২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন কর্মসংস্থান

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ ত্রৈমাসিক জরিপের তথ্যমতে, গত এক বছরে দেশে মোট ৩৭ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে ১৩ লাখের। আগে মজুরি ব্যতিরেকে কাজ করতেন, এমন ১৪ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছেন মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানে। আর প্রবাসের কর্মসংস্থানে যোগ দিয়েছেন ১০ লাখ মানুষ। এছাড়া অর্থনীতি রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় কৃষি খাতে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমে বিপরীতে বেড়েছে শিল্প ও সেবা খাতের শ্রমশক্তির সংখ্যা। জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য এসবই হয়ত ইতিবাচক সংবাদ। তবে এতে আত্মপ্রসাদের কিছু নেই। দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। বর্তমানে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। বাস্তবে আরও বেশি বৈ কম নয়।

জাতীয় সংসদে পরিবেশিত এক তথ্যে জানা যায়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন পদে শূন্যপদের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৬১টি। অথচ দেশে উচ্চশিক্ষিত তথা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বেকারের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার। মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষমÑ বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আরও যা আশার কথা তা হলো, দিনে দিনে বাড়ছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা। ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা পৌঁছবে ৭০ শতাংশে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার এহেন অগ্রগতির খবর প্রকাশিত হয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর (ইউএনডিপি) প্রতিবেদনে। এতে জনসংখ্যার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগানোর মতো উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভিন্নধর্মী কাজ, কারিগরি দক্ষতা, সৃজনশীল জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ বাংলাদেশে গড়ে তুলতে হবে।

পরিকল্পিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের সুবাদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতোমধ্যে ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যে ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছে। বেড়েছে মাথাপিছু আয়। নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে ২০২৪ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে ধাবমান বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ শতাংশ অতিক্রম করা।

সেটা অতিক্রম করতে হলে ইউএনডিপি উল্লিখিত ৬৬ শতাংশ কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। অদক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করতে হবে দক্ষ জনশক্তিতে। জোর দিতে হবে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর। বাড়াতে হবে শিক্ষার মান। জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের দিকে নজর দিতে হবে। সর্বোপরি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জোর দিতে হবে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ওপর। বর্তমানে কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে বৈচিত্র্য ও বহুমুখিতা কম। সেক্ষেত্রে ধান-চালের পাশাপাশি কৃষির বহুমুখীকরণ তথা অর্থকরী ফসল উৎপাদনে মনোযোগী হতে হবে। ভারি ও বহুমুখী শিল্পায়ন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংক-বীমাসহ কারিগরি উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, মহাকাশ গবেষণা পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে দেশেই। একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী তৈরি বর্তমান সময়ের দাবি। পরিহার করতে হবে ধর্মীয় কূপম-ূকতা। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন এবং তা অব্যাহত রাখতে হলে সুশাসনসহ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।