১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিসিবিকে না করে দিলেন ফারব্রেস

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গত নবেম্বর মাস থেকেই প্রধান কোচের পদ শূন্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের। এরপর রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্সের সাক্ষাতকারও গত ডিসেম্বরে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে তাদের কেউ কোচ হচ্ছেন না এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে সন্ধানে ছিল বিসিবি। এর মধ্যেই কয়েকদিন আগে ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ পল ফারব্রেসকে হেড কোচ হতে প্রায় রাজি করে ফেলেছিল বিসিবি। কিন্তু আনুষ্ঠানিক চুক্তির শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসায় তাকে আর পাচ্ছে না বিসিবি।

বর্তমানে ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফারব্রেস। গত সপ্তাহ বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হতে রাজি করিয়ে সবকিছু প্রস্তুত করেছিল বিসিবি। অথচ চুক্তির কাগজপত্র পাঠানোর পরপরই বেঁকে বসেন ফারব্রেস। বিসিবিকে সাফ জানিয়ে দেন যোগ দিতে পারবেন না। অবশ্য এ প্রসঙ্গে দুইপক্ষই মুখ খুলতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর দাবি, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র তাদের জানিয়েছে, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে কোচ হিসেবে চুক্তি সই করার কথা ছিল ফারব্রেসের। কিন্তু চুক্তিপত্র পাঠানোর পর ফারব্রেস বিসিবিকে জানান, এই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারছেন না। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে অনেকটা হুট করেই পদত্যাগপত্র জমা দেন চান্দিকা হাতুরাসিংহে। এরপর থেকেই প্রধান কোচ ছাড়া চলছে বাংলাদেশ দল। চলমান নিদাহাস ট্রফিতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্বে রয়েছেন বোলিং কোচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোর্টনি ওয়ালশ। নতুন কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে গত ৭ মার্চ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই নতুন কোচ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। যিনি সবার ‘পরিচিত ব্যক্তি।’ তবে চারদিন পরই সুর পাল্টে যায় বোর্ড প্রধানের। ১১ মার্চ তিনি সাংবাদিকদের জানান, নিদাহাস ট্রফির পর আরও কয়েকজন কোচের সাক্ষাতকার নেবে বিসিবি। তিনি বলেন, ‘এই সিরিজটা শেষে আমরা এটি (কোচ) চূড়ান্ত করব। ওদের সাক্ষাতকারের জন্য ডাকা হয়েছে। দুই তিনজনকে ডাকব। আশা করছি, এ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলব। এপ্রিলের শুরুর দিকে নতুন কোচ আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে বলে আশা করছি আমরা।’

শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ থাকার সময়ই ফারব্রেসের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল বিসিবি। বিশেষ করে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সফরে শ্রীলঙ্কার অসাধারণ সাফল্যের পর। সেবার বাংলাদেশকে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ফারব্রেসের অধীনেই লঙ্কানরা জিতেছিল এশিয়া কাপ ও টি২০ বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে ফারব্রেসের সাফল্যও বিসিবির চোখ এড়ায়নি। প্রধান কোচ ট্রেভর বেলিসের সহকারী হিসেবে ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের দলকে অসাধারণ সাফল্য এনে দিতে সাহায্য করেছেন ফারব্রেস। ইংল্যান্ড তাদের শেষ দশটি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজের নয়টিই জিতেছে। ২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপে হয়েছে রানার্সআপ। গত ডিসেম্বরে রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্সের সাক্ষাতকার নিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু পরে দু’জনই যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের হয়ে নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। এন্ডি ফ্লাওয়ার, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, টম মুডি, মাহেলা জয়বর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল বিসিবি। তবে তারা সবাই বিসিবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।