২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হাওড়ে বিকল্প কর্মসংস্থান

হাওড়বাসীর জীবনযাত্রার মান বাড়ানোসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় উন্নয়নে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরী। এর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-কারখানা তৈরি, নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ানোসহ নদী ভাঙ্গনরোধে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ হাওড়বাসীর জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। যা প্রবৃদ্ধির গতিধারাকে আরও এগিয়ে নেবে। বুধবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘হাওড়বাসীর জীবন-জীবিকা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সিসিইআরের পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ প্রবাল সাহা এই গবেষণা জরিপ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। এই প্রতিবেদনে বিপন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাজার অর্থনীতির ত্রুটিবিচ্যুতিসহ জলমহালগুলোতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য বিশেষভাবে উঠে আসে। শুধু তাই নয়, এসব অব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ হাওড়ের পরিবেশকে আরও নির্বিঘœ করতে পারে বলে বিবেচনায় আনা হয়। এই গবেষণায় বিশেষভাবে দিকনির্দেশ করা হয় বন্যার আগাম সতর্ক বার্তা জনগণের দ্বারে পৌঁছানো, দীর্ঘ মেয়াদী কৃষিজ পণ্যের সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাঁধ নির্মাণ, আঞ্চলিক সংস্কার সাধন করে অধিক কর্মসংস্থান তৈরির ওপর। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত সিসিইআর গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই প্রতিবেদন তৈরি করে। পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এই মহতী আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে তার অভিমত ব্যক্ত করেনÑ হাওড়বাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার সব সময়ই তাদের পাশে আছে। সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধির সঙ্গে জনগোষ্ঠীর সুষ্ঠু সমন্বয় নিশ্চিত করে হাওড়বাসীকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

নদীস্নাত বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের যে পানি সম্পদ তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সুতরাং যথাসম্ভব সীমিত পানির অপচয় রোধ করে জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সেবা আরও বাড়াতে হবে। তবে উন্নয়নের প্রবহমান ধারায় হাওড়বাসীও যে খুব পিছিয়ে আছে তা নয়। বর্তমান সরকার এসব অঞ্চলে বিদ্যুত সরবরাহও ত্বরান্বিত করেছে। প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসে গত বছর হাওড়বাসীর ওপর আকস্মিক বন্যার অনভিপ্রেত সমস্যা। ফলে এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার ওপর বিপর্যয় নেমে আসে। এসব অনাকাক্সিক্ষত প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবেলা করেই সংশ্লিষ্টদের বেঁচে থাকতে হয়, এগিয়ে যাওয়া ছাড়া কোন উপায়ও থাকে না। পানি সম্পদ প্রয়োজনীয় মাত্রায় ব্যবহার করতে পারলে তার প্রভাব পড়বে মোট জাতীয় আয়ের ওপর। এ ছাড়া হাওড়ে উৎপাদিত কৃষিজাতপণ্যের বাজারজাত করণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হতে না পারে তার দিকেও নজর রাখা অত্যন্ত জরুরী। যে অঞ্চলের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী কৃষিজীবী সেখানে কৃষকদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের মানোন্নয়নকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে। ফসলি জমি যাতে নদী ভাঙ্গনের সঙ্কটের মুখে না পড়ে তার জন্য বাঁধ নির্মাণকে বিশেষ প্রাধান্য দিতে হবে। হাওড়ের অঞ্চলগত এসব সমস্যা যথাযথভাবে নির্দেশিত না হলে উত্তরণের পথও অত সহজ হবে না। গবেষণা প্রতিবেদনে বিভিন্ন সুপারিশের মধ্যে নদী ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আর অধিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন কল-কারখানা তৈরি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তা বৃদ্ধি করা, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা, জলমহালকে আধিপত্যমুক্ত করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করাসহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আগাম সতর্কবাণী প্রচার হাওড়বাসীর জীবন ও জীবিকা নিরাপদ এবং নিশ্চিত করতে যথার্থ অবদান রাখবে। হাওড়বাসীর জীবনযাত্রায় মৎস্য সম্পদের উন্নয়নও বিশেষ বিবেচনায় আনা যায়। মাছে-ভাতে বাঙালী এই প্রবাদ বাক্যটি আজও তার বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিরাজমান। আর হাওড় অঞ্চলে মাছের চাষ তার অঞ্চলগত বৈশিষ্ট্যের কারণে জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অগ্রগতির নিয়ামক শক্তি। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের চতুর্থতম। কৃষিপণ্য মাছ রফতানি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় শক্তি। হাওড় অঞ্চলে এই মছ উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়ানো যায়। সেই দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক। প্রতিটি অঞ্চলের আপন বৈশিষ্ট্যের যে পর্যায়ক্রমিক ঐতিহ্যিক ধারা তাকে বিবেচনায় রেখেই সমৃদ্ধির দ্বারে পৌঁছতে হবে।