১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমানত সুরক্ষা

আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থের সুরক্ষার বিষয়টি খুব যে গুরুত্ব পাচ্ছে তা নয়। বিদ্যমান ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন-২০০০’ এক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে বলা যাবে না। আমানতকারীদের জমা অর্থের বীমা সুবিধা নেই। ফলে গ্রাহকদের এক ধরনের অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদ্যমান আইনটির কিছু সংশোধন করে ‘আমানত সুরক্ষা আইন’ নামে নয়া আইন প্রণয়ন করেছে। প্রস্তাবিত এই আইনে ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের আমানতের ওপরও বীমা করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আইন প্রণয়নের আগে ও পরে প্রতিষ্ঠিত সব তফসিলী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই বীমার অন্তর্ভুক্ত হবে। কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বীমা না করলে আমানত সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান আমানতের বিপরীতে বীমার প্রিমিয়াম জমা দিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হলে সেই প্রতিষ্ঠানকে অবসান বা বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমানতকারীদের জন্য এই উদ্যোগ সুসংবাদ যেমন, তেমনি দুশ্চিন্তামুক্ত করার প্রক্রিয়া বৈকি। তবে আইনে কোন ধরনের জটিলতা থাকলে তা বিরূপ অবস্থার তৈরি করতে পারে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আমানতকারীসহ সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে মতামত প্রদান করতে পারছেন। এসব মতামতের ভিত্তিতে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে। পরে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে, যেহেতু অর্থ সংক্রান্ত বিষয়। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে তা সংসদে পেশ করা হবে। সংসদে পাস হলে আইনটি কার্যকর হবে। সংসদের আগামী অধিবেশনে আইনটি বিল আকারে পেশ হতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৭টি ব্যাংক এবং ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলোতে মোট নয় লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা আমানত জমা হয়েছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে জমা আমানতের পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। বিদ্যমান আইনে শুধু ব্যাংকের আমানতের বীমা সুবিধার কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে প্রস্তাবিত আইনে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানতেরও বীমা সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে বর্তমানে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত হারে বীমার প্রিমিয়াম আদায় করে। প্রস্তাবিত আইনে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘আমানত সুরক্ষা ট্রাস্ট তহবিল’ নামে একটি তহবিল সংরক্ষণ করবে। এই তহবিলের অর্থ সংস্থা ইচ্ছে হলে বিনিয়োগ করতে পারবে। বর্তমানে অবশ্য এ ধরনের একটি তহবিল রয়েছে। যার অর্থ ট্রেজারি বিল ও স্বল্প মেয়াদী রেপোতে বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত খসড়া আইনে বলা হয়েছে, পর পর দু’বার কোন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম জমা দিতে ব্যর্থ হলে সরকারী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমানত গ্রহণ বন্ধ করতে নির্দেশ দিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। যদিও বিদ্যমান আইনেও এই বিধিবিধান রয়েছে। খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, দু’বারের বেশি প্রিমিয়াম দিতে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ড সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসানের পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে পরামর্শ দিতে পারবে। কোন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম জমা দিতে ব্যর্থ হলে প্রিমিয়ামের সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংরক্ষিত হিসাব থেকে কেটে রাখা হবে। এ ক্ষেত্রে বিলম্বে প্রিমিয়াম জমা দেয়ায় ব্যাংক রেট অনুযায়ী দ- সুদও আরোপ করা যাবে। কোন কারণে দেশে কার্যরত কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া হবে এ আইনের অধীনে, যা গ্রাহকদের জন্য অবশ্যই স্বস্তির কারণ। অতীতে অনেক ব্যাংক গ্রাহক এই অবস্থার শিকার হয়েছে। আমানত হারিয়েছে। আরও স্বস্তি দায়ক যে, আমানতকারীদের জমা আমানতের মধ্যে বীমার সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেয়া হবে। বন্ধ হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করা হবে। আমানতকারীরা অবশ্য আশাবাদী যে, খসড়া আইনে তাদের পুরস্কার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হবে। বিদ্যমান আইনে যে ঘাটতি ছিল, তা পূরণ হওয়ার পর কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া গেলে আমানতকারীদের লাঘব হবে দুশ্চিন্তা। বন্ধ হবে অস্বস্তিকর ও অব্যবস্থাপনা। আশার আলো জ্বালাবে নয়া আইনÑ এমন ভরসা রাখি।