২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বৃষ্টি থেকে বিদ্যুত

চীনের সুচৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এবার বৃষ্টি থেকে বিদ্যুত পাওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জোর দেয়া হচ্ছে সৌরশক্তি ব্যবহারের ওপর। কেননা এটি সহজপ্রাপ্য, সুলভ, অফুরন্ত ও সাশ্রয়ী। এর জন্য বিজ্ঞানীরা বর্তমানে প্রচলিত সৌরকোষে সংযুক্ত করেছেন ট্রাইবো-ইলেকট্রিক ন্যানোজেনারেটর বা টিইএনজি প্রযুক্তি, যা বৃষ্টির ফোঁটার গতিশক্তিকে পরিণত করবে বিদ্যুতে। অতঃপর মেঘলা দিনে কিংবা বৃষ্টিপাত হলেও পাওয়া যাবে বিদ্যুত, বাংলাদেশে যা মেলে অফুরন্ত পরিমাণে। নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় অগ্রগতি।

বাংলাদেশে বিদ্যুত ও জ্বালানি সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা ভাবা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। আর শুধু বাংলাদেশই বা কেন, বরং সারা বিশ্বেরই মনোযোগ এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে, যা একই সঙ্গে সহজপ্রাপ্য, সাশ্রয়ী সর্বোপরি পরিবেশবান্ধব। সৌরবিদ্যুত, বায়ুবিদ্যুত, জলবিদ্যুত, সমুদ্র তরঙ্গ থেকে আহরিত বিদ্যুত, বায়োফুয়েল-এসবই বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির নানাবিধ উৎস হতে পারে। তবে এসবের মধ্যেও সবচেয়ে সুলভ ও সস্তা হলো সৌরবিদ্যুত। বাংলাদেশ গ্রীষ্মম-লীয় দেশ বিধায় এখানে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা অফুরন্ত। তবে দুঃখজনক হলো দীর্ঘদিন থেকে সরকারী-বেসরকারী নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তাদের মাথায় সৌরবিদ্যুত নিয়ে এক ধরনের চিন্তা-ভাবনা থাকলেও বাস্তবে এর অগ্রগতি খুব কমই লক্ষ্য করা যায়।

সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অন্তত ১০ ভাগ বিদ্যুত উৎপাদন হওয়ার কথা। সেই হিসেবে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা ৯ হাজার মেগাওয়াট হিসেবে ৯০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুত প্রয়োজন। বাস্তবে সোলার হাব সিস্টেম এবং মিনি গ্রিড মিলিয়ে পাওয়া যায় মাত্র ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুত। দক্ষিণাঞ্চলসহ কোন কোন অঞ্চলে ব্যক্তি উদ্যোগে ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুত জনপ্রিয় হলেও সরকারী-বেসরকারী ছোট-বড় উদ্যোগ নেই বললেই চলে। সুপরিসর পর্যায়ে সৌরবিদ্যুত প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্যতম একটি বড় বাধা হলো জমিপ্রাপ্তি ও অধিগ্রহণ। সে কারণে দেশীয় উদ্যোক্তারা সৌরবিদ্যুত উৎপাদনে আগ্রহ প্রায় হারিয়ে ফেলছে। তবে সম্প্রতি সরকার ব্যাপক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সারাদেশে ১০০ ইপিজেড তথা রফতানি প্রক্রিয়াজাত অঞ্চল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। বেসরকারী খাতও এগিয়ে এসেছে ইপিজেড নির্মাণে। এর জন্য মোট ৭৬ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এরই একটি অংশ চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে পড়ে থাকা ২ হাজার একর জমি। বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড সেখানে একটি সোলার পাওয়ার হাব তথা পার্ক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। সৌরবিদ্যুতের এই হাবটি হবে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সব রকম জ্বালানি তেল ও কয়লার দাম কম থাকায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সবিশেষ জোর দিচ্ছে এসব থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ওপর। পরিবেশবান্ধব নয় বিধায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে ঘরে বাইরে তীব্র আপত্তি থাকলেও একাধিক তাপবিদ্যুত কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশ অগ্রসর হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণেও। এতসব সত্ত্বেও দেশীয় ও বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় এবং সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিধায় আগামীতে আমাদের সবিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে নবায়নযোগ্য বিদ্যুত উৎপাদনে।