১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যস্ততাতেও নিজের যত্ন

ব্যস্ততাতেও নিজের যত্ন
  • টুটুল মাহফুজ

সকালে ঘুম থেকে উঠে কোনক্রমে অফিসে ছুট। ক্যান্টিনে সকালের নাস্তা সেরে কাজ শুরু। অফিস চেয়ারটায় অতিবাহিত অর্ধেকদিন। তার উপর ঘনঘন কফি। পেটে যে দিন দিন ভুঁড়িটা বাড়ছে, তার জন্য কষ্ট হলেও উপায় নেই। অজুহাত রেডি ‘সারাদিন বসে বসে কাজ করলে ভুঁড়ি তো হবেই!’ এদিকে শরীরে অপুষ্টির প্রভাব টের পাচ্ছেন মাঝেমধ্যেই। পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা, মাথা যন্ত্রণা, চোখ থেকে পানি পড়া, হঠাৎ পায়ের আঙ্গুল বেঁকে যাওয়া, ঘাড়ে ব্যথা। সবকিছুর জন্য দায়ী আপনি নিজে।

.

পানি

পানিই যে জীবন, সেটা কাজের চাপে আপনি ভুলে গেছেন। ব্যাগে পানিভর্তি বোতল বেশিরভাগ দিন ভর্তি অবস্থাতেই বাড়ি ফিরে আসে। ব্যাগের চেন খুলে প্রতিদিনই খেয়াল করেন একবিন্দু পানিও আপনি পান করেননি। এটা অনেকের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি হয়ত জানেন না এই জলই আপনাকে সারাদিন তরতাজা রাখতে পারে। শরীরের অনেক সমস্যাকে দূরে ঠেলে দিতে পারে। কী করে অন্তত পানির কথাটা মনে রাখবেন শুনুন তা হলে। ওই ম্যাড়মেড়ে বোতলটা ত্যাগ করুন। সুন্দর দেখে একটা বোতল কিনুন। তাতে বাড়ি থেকে ঠান্ডা পানি ভরে আনুন। অফিসে এসে সবার আগে ব্যাগ থেকে বোতলটা বের করে রেখে দিন কাজের জায়গায়, একদম চোখের সামনে। পানীয়র স্বাদ বদল করতে পারেন। তাতে ফেলে দিতে পারেন একটা-দু’টো তুলসী বা মিন্টপাতা। লেবু-চিনির পানিও বানিয়ে আনতে পারেন। শরীরের জন্য দারুণ ভাল। দেখবেন, এতে করে আপনি কিছুতেই পানির কথাটা ভুলবেন না।

.

লিফটকে বলুন বাইবাই

ভুঁড়ি বাড়ছে, তার কারণ আপনার কোন শারীরিক মেহনত নেই। সবটাই মাথা খাটিয়ে কাজ আর বসে থাকা। অফিস যদি ৪ তলায় হয়, ক্ষতি কী? রোজ সকালে যে মর্নিংওয়াকটা মিস করেন, পুষিয়ে নিন অন্যভাবে। লিফট ছেড়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে চেষ্টা করুন। এতে আপনার পায়ের এক্সারসাইজ হবে। শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে।

.

শ্বাস নিন প্রাণ ভরে

অনেক সময় কাজের চাপ দম আটকে দেয়। প্রাণ হাঁসফাঁস করে। এর থেকে মুক্তি পেতে সোজা হয়ে বসে নিশ্বাস নিন ২০ বার। জোরে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। দেখবেন অনেক সুস্থ লাগবে শরীর। দিনে অন্তত ২ বার এভাবে নিঃশ্বাস নিন।

.

এক কাপ কফি চলতেই পারে

মেশিনের কফি এড়িয়ে চলাই ভাল। হেল্থ কিটে রাখুন ওয়ান টাইম কফির একটা পাউচ, চিনির ছোট কৌটা আর গুঁড়া দুধের ছোট প্যাকেট। কাচের কাপ রেখে দিন অফিসে। দিনে একবার গরম পানিতে নিজে নিজেই বানিয়ে নিন কফি। দেখবেন খেয়ে ভাল লাগবে। ক্লান্তি চলে যাবে। কফি না খেতে চাইলে টি-ব্যাগও রাখতে পারেন সঙ্গে।

.

দুপুরের খাবার সঙ্গে আনুন

অনেকেই আছেন দু’বেলাই অফিসের ক্যান্টিনে খান। দিনের পর দিন এটা চলতে থাকলে শরীর খারাপ হতে বাধ্য। নারীদের ক্ষেত্রে খুব বড় সমস্যা নয় এটা। কেননা অধিকাংশ নারীরা বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসেন। খুব অল্প সংখ্যক ক্যান্টিন বা বাইরের রেস্তরাঁর খাবার খান। কিন্তু পুরুষরা বেশিরভাগই ক্যান্টিনের খাবার খান। বিশেষ করে অবিবাহিত পুরুষ। এতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। এবার বাড়ি থেকে খাবার আনতে চেষ্টা করুন। ভাল দেখে একটা লাঞ্চবক্স কিনুন সবার আগে। আলস্য কাটিয়ে রোজ কিছু না কিছু একটু বানিয়ে নিয়ে আসুন। ভাত, আলু সিদ্ধ, ডিম সিদ্ধ খেলেও শরীর ভাল থাকবে। সকালে উঠে বানাতে কতই বা সময় লাগবে। বেশি না! পারলে সকালের নাস্তাটাও বাড়ি থেকে নিয়ে আসুন। আর খেয়ে উঠে একদম এক জায়গায় বসে থাকবেন না। একটু হাঁটা চলা করে নিন।

.

গান শুনুন

একটানা কাজ করলে মাথা অনেক সময় কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এই সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে গান। গান এমন এক থেরাপি, যা বিশ্ববিখ্যাত। দু’ঘণ্টা কাজের ফাঁকে ৫ মিনিট ব্রেক নিন। পায়চারী করুন। কানে হেডফোন গুঁজে পছন্দসই গান শুনুন। হতাশা মেটাতে সাহায্য করবে।