মেলনেও আমি এই কথাটা বলছিলাম, অনেকের মনে হয়তো একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে এই সংস্করণের শক্তিমত্তা নিয়ে। আমার মনে হয় এটা আমাদের জন্য খুব ভাল একটা প্লাটফর্ম আমাদের নিজেদের প্রমাণ করার জন্য। সবার ব্যক্তিগত সেরাটা যদি আমরা আদায় করে নিতে পারি আমার মনে হয় আমাদের খুব ভাল কিছু অর্জন করা সম্ভব।’

প্রথম ম্যাচে সেই ক্ষমতা, যোগ্যতা দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার গড়া ২১৪ রান টপকে জয় তুলে নিয়েছে। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে। একটি জয় দরকার ছিল। ছন্দে ফিরতে এর বিকল্প কোন পথ খোলা ছিল না। সেই পথ পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এগিয়ে যেতে হলে আজ ভারতকে হারাতে হবে। হারাতে পারলে ফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরল হতে পারে। ফাইনালে খেললে শিরোপা জেতার স্বপ্নও বাস্তবায়ন হতে পারে।

সফরপূর্ব আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ কোর্টনি ওয়ালশ বলেছিলেন, ফাইনালে খেলার কথা। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের ভাল সুযোগ আছে। অবশ্যই আমরা দুই দলের (ভারত ও শ্রীলঙ্কা) বিপক্ষে আন্ডারডগ হয়ে মাঠে নামব। তবে পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলতে পারলে ফাইনাল খেলার যথেষ্ট সুযোগ আছে।’ সঙ্গে যোগ করেছিলেন, ‘শ্রীলঙ্কাতে গিয়ে আমাদের ভাল পরিকল্পনা করতে হবে। আশাকরি আমরা নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভাল ক্রিকেট খেলতে পারব।’ পাশাপাশি ওয়ালশের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ দলকে একটা ‘টিম বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে। তাহলে কী সেই ‘টিম বাংলাদেশ’ মিলে গেল?

দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ দল যে বিশ্বাস দেখিয়েছে, যে মনোবল দেখিয়েছে; সেভাবে খেলতে পারলে ভারতকেও হারানো সম্ভব। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পথ দেখিয়েছেও। সেই শ্রীলঙ্কাকে যদি বাংলাদেশ হারাতে পারে তাহলে ভারতকেও হারানো সম্ভব।

অবশ্য বাংলাদেশ দল যতই ছন্দে থাকুক, ভারত টি২০তে অনেক শক্তিশালী দল। দলটিতে বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি, ভুবনেশ্বর কুমাররা না থাকলেও যারা আছেন, তারাই দলকে জেতাতে সক্ষম। ব্যাটিং উইকেট পেলে তো রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়নারা নৈপুণ্য দেখাতে সবসময়ই প্রস্তুত থাকেন। দেখানও। আর ধাওয়ান তো এখন আছেন ফর্মের তুঙ্গে।

বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরাও কম নন। তামিম, লিটন, সৌম্য, মাহমুদুল্লাহরা আছেন ছন্দে। আর মুশফিক তো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটিতে জিতিয়েছেনই। তার অসাধারণ ব্যাটিংয়েই তো জিতেছে বাংলাদেশ। যে জয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের শুধু ছন্দেই ফেরায়নি, আত্মবিশ্বাসীও করে তুলেছে। এই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে এখন ভারতকেও হারিয়ে দিতে পারলেই হলো। এমন একটি জয় যে কোন দলকেই উজ্জীবিত করে তোলে। ধুঁকতে থাকা একটি দল যখন অসাধারণভাবে জিতে তখন সামনে প্রতিপক্ষ যে দলই আসুক, জেতার সম্ভাবনাতেই থাকে। বাংলাদেশ দল সামনের দিকেই এখন চেয়ে আছে। তামিম ইকবালই যেমন বলেছেন, ‘সাপোর্টিং স্টাফ বলেন, ম্যানেজমেন্ট, আমরা খেলোয়াড়রা সবাই চাচ্ছিলাম ভাল করতে। চাচ্ছিলাম একটি ম্যাচ যেন জিতি। সবাই চেষ্টা করছিল, যে করেই হোক একটা ম্যাচ জিততে হবে। গত সিরিজের পর আমরা খুব হতাশ ছিলাম। আমরা মনে করি না যে আমরা এতটা খারাপ দল, যেভাবে খেলছিলাম। এখানেও প্রথম ম্যাচটা ভাল করিনি। দলের জন্য খুব দরকার ছিল জয়টি। এই জয় আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাসী করবে।’ আত্মবিশ্বাসী এখন ক্রিকেটাররা। সেই আত্মবিশ্বাস এখন ভারতের বিপক্ষে ফুটে উঠলেই হয়।