২০ জুন ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টি২০তে নিজস্ব ‘ব্র্যান্ড’ তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দুর্বল দল। এ বিষয়টি দূর আকাশে উড়িয়ে দিয়ে নিজস্ব ‘ব্র্যান্ড’ তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদই এমনটি জানিয়েছেন। শুরুতে তামিম ইকবাল এ ব্র্যান্ডের কথা তুলেছেন। এখন দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের মধ্যেই এ ব্র্যান্ড প্রচলন হয়ে গেছে।

আজ ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে মঙ্গলবার মাহমুদুল্লাহ জানান, ‘আমরা সফর শুরুর আগে ঠিক করেছিলাম যে বাংলাদেশী ব্র্যান্ডের টি২০ খেলব আমরা। আমাদের স্মার্ট হতে হবে। স্কিল আমাদের আছে। স্মার্ট হতে হবে ঝুঁকি নেয়ার ক্ষেত্রে। হয়তো কোন সময় কোন একজন বোলারকে আমরা টার্গেট করতে পারি। সেটা একজন ব্যাটসম্যান আরেকজনকে বলতে পারে বা এরকম আরও কিছু খেয়াল করলে সেটা বলা।’

সঙ্গে মাহমুদুল্লাহ যোগ করেন, ‘এই ব্যাপারগুলোর প্রয়োগই আমরা চাই। যখন যা প্রয়োজন, সেটি করতে পারাকেই আমরা বলছি বাংলাদেশী ব্র্যান্ডের টি২০। আমাদের পাওয়ার হিটার নেই। এটা মেনে নিয়ে আমাদের পথ চলতে হবে এবং জিততে হবে। সেটির উপায়ই হলো স্মার্ট ক্রিকেট খেলা। নিজেদের স্কিলগুলোর প্রয়োগ করতে হবে।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর বাংলাদেশ ওপেনার তামিম বলেছিলেন, ‘আমাদের একজন ধোনি নেই যে সাতে নেমে খেলা শেষ করে আসবে। কিংবা একজন ক্রিস গেইল নেই যে শুরু থেকেই ঝড় তুলবে। কিন্তু আমরা স্মার্ট ক্রিকেটার হতে পারি। কোনভাবে পরিকল্পনা করতে পারি এবং বাংলাদেশী ব্র্যান্ডের টি২০ খেলতে পারি। আমরা ইংল্যান্ড বা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অনুসরণ করতে পারি না। কারণ তাদের ক্রিকেটাররা ভিন্ন ঘরানার, আমরা ভিন্ন। আমাদের উচিত বাংলাদেশী ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলা। একটি দল হিসেবে খেলতে হবে।’ মাহমুদুল্লাহও সেই একই কথা বললেন।

মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পাওয়ার হিটার নেই বা অমুক-তমুক নেই, এসব ভেবে হতাশ হয়ে বসে থাকলে তো চলবে না। শুধু খেলার জন্য খেলার কোন মানে নেই। ভাল করার উপায় বের করতে হবে। আমরা সেটিই করতে চেয়েছি।’

এভাবে যদি খেলা যায়, তাহলে আজ ভারতকেও হারানো সম্ভব। ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করাও সম্ভব। যে ফাইনালে খেলা এবং নিদাহাস ট্রফি জেতাই বাংলাদেশের লক্ষ্য। মাহমুদুল্লাহ এমনই বললেন, ‘আমি সবসময়ই বলছিলাম আমাদের সামর্থ্য আছে, বিশ্বাস আছে যে, আমরা ভাল করতে পারি। শুধু মাঠে করে দেখাতে হবে। দলের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার তাগিদ ছিল। সেটাই হয়তো সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘গত ম্যাচের জয়টি আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এখান থেকে হয়তো আমরা ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে সামনের ম্যাচগুলো খেলব।’

সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াতেই শুধু আটকে থাকতে রাজি নয় বাংলাদেশ। ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করতে চায়। মাহমুদুল্লাহ যেমন বলেছেন, ‘আমরা এই সফরে আসার আগে প্রথম লক্ষ্যই ছিল যে ফাইনাল খেলতে হবে। নিজেরা বলেছিলাম যে আমরা ফাইনাল খেলতে চাই ও ফাইনাল খেলব। লক্ষ্য, যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জেতা। এমন নয় যে আমরা অনেক কিছু করে ফেলেছি। আমাদের পা মাটিতেই আছে। এটা কেবলই একটা শুরু। টি২০ ক্রিকেটে আমাদের নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন ছিল। কেবল সরানো শুরু হয়েছে, আশাকরি আস্তে আস্তে আমরা সরাতে পারব। ক্রিকেটে উন্নতির জায়গা সবসময়ই আছে। সেটি নিয়েই কাজ করব আমরা।’

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েই আলোচনায় এসে পড়েছে বাংলাদেশ। আজ ভারতকে হারাতে পারলে তো আরও সুবিধা হয়। মাহমুদুল্লাহ সেই দিকেই মনোযোগী, ‘ভারত খুব ভাল খেলছে। টি২০ সংস্করণটিই এমন যে নির্দিষ্ট দিনে যে ভাল খেলবে, স্কিলগুলো ঠিকঠাক খেলতে পারবে, তাদেরই ফল ভাল হবে।’