১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্বাসরুদ্ধকর জয়, শাবাশ টাইগার্স

অঘোষিত সেমিফাইনালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে। সারাদেশ এখন আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতার মাসে, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের শুভক্ষণে এই জয়ের সংবাদ দেশের সব শ্রেণীপেশার মানুষকে আপ্লুত করেছে। কোটি দর্শক টিভি পর্দায় উপভোগ করেছেন এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। শেষ বল হাতে রেখেই মাহমুদউল্লাহর ছয়ে মধুর জয় আসার পরই মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়ে। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তায় নেমে এসে আনন্দ প্রকাশ করেন। জনকণ্ঠের প্রতিবেদক যথার্থই লিখেছেন: ‘অবিস্মরণীয়, অবিশ্বাস্য, অনন্য, অতুলনীয়, অনবদ্য কোন উপমাই যথেষ্ট নয়। ঘটনাবহুল, আলোচিত, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ২ উইকেটে হারিয়ে নিদাহাস ট্রফির স্বপ্নের ফাইনালে পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের দেশ বাংলাদেশ।’

শুক্রবার রাতে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আমাদের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান করে লঙ্কানরা। ১৬০ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে কিছুটা বিপর্যয় ঘটেছিল বটে। যদিও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের ফলে শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিয়ে মাঠ ছাড়ে লঙ্কানরা। শেষদিকে অনবদ্য হার না মানা ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৮ বলে ৪৩ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি অনেক। প্রথমেই বলতে হবে স্থায়ুর চাপকে জয় করার কথাটি। শেষ ওভারে মাহমুদউল্লাহ সেই চাপ জয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ক্রিকেটে ফিনিশিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খেলার শেষদিকে এসে ভেঙ্গে পড়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে টাইগারদের ঝুলিতে। দুই বছর আগে টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে এমন রুদ্ধশ্বাস একটি ম্যাচেই ব্যর্থ হয়েছিলেন কেউ কেউ। সেবার জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল তিন বলে দুই রান। কিন্তু পারেননি মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক। দুজন পর পর দুই বলে আউট হয়েছিলেন। তাই চাপ উজিয়ে লড়াকু মনোভাব নিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাট চালিয়ে জয় ছিনিয়ে আনার ব্যাপারটি মহাগুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সেক্ষেত্রেও অগ্রসরতার দৃষ্টান্ত রেখেছে। কোন সন্দেহ নেই বীরের মতোই খেলেছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড় মাহমুদউল্লাহ। দলের অন্যদেরও নিশ্চয়ই প্রভাবিত করবে তার এই মাথা ঠা-া রেখে সপাটে ব্যাট চালানোর লড়াকু কৌশল।

আমরা আগেও বলেছি, বাইরের দুনিয়া বাংলাদেশকে যে কয়টি ইতিবাচক অর্জনের জন্য চিনছে তার ভেতর প্রথম সারিতে রয়েছে ক্রিকেট। মেধা ও প্রতিভা যদি ঈশ্বর প্রদত্ত বলে মেনেও নিই, তারপরও থাকে তার চর্চা, অনুশীলন ও সাধনার বিষয়টি। বাঙালীর ক্রিকেটমেধা চাপা পড়ে ছিল পাকিস্তান নামক অভব্য, বাঙালীবিদ্বেষী রাষ্ট্রের কাছে। স্বাধীনতার সুন্দরতম ফসলের একটি আমাদের ক্রিকেট। আমাদের ছেলেরা বিশ্বক্রিকেটে নিজেদের জাদু দেখানোর সুযোগ পেয়েছে।

দেশবাসী আশায় বুক বেঁধে আছে। আজ ফাইনালেও বাংলাদেশ খেলুক বাংলাদেশের মতোই। আর কে না জানে, এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট মানেই বিপক্ষ দলের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়া এক ঝাঁক আনপ্রেডিক্টেবল প্লেয়ার। যারা ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে এমন সব ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে তাতে শুধু অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতে হয়। বিগত জয়ের জন্য টাইগারদের জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন; আর আজকের জয়ের প্রত্যাশায় রইল আমাদের অশেষ শুভ কামনা।