১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা-লন্ডন কার্গো ফ্লাইট

বহু প্রতীক্ষিত ও প্রত্যাশিত ঢাকা-লন্ডন নিয়মিত কার্গো ফ্লাইট তথা মালামাল পরিবহন শুরু হয়েছে বুধবার থেকে। উল্লেখ্য, বছর দুয়েক আগে ২০১৬ সালের মার্চে নিরাপত্তার অজুহাতে ব্রিটেনের তৎকালীন ক্যামেরন সরকার ঢাকা-লন্ডন সরাসরি কার্গো ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়াও নাম লিখিয়েছিল এই তালিকায়। এতে স্বভাবতই সমূহ বিপদের মুখোমুখি হতে হয় বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের। ভিন্ন দেশ হয়ে মালামাল রফতানি সর্বদাই সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এক্ষেত্রে অবশ্য ঢাকার সঙ্গে লন্ডনের কিছু ব্যবসায়িক স্বার্থও জড়িত ছিল, যার মধ্যে ছিল নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শক নিয়োগের সুপারিশ এবং সরঞ্জামাদি সরবরাহ। এসব শর্ত যথাসময়ে পূরণের মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরে জট খোলে ঢাকা-লন্ডন সরাসরি কার্গো পরিবহনের।

ইতোমধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হয়েছে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম বা ইডিএস মেশিন ও আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, এই যন্ত্রের মাধ্যমে সহজেই বোমা, বিস্ফোরক ও অস্ত্রশস্ত্র শনাক্ত করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত সবচেয়ে অত্যাধুনিক ও নির্ভরযোগ্য মেশিন বসানো হয়েছে শাহজালালে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ঘাটতির অজুহাতে কার্গো ফ্লাইটের পাশাপাশি তখন এমনকি ঢাকা-লন্ডন যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচলেও আরোপিত হয়েছিল সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। সে সময় যুক্তরাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল যে, ঢাকা বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ পরীক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানসম্মত নয়। ফলে তখন সমূহ বিপাকে পড়তে হয় বাংলাদেশের যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে, যাদের গন্তব্য ছিল লন্ডন। পরে ঢাকার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে তদন্ত দল প্রেরণ করে। এ নিয়ে দু’দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনাও হয়। পরে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দুটো ব্রিটিশ কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হয় শাহজালালে যাত্রীদের লাগেজ পরীক্ষা, তল্লাশি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রায় শত কোটি টাকার বিনিময়ে। এ পর্যন্ত ঠিকই আছে। তবে অজ্ঞাত কারণে তখনও ঢাকা-লন্ডন সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল ও হৃদ্যতাপূর্ণ, ঐতিহাসিকও বটে। সেক্ষেত্রে নিছক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন অন্তরায় হতে পারে না। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঘাটতি বরং বিশ্বব্যাপী একটি বহুল আলোচিত বিষয়। সম্প্রতি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে খবর এসেছে গণমাধ্যমে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসী হামলা শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং সারাবিশ্বের জন্যই একটি অব্যাহত হুমকি। লন্ডন, নিউইয়র্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়ামে বরং জঙ্গী ও সন্ত্রাসী হামলার প্রকোপ বেশি। ব্রিটেনে ৭/১১ -এর মতো ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে ভুল বোঝার কোন অবকাশ নেই। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে আইএস এই হুমকি ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশ সরকার বরং বরাবরই দেশে আইএসের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে এবং স্থানীয় যে সব সন্ত্রাসী ও জঙ্গীগোষ্ঠী জেএমবি, নব্য জেএমবি নামে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে সে সব মোকাবেলা ও নির্মূল করেছে দক্ষতার সঙ্গে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের এহেন তৎপরতা হয়েছে প্রশংসিত। তদুপরি বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিককালে কোন জঙ্গী হামলার উদাহরণ নেই। সে অবস্থায় নিছক নিরাপত্তার অজুহাতে কার্গো ফ্লাইট চলাচলের সাময়িক নিষেধাজ্ঞাটি প্রত্যাহার করাই ছিল যুক্তিসঙ্গত ও সময়োচিত পদক্ষেপ। মনে রাখতে হবে যে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তৃতীয় একটি দেশের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও রফতানি সর্বদাই ঝামেলার ও ব্যয়সাপেক্ষ।

ব্রিটেনকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে হলে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হবে এবং বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অবশ্যই পছন্দনীয় হতে পারে। সে দেশে বাংলাদেশীরা দীর্ঘদিন থেকে সততা ও সুনামের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছে। ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।